
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

কোরআনের আলোকে সংবিধান রচনা করা যেতে পারে, তবে কোরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, কোরআনের কোনো আয়াত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, অন্যদিকে একটি সমাজের মানুষের চাহিদার সঙ্গে সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধনযোগ্য।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি সমাপনী বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আবদুর রাজ্জাকের দুই ছেলে, তার শুভানুধ্যায়ী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, যখন ‘কোরআন আমাদের সংবিধান’ স্লোগান উঠত, তখন তিনি আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সে সময় ভাইভা বোর্ডে তার এক শিক্ষক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমি কি মনে করো কোরআন আমাদের সংবিধান এটা একটা পারফেক্ট স্লোগান?’ জবাবে তিনি বলেছিলেন, এটি সঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘আমি কোরআনের আলোকে সংবিধান রচনা করতে পারি। কিন্তু কোরআনকে আমি সংবিধান হিসাবে মানা উচিত হবে না। কারণ কোরআনের একটা ভার্স আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। কিন্তু সংবিধান একটা সমাজের মানুষের চাহিদার সাথে পরিবর্তনশীল, সংশোধনযোগ্য। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমি সেই সময় ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট হিসেবে উত্তর দিয়েছিলাম। গভর্নমেন্ট অ্যান্ড পলিটিক্স-এর একটা সাবজেক্ট ছিল আমাদের ল-এ, সেই সময়।’
আবদুর রাজ্জাকের বইয়ে নিজের ওই ধারণার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন একটি আলোচনা পেয়েছেন জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, “রাজ্জাক সাহেবের বইয়ে এক্সাক্টলি এটার একটা আমি রিফ্লেকশন দেখলাম আজকে। সেখানে উনি বলেছেন, ‘আমরা উপর থেকে ইসলামিক শাসন কায়েম করে চাপিয়ে দেবো, সেটা একটা ভ্রান্ত নীতি। দিস ইজ এ ফ্যালাসি। বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গঠিত হোক, রাষ্ট্র পরিচালিত হোক— সেটাই হবে প্রকৃত ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের সঠিক পথ।’ উনার বইয়ে ঠিক এভাবেই বিষয়টা এসেছে, আমি দেখলাম। এক্সাক্টলি!”
তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাজ্জাক সাহেবের এই ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের চিন্তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু একটা মূল্যবোধের জায়গা থেকে, একটা রাষ্ট্রব্যবস্থার জায়গা থেকে আমার ধারণা— দিস ইজ দ্য কারেক্ট অ্যাপ্রোচ ফর এ জুরিস্ট। এই বইটা আমার কাছে সাহিত্য মনে হয়নি, এই বইটা গবেষণা-ধর্মী মনে হয়নি। এই বইটা একটি জীবন্ত একজন মানুষের, এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো মনে হয়েছে যে, রাজ্জাক সাহেব একটা সমাজকে তার জীবন দিয়ে যেভাবে দেখেছেন, তার জীবন-দর্শন যেভাবে ছিল, এই বইটা তার একটা ট্রু রিফ্লেকশন।’
অনুষ্ঠানে জামায়াতের আইনজীবী ও নেতৃত্বের পরিচিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করেছিলেন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে জামাতের কথা বলা হয়েছে। আজকে জামাতের যারা মেইনস্ট্রিমের আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বা আমাদের এই অঙ্গনে পরিচিত, জামাতের যারা লিডারশিপ— আমার প্রত্যাশা ছিল আজকের আলোচনায় তারা থাকবেন। তারা যে উপস্থিত হতে পারেননি, এটা তাদের দীনতা। এটা তাদের ব্যর্থতা, এটা তাদের সংকীর্ণতা, সীমাবদ্ধতা। তারা যদি উপস্থিত হতে পারতেন, রাজ্জাক সাহেবের বইয়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারতেন... কারণ দিস ইজ ডেমোক্রেসি।’
তিনি বলেন, ‘আপনি রাজ্জাক সাহেবের সব কথার সাথে একমত হবেন পার্টির মধ্যে, ফোরামে— এটা যেমন সত্যি না, বা তার সমালোচনাটাকে গ্রহণ করতে পারবেন না— এটাও সঠিক না। এই বইয়ের মধ্যে বিএনপিকে, বিএনপি সম্পর্কেও সমালোচনা করা হয়েছে। হুইচ ইজ ফাইন! উই হ্যাভ টু একসেপ্ট ইট। আমরা যদি এইটা ধারণ না করতে পারি, এই সমাজব্যবস্থা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না।’
এরপর ২০১৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে আবদুর রাজ্জাকের তৈরি করা একটি বিবৃতির খসড়ার প্রসঙ্গ তোলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে জাতির সামনে অবস্থান তুলে ধরতে রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে ওই খসড়া তৈরি করেছিলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট ড্রাফট (বিবৃতির খসড়া) করেছিলেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার জন্য। রাজ্জাক সাহেবের সেই স্টেটমেন্ট ২০১৬ সালে যদি স্বাক্ষর করা হতো, জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আবদুর রাজ্জাক একাত্তর নিয়ে যে মূল্যায়ন করেছিলেন, সে বিষয়ে তিনি জাতির কাছে একটি স্টেটমেন্ট দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তার দাবি, ওই স্টেটমেন্টের আলোকে জামায়াতের বর্তমান অবস্থান তৈরি হয়েছে।
বর্তমান জাতীয় সংসদে সংশোধিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন পাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আইনে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যারা ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, তৎকালীন আল বদর, তৎকালীন রাজাকার, তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী— এই তৎকালীন শব্দটা আগে ছিল না। আমরা আমাদের সংশোধনী এনেছি তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে।’
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আল-বদর, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী পার্টি— এদের বিরুদ্ধে যারা বিরোধিতা করেছেন, সংগ্রাম করেছেন দেশ স্বাধীনের জন্য, তারা হলেন মুক্তিযোদ্ধা। দাবি ছিল জামায়াতের নামটা ওখান থেকে বাদ দেওয়ার জন্য। আমরা বললাম, ঐতিহাসিক সত্যটাকে আমরা তো অস্বীকার করতে পারব না। আলোচনার একপর্যায়ে এসে ওখানে শুধু লেখা হলো তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন নেজামে ইসলাম।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংসদে যখন এই আইনটা প্লেসড হলো, আপনারা জানেন যে সংসদে আইন পাস করতে গেলে হ্যাঁ এবং না ভোট দিতে হয়। জামায়াতে ইসলামী এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এই সংশোধনীর ক্ষেত্রে কোনো না ভোট দেয়নি।’
এর ব্যাখ্যায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট ড্রাফট করেছিলেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার জন্য। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে জামায়াত পরোক্ষভাবে “না” ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরের সেই ভূমিকাকে কনসিড (স্বীকার) করল। এখানেই রাজ্জাক সাহেবের দূরদর্শিতা প্রকাশ পায়। এখানেই রাজ্জাক সাহেব অনন্য। এখানে রাজ্জাক সাহেব একটি জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এক ধাপ এগিয়ে দিয়ে গেছেন।’
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল থাকলেও নিজস্ব অবস্থানের কারণে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘রাজ্জাক সাহেব নিজেকে এমন একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যে কারণে তিনি এখনো প্রাসঙ্গিক। রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে যখন শেষ কথা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমার শেষ ইচ্ছা পূরণ করেন, বাংলাদেশের মাটিতে আমার যেন দাফন হয়। জুলাই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আল্লাহ রাজ্জাক সাহেবের সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন। তার এ বই আমাদের সবার অবশ্যপাঠ্য হয়ে উঠুক, যারা বিশেষ করে রাজনীতি করি তাদের জন্য।’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেই প্রতিক্রিয়াশীলতার জায়গা থেকেই আমরা দেশ পরিচালনা করতে গেলে আমাদের বুঝতে হবে যে, আমরা একটা নতুন জেনারেশনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, গোটা বিশ্বের মুখোমুখি করতে চাই।’
আবদুর রাজ্জাকের বইটির মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। বইটির ওপর আলোচনায় আইনমন্ত্রী ছাড়াও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আলী রীয়াজ, দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ অংশ নেন।

কোরআনের আলোকে সংবিধান রচনা করা যেতে পারে, তবে কোরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, কোরআনের কোনো আয়াত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, অন্যদিকে একটি সমাজের মানুষের চাহিদার সঙ্গে সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধনযোগ্য।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি সমাপনী বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আবদুর রাজ্জাকের দুই ছেলে, তার শুভানুধ্যায়ী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, যখন ‘কোরআন আমাদের সংবিধান’ স্লোগান উঠত, তখন তিনি আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সে সময় ভাইভা বোর্ডে তার এক শিক্ষক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমি কি মনে করো কোরআন আমাদের সংবিধান এটা একটা পারফেক্ট স্লোগান?’ জবাবে তিনি বলেছিলেন, এটি সঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘আমি কোরআনের আলোকে সংবিধান রচনা করতে পারি। কিন্তু কোরআনকে আমি সংবিধান হিসাবে মানা উচিত হবে না। কারণ কোরআনের একটা ভার্স আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। কিন্তু সংবিধান একটা সমাজের মানুষের চাহিদার সাথে পরিবর্তনশীল, সংশোধনযোগ্য। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমি সেই সময় ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট হিসেবে উত্তর দিয়েছিলাম। গভর্নমেন্ট অ্যান্ড পলিটিক্স-এর একটা সাবজেক্ট ছিল আমাদের ল-এ, সেই সময়।’
আবদুর রাজ্জাকের বইয়ে নিজের ওই ধারণার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন একটি আলোচনা পেয়েছেন জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, “রাজ্জাক সাহেবের বইয়ে এক্সাক্টলি এটার একটা আমি রিফ্লেকশন দেখলাম আজকে। সেখানে উনি বলেছেন, ‘আমরা উপর থেকে ইসলামিক শাসন কায়েম করে চাপিয়ে দেবো, সেটা একটা ভ্রান্ত নীতি। দিস ইজ এ ফ্যালাসি। বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গঠিত হোক, রাষ্ট্র পরিচালিত হোক— সেটাই হবে প্রকৃত ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের সঠিক পথ।’ উনার বইয়ে ঠিক এভাবেই বিষয়টা এসেছে, আমি দেখলাম। এক্সাক্টলি!”
তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাজ্জাক সাহেবের এই ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের চিন্তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু একটা মূল্যবোধের জায়গা থেকে, একটা রাষ্ট্রব্যবস্থার জায়গা থেকে আমার ধারণা— দিস ইজ দ্য কারেক্ট অ্যাপ্রোচ ফর এ জুরিস্ট। এই বইটা আমার কাছে সাহিত্য মনে হয়নি, এই বইটা গবেষণা-ধর্মী মনে হয়নি। এই বইটা একটি জীবন্ত একজন মানুষের, এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো মনে হয়েছে যে, রাজ্জাক সাহেব একটা সমাজকে তার জীবন দিয়ে যেভাবে দেখেছেন, তার জীবন-দর্শন যেভাবে ছিল, এই বইটা তার একটা ট্রু রিফ্লেকশন।’
অনুষ্ঠানে জামায়াতের আইনজীবী ও নেতৃত্বের পরিচিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করেছিলেন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে জামাতের কথা বলা হয়েছে। আজকে জামাতের যারা মেইনস্ট্রিমের আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বা আমাদের এই অঙ্গনে পরিচিত, জামাতের যারা লিডারশিপ— আমার প্রত্যাশা ছিল আজকের আলোচনায় তারা থাকবেন। তারা যে উপস্থিত হতে পারেননি, এটা তাদের দীনতা। এটা তাদের ব্যর্থতা, এটা তাদের সংকীর্ণতা, সীমাবদ্ধতা। তারা যদি উপস্থিত হতে পারতেন, রাজ্জাক সাহেবের বইয়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারতেন... কারণ দিস ইজ ডেমোক্রেসি।’
তিনি বলেন, ‘আপনি রাজ্জাক সাহেবের সব কথার সাথে একমত হবেন পার্টির মধ্যে, ফোরামে— এটা যেমন সত্যি না, বা তার সমালোচনাটাকে গ্রহণ করতে পারবেন না— এটাও সঠিক না। এই বইয়ের মধ্যে বিএনপিকে, বিএনপি সম্পর্কেও সমালোচনা করা হয়েছে। হুইচ ইজ ফাইন! উই হ্যাভ টু একসেপ্ট ইট। আমরা যদি এইটা ধারণ না করতে পারি, এই সমাজব্যবস্থা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না।’
এরপর ২০১৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে আবদুর রাজ্জাকের তৈরি করা একটি বিবৃতির খসড়ার প্রসঙ্গ তোলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে জাতির সামনে অবস্থান তুলে ধরতে রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে ওই খসড়া তৈরি করেছিলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট ড্রাফট (বিবৃতির খসড়া) করেছিলেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার জন্য। রাজ্জাক সাহেবের সেই স্টেটমেন্ট ২০১৬ সালে যদি স্বাক্ষর করা হতো, জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আবদুর রাজ্জাক একাত্তর নিয়ে যে মূল্যায়ন করেছিলেন, সে বিষয়ে তিনি জাতির কাছে একটি স্টেটমেন্ট দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তার দাবি, ওই স্টেটমেন্টের আলোকে জামায়াতের বর্তমান অবস্থান তৈরি হয়েছে।
বর্তমান জাতীয় সংসদে সংশোধিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন পাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আইনে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যারা ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, তৎকালীন আল বদর, তৎকালীন রাজাকার, তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী— এই তৎকালীন শব্দটা আগে ছিল না। আমরা আমাদের সংশোধনী এনেছি তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে।’
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আল-বদর, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী পার্টি— এদের বিরুদ্ধে যারা বিরোধিতা করেছেন, সংগ্রাম করেছেন দেশ স্বাধীনের জন্য, তারা হলেন মুক্তিযোদ্ধা। দাবি ছিল জামায়াতের নামটা ওখান থেকে বাদ দেওয়ার জন্য। আমরা বললাম, ঐতিহাসিক সত্যটাকে আমরা তো অস্বীকার করতে পারব না। আলোচনার একপর্যায়ে এসে ওখানে শুধু লেখা হলো তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন নেজামে ইসলাম।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংসদে যখন এই আইনটা প্লেসড হলো, আপনারা জানেন যে সংসদে আইন পাস করতে গেলে হ্যাঁ এবং না ভোট দিতে হয়। জামায়াতে ইসলামী এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এই সংশোধনীর ক্ষেত্রে কোনো না ভোট দেয়নি।’
এর ব্যাখ্যায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট ড্রাফট করেছিলেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার জন্য। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে জামায়াত পরোক্ষভাবে “না” ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরের সেই ভূমিকাকে কনসিড (স্বীকার) করল। এখানেই রাজ্জাক সাহেবের দূরদর্শিতা প্রকাশ পায়। এখানেই রাজ্জাক সাহেব অনন্য। এখানে রাজ্জাক সাহেব একটি জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এক ধাপ এগিয়ে দিয়ে গেছেন।’
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল থাকলেও নিজস্ব অবস্থানের কারণে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘রাজ্জাক সাহেব নিজেকে এমন একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যে কারণে তিনি এখনো প্রাসঙ্গিক। রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে যখন শেষ কথা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমার শেষ ইচ্ছা পূরণ করেন, বাংলাদেশের মাটিতে আমার যেন দাফন হয়। জুলাই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আল্লাহ রাজ্জাক সাহেবের সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন। তার এ বই আমাদের সবার অবশ্যপাঠ্য হয়ে উঠুক, যারা বিশেষ করে রাজনীতি করি তাদের জন্য।’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেই প্রতিক্রিয়াশীলতার জায়গা থেকেই আমরা দেশ পরিচালনা করতে গেলে আমাদের বুঝতে হবে যে, আমরা একটা নতুন জেনারেশনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, গোটা বিশ্বের মুখোমুখি করতে চাই।’
আবদুর রাজ্জাকের বইটির মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। বইটির ওপর আলোচনায় আইনমন্ত্রী ছাড়াও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আলী রীয়াজ, দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, সাংবাদিকদের নিজেদের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি।
১ দিন আগে
লেকগুলোর দূষণ কমাতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানান মো. সুজাউদ্দৌলা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও বাড়াতে বলেছেন।
১ দিন আগে
দলটি বলেছে, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৭৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক বিএসএফের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে বিএসএফ কর্তৃক ‘বিচারবহির্ভূতভাবে অব্যাহত সীমান্ত হত্যাকাণ্ড’ গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলেও উল্লেখ করেছে সিপিবি।
১ দিন আগে
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বহুমাত্রিক রূপরেখা নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও পর্যটনে সহযোগিতার ওপর আলোচনায় জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়
১ দিন আগে