
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘গুপ্ত’দের রাজপথের সে আন্দোলনে পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মধ্যে ‘মতভিন্নতা’ থাকলেও কোনো বিভেদ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। বলেছেন, শরিক এসব দলকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতেও এগিয়ে যেতে চান। দেশ ও জাতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা এতদিন একসঙ্গে ছিলাম। কেন কাউকে সরিয়ে দেবো? আমরা একসঙ্গেই থাকব। চলতে গেলে এদিক-ওদিক হতেই পারে। কেউ একজন বলেছেন, এটা ফেয়ারওয়েল ডিনার কি না। কেন ফেয়ারওয়েল হবে? ফেয়ারওয়েল ডিনার যদি দিতে হয়, গুপ্ত-সুপ্তদের বলতে পারি, স্বৈরাচারকে বলতে পারি। কিন্তু আমরা যারা ছিলাম, আমরা ইনশাল্লাহ একসঙ্গে থাকব।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম শরিক দলগুলোর সঙ্গে বসলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, আমরা একসঙ্গে আছি, আমরা একসঙ্গে ছিলাম, ইনশল্লাহ আমরা ভবিষ্যতেও একসঙ্গে থাকব। আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা (ডিফারেন্স অব অপিনিয়ন) হতে পারে, কিন্তু ভুল বুঝাবুঝির কোনো কারণ আমাদের মধ্যে আছে বলে মনে করি না। ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা একটি জায়গায় একত্রিত হয়েছি।
৩১ দফাকে শরিক দলগুলোর মেলবন্ধনের সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এক— ৩১ দফা। এর মধ্যে কোনো একটি দফা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। আর আমাদের মধ্যে যেহেতু কোনো বিভেদ নেই, তাহলে ৩১ দফা ও জুলাই সনাদের আলোকে আমরা ইনশআল্লাহ দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের রাজপথের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যাদের একটি শব্দ ‘গুপ্ত’ ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষও চেনে, এদের কিন্তু ওই সময়ে আমরা অনেক খুঁজেছি। কিন্তু তাদের আমরা পাইনি। আমি পাইনি দূরে থেকে, আপনারা কি কেউ তাদের পেয়েছিলেন রাজপথে?
তিনি বলেন, তাদের কিন্তু রাজপথে আমরা দেখিনি। যারা পালিয়ে গেছে এই দেশ থেকে, তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে দেখেছি, রাজপথে দেখেনি। শেষের দিকে কিছু কিছু জায়গায় তাদের দেখেছি। কিন্তু ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় আমরা তাদের দেখিনি। সে জন্যই দেশের মানুষ আমাদের ওপরেই আস্থা রেখেছে এই ভেবে— এরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

মানুষের এই আস্থার প্রতিদান দিতে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমাদের যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। কারণ জনগণের প্রত্যাশা আমাদের কাছে। জনগণ প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। আসুন, আগে আমরা দায়িত্বটা পালন করি। তারপর আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবি।
প্রধানমন্ত্রীর তার বক্তব্যের সূচনায় দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে নেওয়া যুগপৎ আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন। বলেন, ওই সময় থেকেই বিএনপি ও শরিকরা ৩১ দফার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। কিন্তু এখন যারা সংস্কার নিয়ে বেশি কথা বলছে, তারা ওই সময় এ নিয়ে কিছুই বলেনি।
তারেক রহমান বলেন, ৩১ দফার মাধ্যমে রাষ্ট্র মেরামতের যে দফাগুলো আমরা উপস্থাপন করেছিলাম সেটিকে আমরা সংস্কারই বলি। তখন বাংলাদেশের অন্য অনেক রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন ব্যক্তি, পরে বিভিন্ন পর্যায়ে যারা সংস্কার নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছেন, এই মানুষগুলোকে বা এই রাজনৈতিক দলগুলোকে তখন সংস্কারের ‘স’ বলতে দেখিনি। কিন্তু আজ আমরা এই প্যান্ডেলের নিচে যারা বসে আছি, আমরা তখন স্বৈরাচারের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্র সংস্কারের দফাগুলো দিয়েছিলাম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘গুপ্তবাহিনী’ আত্মপ্রকাশ করে এবং ‘স্বৈরাচারি ডিজিটাল কায়দা’য় জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তবে তাতে জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যখনই স্বাধীনভাবে তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তারা সবসময় দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনো ভুল করেনি। ১২ তারিখের (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনেও তারা সেটিই করেছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ‘গুপ্ত’ দল অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে বলেও জানান তারেক রহমান। বলেন, ওই সরকারের একজন উপদেষ্টা তাকে কথাপ্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, ওই দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার ‘অসহায়’ ছিল। ওই সরকারে ৬০ শতাংশের বেশি ‘গুপ্ত বাহিনী’র প্রভাব ছিল। নির্বাচনের পর জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনলে ‘গুপ্তদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার গঠনের পর প্রথমবার শরিকদের সঙ্গে বসতে পাঁচ মাস সময় লেগে যাওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বলেন, অনেকদিন বসার সুযোগ হয়নি, সেজন্য আজকে এই আয়োজনটি করেছি। মুরুব্বিরা যা বলেছেন সবকিছু মেনে নিয়ে আমি দুঃখপ্রকাশ করছি। খুব সম্ভবত মান্না ভাই (মাহমুদুর রহমান মান্না) উনার বক্তব্যে বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি, জনগণের প্রত্যাশাটাকে আগে আমরা অ্যাড্রেস করি।
সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে তাকে রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনার অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। এ সময় তিনি টেবিলে টেবিলে গিয়ে শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কুশল বিনিময় শেষে সবার সঙ্গে নৈশভোজ করেন।

কোরআন থেকে তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক সাইফুল হক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী বুফেতে দাঁড়িয়ে শরিক নেতাদের সঙ্গে খাবার নেন এবং তাদের সঙ্গে এক টেবিলে বসেই নৈশভোজ সারেন। নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু ছিলেন এ টেবিলে।
শরিক নেতাদের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সহসভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান ও আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘গুপ্ত’দের রাজপথের সে আন্দোলনে পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মধ্যে ‘মতভিন্নতা’ থাকলেও কোনো বিভেদ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। বলেছেন, শরিক এসব দলকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতেও এগিয়ে যেতে চান। দেশ ও জাতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা এতদিন একসঙ্গে ছিলাম। কেন কাউকে সরিয়ে দেবো? আমরা একসঙ্গেই থাকব। চলতে গেলে এদিক-ওদিক হতেই পারে। কেউ একজন বলেছেন, এটা ফেয়ারওয়েল ডিনার কি না। কেন ফেয়ারওয়েল হবে? ফেয়ারওয়েল ডিনার যদি দিতে হয়, গুপ্ত-সুপ্তদের বলতে পারি, স্বৈরাচারকে বলতে পারি। কিন্তু আমরা যারা ছিলাম, আমরা ইনশাল্লাহ একসঙ্গে থাকব।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম শরিক দলগুলোর সঙ্গে বসলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, আমরা একসঙ্গে আছি, আমরা একসঙ্গে ছিলাম, ইনশল্লাহ আমরা ভবিষ্যতেও একসঙ্গে থাকব। আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা (ডিফারেন্স অব অপিনিয়ন) হতে পারে, কিন্তু ভুল বুঝাবুঝির কোনো কারণ আমাদের মধ্যে আছে বলে মনে করি না। ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা একটি জায়গায় একত্রিত হয়েছি।
৩১ দফাকে শরিক দলগুলোর মেলবন্ধনের সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এক— ৩১ দফা। এর মধ্যে কোনো একটি দফা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। আর আমাদের মধ্যে যেহেতু কোনো বিভেদ নেই, তাহলে ৩১ দফা ও জুলাই সনাদের আলোকে আমরা ইনশআল্লাহ দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের রাজপথের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যাদের একটি শব্দ ‘গুপ্ত’ ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষও চেনে, এদের কিন্তু ওই সময়ে আমরা অনেক খুঁজেছি। কিন্তু তাদের আমরা পাইনি। আমি পাইনি দূরে থেকে, আপনারা কি কেউ তাদের পেয়েছিলেন রাজপথে?
তিনি বলেন, তাদের কিন্তু রাজপথে আমরা দেখিনি। যারা পালিয়ে গেছে এই দেশ থেকে, তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে দেখেছি, রাজপথে দেখেনি। শেষের দিকে কিছু কিছু জায়গায় তাদের দেখেছি। কিন্তু ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় আমরা তাদের দেখিনি। সে জন্যই দেশের মানুষ আমাদের ওপরেই আস্থা রেখেছে এই ভেবে— এরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

মানুষের এই আস্থার প্রতিদান দিতে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমাদের যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। কারণ জনগণের প্রত্যাশা আমাদের কাছে। জনগণ প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। আসুন, আগে আমরা দায়িত্বটা পালন করি। তারপর আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবি।
প্রধানমন্ত্রীর তার বক্তব্যের সূচনায় দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে নেওয়া যুগপৎ আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন। বলেন, ওই সময় থেকেই বিএনপি ও শরিকরা ৩১ দফার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। কিন্তু এখন যারা সংস্কার নিয়ে বেশি কথা বলছে, তারা ওই সময় এ নিয়ে কিছুই বলেনি।
তারেক রহমান বলেন, ৩১ দফার মাধ্যমে রাষ্ট্র মেরামতের যে দফাগুলো আমরা উপস্থাপন করেছিলাম সেটিকে আমরা সংস্কারই বলি। তখন বাংলাদেশের অন্য অনেক রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন ব্যক্তি, পরে বিভিন্ন পর্যায়ে যারা সংস্কার নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছেন, এই মানুষগুলোকে বা এই রাজনৈতিক দলগুলোকে তখন সংস্কারের ‘স’ বলতে দেখিনি। কিন্তু আজ আমরা এই প্যান্ডেলের নিচে যারা বসে আছি, আমরা তখন স্বৈরাচারের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্র সংস্কারের দফাগুলো দিয়েছিলাম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘গুপ্তবাহিনী’ আত্মপ্রকাশ করে এবং ‘স্বৈরাচারি ডিজিটাল কায়দা’য় জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তবে তাতে জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যখনই স্বাধীনভাবে তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তারা সবসময় দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনো ভুল করেনি। ১২ তারিখের (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনেও তারা সেটিই করেছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ‘গুপ্ত’ দল অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে বলেও জানান তারেক রহমান। বলেন, ওই সরকারের একজন উপদেষ্টা তাকে কথাপ্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, ওই দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার ‘অসহায়’ ছিল। ওই সরকারে ৬০ শতাংশের বেশি ‘গুপ্ত বাহিনী’র প্রভাব ছিল। নির্বাচনের পর জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনলে ‘গুপ্তদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার গঠনের পর প্রথমবার শরিকদের সঙ্গে বসতে পাঁচ মাস সময় লেগে যাওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বলেন, অনেকদিন বসার সুযোগ হয়নি, সেজন্য আজকে এই আয়োজনটি করেছি। মুরুব্বিরা যা বলেছেন সবকিছু মেনে নিয়ে আমি দুঃখপ্রকাশ করছি। খুব সম্ভবত মান্না ভাই (মাহমুদুর রহমান মান্না) উনার বক্তব্যে বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি, জনগণের প্রত্যাশাটাকে আগে আমরা অ্যাড্রেস করি।
সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে তাকে রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনার অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। এ সময় তিনি টেবিলে টেবিলে গিয়ে শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কুশল বিনিময় শেষে সবার সঙ্গে নৈশভোজ করেন।

কোরআন থেকে তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক সাইফুল হক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী বুফেতে দাঁড়িয়ে শরিক নেতাদের সঙ্গে খাবার নেন এবং তাদের সঙ্গে এক টেবিলে বসেই নৈশভোজ সারেন। নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু ছিলেন এ টেবিলে।
শরিক নেতাদের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সহসভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান ও আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘গণভোট না মানলে এই সরকার অবৈধ হয়ে যায়, এটা সরকারকে বুঝতে হবে। আর গণভোট ব্যর্থ হলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।’
৩ দিন আগে
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণঅভুত্থানের সময় আমাদের একটা স্লোগান ছিল— নাটক কম করো প্রিয়। তারেক রহমানকে বলে দিচ্ছি, ‘তারেক রহমান, নাটক কম করেন প্রিয়। বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে মানে এই নয় যে আপনি যা খুশি করবেন, যেরকম খুশি ছলনা-প্রতারণা এদেশের জনগণের সঙ্গে করবেন।’
৩ দিন আগেকার্যক্রমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। এবার দলটির পদধারী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগও বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
৩ দিন আগে
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘কোনো ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের পর তাকে আবার ক্ষমতা বা রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে রাজনীতি করতে চাইলে তা জনগণ মেনে নেবে না।’
৪ দিন আগে