প্রত্যর্পণ ইস্যু অমীমাংসিত রেখেই কি এগোবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক?

নাজমুল ইসলাম হৃদয়
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু পাশে রেখেই বাংলাদেশ ও ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গ্রাফিক্স: রাজনীতি ডটকম

গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে ঘটনাপ্রবাহ দেখা গেছে, তা একের পর এক এমনভাবে সাজানো যে একে নিছক কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি থেকে জনসমক্ষে বক্তব্য, তারপর ভারতীয় হাইকমিশনারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত একের পর এক সাক্ষাৎ, মাঝে ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধানের নীরব ঢাকা সফর এবং সবশেষে নয়াদিল্লিতে ফিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠক— এই পুরো পর্বটি মাত্র সাত দিনের মধ্যে ঘটেছে।

সামান্য সময়ের এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়েই ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— সম্পর্কের গতিপথ আসলে কোন দিকে বাঁক নিচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ বলছে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও একই সময়ে চলমান কূটনৈতিক, গোয়েন্দা ও শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ের যোগাযোগ— এই দুটি স্রোত পাশাপাশি বহমান থাকাই এখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।

অর্থাৎ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু প্রত্যর্পণকে আলাদা রেখে বাকি ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার একটি সতর্ক কৌশল— এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নতুন কূটনৈতিক গতিপথের এটিই সবচেয়ে স্পষ্ট চিহ্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সি ফয়েজ আহমেদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘নির্বাসনে থাকা কোনো রাজনীতিক পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকবেন— এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। আশ্রয়দাতা দেশ ইচ্ছা করলে সুযোগ দিতেও পারে। তবে বর্তমান ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক ভালো থাকলে কে কী বলছে, তা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী দুই দেশের মধ্যে এ যোগাযোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেছেন, ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ খুবই পজিটিভ একটি বিষয়। কারণ দূরত্ব কমানো দুই দেশের জন্যই মঙ্গলজনক।

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিন ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য ঘিরে। দুই বছরের নীরবতা ভেঙে সেদিন নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন শেখ হাসিনা।

মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে সংগঠনটির সভাপতি ওয়ায়েল আউয়াদের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা অডিওর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন, ক্যামেরায় নিজেকে দেখাননি। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশ নেন তিনি। পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, যিনি প্রশ্নোত্তর পর্বের একটি বড় অংশ সামলান।

বক্তব্যে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের মতোই শেখ হাসিনা নির্দিষ্ট তারিখ না জানিয়ে এ বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার বা কারাবরণের আশঙ্কা থাকলেও তিনি ফিরতে চান।

গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন শেখ হাসিনাকে। সেই রায়কে তিনি ‘আইনি মোড়কে রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ বলে আখ্যা দেন। ভারতের পক্ষ থেকে দেশে ফেরার বিষয়ে তার ওপর কোনো চাপ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ‘সুপরিকল্পিত’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে পালটা প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। আর ক্ষমা চাওয়ার দাবির জবাবে সজীব ওয়াজেদ জয় পালটা প্রশ্ন রাখেন— একতরফাভাবে কেন কেবল তাদের কাছেই ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করা হচ্ছে।

এ অনুষ্ঠানের কথা জানাজানি হতেই কূটনৈতিক চ্যানেলে সরব হয়ে ওঠে ঢাকা। শেখ হাসিনার বক্তব্য ঠেকাতে অনুরোধ জানানো হয় ভারতকে। তবে অনুষ্ঠানের আগের দিন ৪ আগস্ট নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন, এটি একটি বেসরকারি সংগঠনের আয়োজন, এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সেখানে প্রকাশিত মতামতকে সরকার সমর্থনও করে না।

সরকারের পক্ষ থেকে দৃষ্টি আকর্ষণের পরও শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারিত হলে রাতেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায়। মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে ভারতের মাটিতে এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাইয়ের শহিদদের প্রতি অপমান। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করে ইতিহাস মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদে ফিরবে না এবং কোনো পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হবে না— সে সংকল্পের কথাও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। পরদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ভারত সরকার কেন শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দিয়েছে, সেটাই তাদের প্রশ্ন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও একই অবস্থানের কথা জানান।

তবে বাস্তবতা হলো— শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্ককে থামিয়ে দেয়নি। বরং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের চার দিনের মাথায়ই দেখা যায়— দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের মাত্রা কমার বদলে বেড়েছে, যা সম্পর্কের বদলে যাওয়া প্রকৃতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত।

৯ আগস্ট রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পরদিন সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি, যেখানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সাক্ষাতে ত্রিবেদী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ওই বৈঠকের পরই পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন ভারতীয় দূত। এরপর দিল্লি ফিরে গিয়ে পরদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।

দ্বিপাক্ষিক এ ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জানতে চাইলে চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সিঙ্গাপুরে সাবেক হাইকমিশনার মুন্সি ফয়েজ আহমদের অভিমত, হাইকমিশনারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ স্বাভাবিক কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ।

মুন্সি ফয়েজ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘সব ঘটনাকে একেসঙ্গে কানেক্টে করা ঠিক হবে না। ওই সবকিছু একটার সঙ্গে একটা কানেক্ট করতে যাওয়াটাই আমি মনে করি ভুল। শেখ হাসিনার ভাষণের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না।’

বিআইআইএসএসের সাবেক এই চেয়ারম্যানের যুক্তি, নির্বাসনে থাকা কোনো রাজনীতিক পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকবেন, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তবে বর্তমান ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক ভালো থাকলে কে কী বলছে, তা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়তি উদ্বেগ বরং দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে দেয়।

এর বদলে সরাসরি আপত্তি জানিয়ে সহযোগিতার সুযোগগুলো এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন মুন্সি ফয়েজ। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে বিমসটেকের মতো ফোরামে গিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি জানাতে পারেন যে এ ধরনের ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি বিদ্যমান বিশাল সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথাও বলতে পারেন। সেই সুযোগটা না নিয়ে যদি আমরা অপেক্ষা করি, ক্ষতিটা কার হবে সেটা সবাই চিন্তা করে বুঝতে পারবে।’

সাবেক এই রাষ্ট্রদূত স্বীকার করেন, ঘটনাগুলো কাছাকাছি সময়ে ঘটে যাওয়ায় চলমান যোগাযোগগুলোতে তার প্রতিফলন থাকা স্বাভাবিক। তবে এগুলোর মধ্যে সম্পর্ক থাকবেই, এমনটি মনে করেন না তিনি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরীর মূল্যায়ন কিছুটা ভিন্ন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগকে স্বাভাবিক অভিহিত করে রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, এর মধ্যে কোনো অসঙ্গতি দেখি না।

সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও ভারতের বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত মাসিক বা বিকল্প মাসিক আলোচনার সঙ্গে তুলনা করে ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘একইভাবে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যেও এমন যোগাযোগ আরও ঘন ঘন হওয়া দরকার, যেন উভয়ের উদ্বেগ আলোচনার মধ্য দিয়ে মেটানো যায়।’

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকে ‘ভেরি পজিটিভ’ অভিহিত করে এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, ‘দূরত্ব কমানো দুই দেশের জন্যই মঙ্গলজনক। কারণ দুই দেশের অর্থনীতি একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল— ভারত বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, বাংলাদেশে তাদের যথেষ্ট বিনিয়োগও রয়েছে।’

গঙ্গার পানিচুক্তি নবায়ন, অমীমাংসিত তিস্তা ইস্যু ও দুই দেশের মধ্যে থাকা ৪৮টি অভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনাকে আগামী দিনের জন্য দুই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হিসেবে দেখছেন ইশফাক ইলাহী চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এখনো চূড়ান্ত না হলেও তিনি মনে করেন, শিগগিরই তা চূড়ান্ত হবে এবং বিভিন্ন ফোরামে আলোচনার মধ্য দিয়ে ভুল বোঝাবুঝি দূর হবে। জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোকেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

দুই বছর পর শেখ হাসিনার এক অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেওয়া প্রসঙ্গে ইশফাক ইলাহী রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘টানাপোড়েন তো হয়েছে। বাংলাদেশ তো পরিষ্কারভাবে কতগুলো ভিউ পয়েন্ট দিয়েছে এবং বলেছে। ভাষণ নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল, তার আগেই বাংলাদেশ প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছিল।’

শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া বা প্রত্যর্পণ ইস্যুটি ভবিষ্যতে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে— এমন ধারণার কথা জানিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এই এয়ার কমোডোর বলেন, ‘এটি কাকতালীয় নয়। যেহেতু ঘটনাটি ঘটে গেছে, সে কারণেই এটি আলোচনার টেবিলে উঠে আসতে পারে।’

এদিকে এই সময়ের মধ্যেই নীরবে ঢাকা সফর করে যান ভারতের ‘র’-প্রধান পরাগ জৈন। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, তার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ৯ আগস্ট বিকেলে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) আমন্ত্রণে।

ভারতীয় ওই দলে ছিলেন অশ্বিন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি ও শৈবাল রায় চৌধুরী। গত সোমবার সকালে গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে ও পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে এই দলের বৈঠক হয়। কোনো পক্ষই এ সফরের কথা আগে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা কর্মকর্তারাই কেবল বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

১১ আগস্ট সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ‘র’ প্রধানের সফরকে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ বলে অভিহিত করেন এবং জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে ফেরত চায় বাংলাদেশ।

উপদেষ্টার এ বক্তব্য মুন্সি ফয়েজ আহমেদের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যিনি গোয়েন্দা সফরকে পূর্বপরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বলে বর্ণনা করেছিলেন। অন্যদিকে ইশফাক ইলাহী চৌধুরীর বিশ্লেষণ, এ সফর প্রমাণ করে যে দুই দেশ স্পর্শকাতর ইস্যুতে বিরোধ থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা সহযোগিতার চ্যানেল সচল রাখতে আগ্রহী। বিশ্লেষকদের এই দ্বিমুখী পাঠই আসলে বর্তমান সম্পর্কের জটিল প্রকৃতিটি তুলে ধরে।

এই পুরো পর্বের সমাপ্তি ঘটে নয়াদিল্লিতে। ঢাকায় তিনটি বৈঠক শেষে সোমবার নয়াদিল্লি ফিরে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। কূটনৈতিক সূত্র বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে জানায়, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

ভারতীয় হাইকমিশনও ওই বৈঠকের কথা উল্লেখ করে জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা চেয়েছেন হাইকমিশনার। একই দিন মুখপাত্র জয়সওয়াল জানান, দ্বিপাক্ষিক সফর ও নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ একটি জটিল ছবি তুলে ধরে, আর সেই জটিলতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সম্পর্কের নতুন গতিপথের আসল চরিত্র। একদিকে শেখ হাসিনার বক্তব্য ও তার দেশে ফেরার ঘোষণা সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গাটিকে বারবার সামনে টেনে আনছে; অন্যদিকে প্রায় একই সময়ে কূটনৈতিক, গোয়েন্দা ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব পর্যায়ে যোগাযোগ থেমে না থেকে বরং বেড়েছে।

চলমান ঘটনাপ্রবাহ ও দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে মুন্সি ফয়েজ ও ইশফাক ইলাহী দুজনেই বলছেন— প্রত্যর্পণ ইস্যু অমীমাংসিত থাকা অবস্থাতেই দুই সরকার সম্পর্কের বাকি অংশ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কও সে গতিপথ ধরেই এগিয়ে যাবে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ, বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে?

ফখরুলের বিদায়ে বিএনপির মহাসচিবের পদটি শূন্য হচ্ছে। এখন প্রশ্ন, তার জায়গায় কে আসছেন? আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হবেন, সেই সিদ্ধান্তও হয়নি। তবে দলের গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

২০ ঘণ্টা আগে

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দিল বিএনপি

‘ঘোষণা ও বিবৃতিসহ’ বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সই, প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম, ঠিকানা, সই সম্বলিত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার।

২১ ঘণ্টা আগে

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়ে মন্ত্রিত্ব ও দলের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

১ দিন আগে

জল্পনার অবসান, মির্জা ফখরুলই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলামকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেন তারেক রহমান। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ বৈঠক শুরু হয়।

১ দিন আগে