রাজপথে ‘ফ্যাসিস্টের ভাষা’য় হুমকি দেওয়া হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৪২
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

রাজপথে এখনো আগের মতোই ‘গণতন্ত্রের পরিপন্থি’ আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, রাজপথে আওয়ামী আমলের মতোই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হাসিনার মতো ভাষায় কথা বলা হচ্ছে। তিন-চার মাস না যেতেই আমরা রাস্তায় নেমে গেছি। সরকারকে ব্যর্থ বলে তাকে পাঁচ বছর যেতে দেবো না বলছি— এগুলো ফ্যাসিস্টের ভাষা। এগুলো গণতন্ত্রের পরিপন্থি।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবাদমাধ্যমকে নিজস্ব শক্তিতে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। বলেন, সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরতে হবে। তবে দেশের সংবাদমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো ও আর্থিক বাস্তবতা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পথে বড় বাধা। গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ লোন নিচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। তারা সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন। ফলে সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশে সংকোচ তৈরি হয়।

সরকার গণমাধ্যমকে কোনো চাপ দিচ্ছে না দাবি করে মির্জা ফখরুল অনেক ক্ষেত্রেই গণমাধ্যমকে সেলফ সেন্সরশিপের জন্য দায়ী করেন। বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে এখন কোনো চাপ নেই। কিন্তু অনেক সংবাদকর্মী নিজেরাই আত্মনিয়ন্ত্রণ বা আত্মসংযমের পথে হাঁটেন। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সত্য প্রকাশের সাহস দেখাতে হবে।

গণমাধ্যমের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অনেক সাংবাদিককে কোনো নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়, ন্যূনতম বেতন বা চাকরির নিরাপত্তাও অনেক ক্ষেত্রে নেই। অথচ এসব বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদ খুব কমই দেখা যায়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে সাংবাদিক ও মালিকদের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এই সময়ের নতুন বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। এ বিষয়টিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। একটি ছোট ভিডিও বা বিভ্রান্তিকর তথ্য মুহূর্তের মধ্যে একজন মানুষের দীর্ঘদিনের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করছে। বাংলাদেশেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সবাই চাই চমৎকার একটি গণমাধ্যম থাকবে, আলোচনা-সমালোচনা সবই হবে। তবে টকশোতে আলোচনা শুনলে মনে হয়, সরকার চরম ব্যর্থ, দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে গণতন্ত্র শব্দটি যায় না বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে গণতন্ত্র যায় না। আওয়ামী লীগ মুখে বলেছে গণতন্ত্র, কিন্তু কাজ করেছে উলটো। শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের নাম বলে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংস করে দিয়েছে।

বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে সরকারের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য বলেন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যেভাবে বিশৃঙ্খলা করা হয়েছে তাকে কোনোভাবেই গণতন্ত্র বলা যায় না। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারকে ব্যর্থ আখ্যা দেওয়া বা ক্ষমতা ছাড়ার দাবি তোলা গণতান্ত্রিক আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাস্তায় নেমে চাপ সৃষ্টি বা ‘মব’ তৈরির সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। দাবি নিয়ে সংসদে এসে কথা বলেন।

টেকসই গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সময় ও শ্রম দিতে হয় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নির্বাচন বা সরকার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীলতা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। গণতন্ত্র এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ইচ্ছা ও মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় এবং তা অবশ্যই নিয়মভিত্তিক হতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, গণতন্ত্র কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি একটি সংস্কৃতি। মানুষের চিন্তা, আচরণ ও রাজনৈতিক চর্চার প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে। তা না হলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। একভাবে চিন্তা করে অন্যভাবে কাজ করলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না।

ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো ভিন্নমতকে সম্মান করা। নিজের সঙ্গে মতের মিল না থাকলেও অন্যের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়লে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সরকার, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল ও সমাজের সব অংশকে আরও ধৈর্যশীল ও সহনশীল হতে হবে।

গণতন্ত্রের জন্য নিরবচ্ছিন্ন চর্চার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, টেকসই গণতন্ত্রের জন্য পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে হাজার বছর লেগেছে। কিন্তু আমরা অস্থির। শক্তিশালী গণমাধ্যম ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ধৈর্য ও গণতান্ত্রিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটি স্থিতিশীল ও টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

বর্তমান সরকার একটি রূপান্তরকালীন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের নানা অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলোর সমাধানে সময় প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

‘খাই খাই’ বন্ধ করেন, মনে হয় দলটা খেয়ে ফেলবেন— বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক

রফিকুল ইসলাম জামাল লিখেছেন, ঝালকাঠির বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের খাই খাই বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি। ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন— আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাহারার বিনিময় খেয়েছেন, আওয়ামীদের পক্ষে ওকলাতি করে খেয়েছেন, আওয়ামীদের বাড়িঘর পাহারা দিয়ে খেয়েছেন, ঠিকাদারি পাহারা দিয়ে খেয়েছেন।

৫ ঘণ্টা আগে

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ‘লং মার্চ’, নভেম্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ‘মহাসমাবেশ’

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে চারটি বিভাগীয় শহরে ‘লং মার্চ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। লং মার্চ কর্মসূচি শেষে আগামী নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে জোটটি।

১ দিন আগে

শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দিয়ে জুলাই শহিদদের অসম্মান করেছে ভারত: রিজভী

আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ অভিযোগ করেন তিনি।

১ দিন আগে

পল্টনে ১১ দলীয় জোটের অবস্থান কর্মসূচি

রাজধানীর পল্টনের এ কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

১ দিন আগে