ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকারের কার্যালয় 'খুলতে দেবে না' হেফাজত

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৫, ০৯: ৪৩

বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের (এইচআরসি) কার্যালয় খোলার উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সংগঠনটির আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় খুলতে দেওয়া হবে না।

হেফাজতে ইসলামের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে ঢাকায় জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আমির বক্তব‍্য রাখেন।

গত ২৯ জুন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ঢাকায় তিন বছরের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের (এইচআরসি) একটি মিশন অফিস চালু করার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকেও (এমওইউ) অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

হেফাজতের আমির বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যার সামাজিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় কাঠামো ইসলামী মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই দেশের সংস্কৃতি, পরিবারব্যবস্থা, নৈতিক রীতিনীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখা আমাদের ধর্মীয় ও নাগরিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে কার্যালয় স্থাপনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করছি।

শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবাধিকারের নামে ইসলামি শরিয়াহ, পারিবারিক আইন ও ধর্মীয় মূল্যবোধে হস্তক্ষেপের অপচেষ্টা করেছে। এসব হস্তক্ষেপ একদিকে যেমন জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত, অন্যদিকে মুসলিম সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিরও পরিপন্থি। তাই বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় খুলতে দেওয়া হবে না।

শাপলা চত্বরের ঘটনা, চব্বিশের ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দেশব্যাপী দোয়া-মাহফিল ও আলোচনা সভার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। হেফাজত আমির এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।

একই অনুষ্ঠানে হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, মানবাধিকারের নামে যদি ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোতে বিদেশি সংস্কৃতির চাপানো নিয়ম চালু করার চেষ্টা করা হয়, তবে ইমানদার জনতা তা কখনো মেনে নেবে না।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হেফাজত মহাসচিব বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে রক্ষার স্বার্থে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন এবং বিদেশি দূত নিযুক্তির চুক্তি বাতিল করুন।

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের কার্যালয় ঠেকাতে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দেন যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন ও স্বাধীন বাংলাদেশ গঠন, যেখানে কোনো বিদেশি আধিপত্য থাকবে না, থাকবে না রাজনৈতিক নিপীড়ন। এই শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের উচিত ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করা। ব্যর্থ হলে ইতিহাস ও জনতার কাঠগড়ায় তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

হেফাজতের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব জুনাইদ আল হাবিবের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নায়েবে আমির আবদুল হামিদ, মাহফুজুল হক, মহিউদ্দিন রাব্বানী, আহমদ আলী কাসেমী, খুরশিদ আলম কাসেমী, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মনির হোসাইন কাসেমী, খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, আতাউল্লাহ আমিন ও আজহারুল ইসলামসহ অন্যরা।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর

তিতুমীর বলেন, দেশে মোট গ্যাসের চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফটি)। বর্তমানে সরবরাহ রয়েছে ২৬শ থেকে ২৭শ এমএমসিএফটি। এর মধ্যে ১৬শ এমএমসিএফটি আসে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং এলএনজি থেকে পাওয়া যায় ১ হাজার এমএমসিএফটি।

১ দিন আগে

সঠিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর— ‘আত্মবিশ্বাসী’ ভারতীয় দূত

দুই দেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের ইচ্ছা একই, তা হলো সত্যিকারের ভালো প্রতিবেশী হিসেবে থাকা। আমরা সবসময় বলি, কেবল বর্ডার শেয়ার করি না, শেয়ার করি একই স্বপ্ন। দুটো দেশই স্বাধীন, সার্বভৌম ও প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

১ দিন আগে

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় অর্থনীতি-অবকাঠামো-ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ: প্রধানমন্ত্রী

সাক্ষাতে সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

১ দিন আগে

‘সুসময়ের চূড়া’য় বসেও যে ৫ চ্যালেঞ্জ জামায়াতের সামনে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চ্যালেঞ্জগুলো একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। ঐতিহাসিক ভাবমূর্তি সংকট দলটির আদর্শিক অবস্থানকে অস্পষ্ট করে তুলেছে। সে অস্পষ্টতা তাদের মাঠের রাজনীতিকেই কেবল নয়, জোটগত রাজনীতিকেও কঠিন করেছে। এর সূত্র ধরেই ভাঙনের মুখেও রয়েছে তাদের নেতৃত্বাধীন জোট।

২ দিন আগে
Advertisement