মাদুরোর সাথে বন্দি স্ত্রী সিলিয়াও: কে এই ভেনেজুয়েলীয় ‘ফার্স্ট লেডি’?

নাজমুল ইসলাম হৃদয়
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭: ২৫
ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর আকস্মিক এক নৈশ অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই অভিযানে মাদুরো একা বন্দি হয়নি, তার সঙ্গে বন্দি হয়েছেন তার স্ত্রী ও দেশটির ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসও।

৬৯ বছর বয়সী সিলিয়া ফ্লোরেসকে দীর্ঘকাল ধরে ভেনেজুয়েলার অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে মনে করা হয়। তিনি কেবল প্রেসিডেন্টের স্ত্রীই নন, বরং নিজের যোগ্যতায় হয়ে উঠেছেন একজন ঝানু রাজনীতিবিদ। গত কয়েক দশক ধরে দেশটির ভাগ্য পরিবর্তনে নেপথ্য থেকে কলকাঠি নেড়েছেন সিলিয়া। ফার্স্ট লেডি হিসেবে প্রকাশ্যে নিজেকে একজন পরিবারকেন্দ্রিক নারী হিসেবেই তুলে ধরতেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মাঝে মাঝে স্বামীর সঙ্গে সালসা ফ্লোরেসকে নাচতে দেখা যেত, এমনকি ‘কন সিলিয়া এন ফ্যামিলিয়া’ (পরিবারের সাথে সিলিয়া) নামে একটি টিভি শো-ও উপস্থাপনা করতেন তিনি। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এই সাধারণ ইমেজের আড়ালে তিনি ছিলেন মাদুরোর ক্ষমতায় টিকে থাকার অন্যতম প্রধান কারিগর। ২০১৩ সালে মাদুরোর ক্ষমতা গ্রহণের পর তার গদি শক্ত করতে সিলিয়ার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি ছিলেন ক্ষমতার ‘সিংহাসনের পেছনের আসল শক্তি’।

নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। ছবি: সংগৃহীত
নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। ছবি: সংগৃহীত

মাদুরোর সাথে সিলিয়ার পরিচয় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। তখন তিনি ছিলেন একজন তরুণ ও উচ্চাভিলাষী আইনজীবী। ১৯৯২ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার পর তিনি কারাবন্দি সেনা কর্মকর্তাদের হয়ে আইনি লড়াই লড়েছেন। সেই কর্মকর্তাদের প্রধান ছিলেন হুগো শভেজ, যিনি পরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন। সেই সময়ে মাদুরো শভেজের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করতেন এবং সেখানেই সিলিয়ার সাথে তার প্রথম দেখা।

পরবর্তীতে শভেজের রাজনৈতিক আন্দোলন ‘শাভিসমো’-এর সাথে তাদের ভাগ্য জড়িয়ে যায়। ১৯৯৮ সালে শভেজ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর রাজনীতিতে সিলিয়ার দ্রুত উত্থান শুরু হয়। ২০০৬ সালে তিনি ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বা সংসদের প্রথম নারী স্পিকার হন এবং দীর্ঘ ছয় বছর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখেন। ২০১৩ সালে শভেজের মৃত্যুর পর তিনি মাদুরোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন এবং কয়েকমাস পর তারা বিয়ে করেন।

সিলিয়া ফ্লোরেসের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নানা অভিযোগে বিদ্ধ। তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০১২ সালে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে নিজের পরিবারের অন্তত ৪০ জন সদস্যকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার পরিবারকে নিয়ে গর্বিত এবং আমি তাদের রক্ষাও করব।’

তবে তার ভাবমূর্তি সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় ২০১৫ সালে, যা ‘নার্কো নেফিউজ’ কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত। সেবার মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (DEA)-এর এক অভিযানে হাইতি থেকে তার দুই ভাতিজা ফ্রান্সিসকো ফ্লোরেস এবং এফ্রেইন ক্যাম্পো গ্রেপ্তার হন। তারা ৮০০ কেজি কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের চেষ্টা করছিলেন। যদিও ২০২২ সালে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে তারা ভেনেজুয়েলায় ফিরে আসেন, তবুও ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি তাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

নিউইয়র্কের আদালতে এখন মাদুরোর পাশাপাশি সিলিয়া ফ্লোরেসকেও মাদক পাচার এবং অস্ত্র মামলার মুখোমুখি হতে হবে। সম্প্রতি উন্মোচিত নথিপত্রে সিলিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, ২০০৭ সালে তিনি একজন বড় মাদক পাচারকারী ও ভেনেজুয়েলার মাদকবিরোধী দপ্তরের পরিচালকের মধ্যে বৈঠকের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য কয়েক লাখ ডলার ঘুষ নিয়েছিলেন। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের ভাষায়, ‘মাদুরো ও তার সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করে আমেরিকানদের বিষিয়ে তুলছে।’

আজ সোমবারই (৫ জানুয়ারি) সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, প্রতিবাদ তেহরানের

ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশটির মুদ্রা রিয়েলের দরপতনের প্রতিবাদে সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ-আন্দোলন দেশটির ছোট ছোট শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

২০ ঘণ্টা আগে

‘আগাম হামলা’ হতে পারে— ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করে হুঁশিয়ারি ইরানের

শত্রুদের ওপর ‘আগাম হামলা’ চালাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এ হুমকির ক্ষেত্রে ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিল সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলের প্রতি ইঙ্গিত করেই এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে পারে।

১ দিন আগে

রাশিয়ার তেল কিনলে ৫০০% শুল্ক, ভারত-চীনের বিরুদ্ধে বিলে সই ট্রাম্পের

নানা ইস্যুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এমনকি ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন ইস্যুতেও ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। রাশিয়া ইস্যুতে এসে সেই দুই দল এক হয়ে গেছে। আলোচিত এ বিলটিও এনেছেন দুই দলের দুই সিনেটর।

১ দিন আগে

জাতিসংঘের ৩১টিসহ ৬৬ সংস্থা থেকে নাম প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী স্থানীয় সময় বুধবার (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন। এসব সংস্থার মধ্যে জাতিসংঘের সংস্থা রয়েঠে ৩১টি, বাকিগুলো জাতিসংঘের বাইরের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।

১ দিন আগে