
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

প্রায় ৪৭ বছর পর সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলছে, এর ফলে সিরিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগের বড় বাধা দূর হবে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থায় পুনরায় একীভূত হওয়ার পথ আরও সহজ হবে।
বিবিসি ও আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (২৪ আগস্ট) কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলো সিরিয়ার ওপর থেকে।
১৯৭৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসন সিরিয়াকে ‘স্টেট স্পনসর অব টেররিজম’ বা সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা, প্রতিরক্ষা রপ্তানি, দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য ও নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
পরে সময়ে ২০১১ সালে বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিরিয়ার ওপর আরও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।
সিরিয়াকে ওই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কংগ্রেসের বাধ্যতামূলক ৪৫ দিনের পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর তিনি সিরিয়ার ‘স্টেট স্পনসর অব টেররিজম’ মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন।
রুবিওর ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের এটি আরেকটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা সিরিয়ার জনগণের জন্য ‘সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ’ তৈরি করবে।
এর আগে ৮ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে সিরিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানায়। রুবিও তখন বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে এবং দেশটির পুনর্গঠনের পথ উন্মুক্ত হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও এই সিদ্ধান্তকে সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজকের এই পদক্ষেপ সিরিয়ায় আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়তা করবে, যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে।’
এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস), আগে যা আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল, সেটিকেও ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সংগঠনটিকে ‘ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ তালিকা থেকেও সরিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
আল-শারা একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তার মাথার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এইচটিএস নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের অভিযানে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। নতুন সিরীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগোয় ট্রাম্প প্রশাসন।
এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার ওপর আরোপিত বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। একই বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন কংগ্রেস ‘সিজার সিরিয়া সিভিলিয়ান প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ বাতিল করে, যা সিরিয়ার অর্থনীতি ও বিদেশি বিনিয়োগের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছিল। ফলে এবারের সিদ্ধান্তকে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্তির পথে আরেকটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিরিয়াকে বাদ দেওয়ার পর এখন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকায় রয়েছে মাত্র তিনটি দেশ— ইরান, উত্তর কোরিয়া ও কিউবা। তবে সিরিয়ার ওপর থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে যাচ্ছে না। সাবেক আসাদ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিছু নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে।
সিরিয়ার জন্য সিদ্ধান্তটির গুরুত্ব শুধু কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিকও। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা সচল করা, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ আনা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি সিদ্ধান্তটিকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি দেশটির বৈশ্বিক আর্থিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পুনঃসংযোগে সহায়তা করবে।

প্রায় ৪৭ বছর পর সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলছে, এর ফলে সিরিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগের বড় বাধা দূর হবে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থায় পুনরায় একীভূত হওয়ার পথ আরও সহজ হবে।
বিবিসি ও আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (২৪ আগস্ট) কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলো সিরিয়ার ওপর থেকে।
১৯৭৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসন সিরিয়াকে ‘স্টেট স্পনসর অব টেররিজম’ বা সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা, প্রতিরক্ষা রপ্তানি, দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য ও নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
পরে সময়ে ২০১১ সালে বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিরিয়ার ওপর আরও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।
সিরিয়াকে ওই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কংগ্রেসের বাধ্যতামূলক ৪৫ দিনের পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর তিনি সিরিয়ার ‘স্টেট স্পনসর অব টেররিজম’ মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন।
রুবিওর ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের এটি আরেকটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা সিরিয়ার জনগণের জন্য ‘সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ’ তৈরি করবে।
এর আগে ৮ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে সিরিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানায়। রুবিও তখন বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে এবং দেশটির পুনর্গঠনের পথ উন্মুক্ত হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও এই সিদ্ধান্তকে সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজকের এই পদক্ষেপ সিরিয়ায় আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়তা করবে, যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে।’
এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস), আগে যা আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল, সেটিকেও ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সংগঠনটিকে ‘ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ তালিকা থেকেও সরিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
আল-শারা একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তার মাথার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এইচটিএস নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের অভিযানে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। নতুন সিরীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগোয় ট্রাম্প প্রশাসন।
এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার ওপর আরোপিত বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। একই বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন কংগ্রেস ‘সিজার সিরিয়া সিভিলিয়ান প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ বাতিল করে, যা সিরিয়ার অর্থনীতি ও বিদেশি বিনিয়োগের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছিল। ফলে এবারের সিদ্ধান্তকে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্তির পথে আরেকটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিরিয়াকে বাদ দেওয়ার পর এখন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকায় রয়েছে মাত্র তিনটি দেশ— ইরান, উত্তর কোরিয়া ও কিউবা। তবে সিরিয়ার ওপর থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে যাচ্ছে না। সাবেক আসাদ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিছু নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে।
সিরিয়ার জন্য সিদ্ধান্তটির গুরুত্ব শুধু কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিকও। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা সচল করা, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ আনা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি সিদ্ধান্তটিকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি দেশটির বৈশ্বিক আর্থিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পুনঃসংযোগে সহায়তা করবে।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারে পররাষ্ট্র দপ্তর। এ ক্ষেত্রে তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
১৫ ঘণ্টা আগে
বেসেন্ট এটিকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার এবং ইরানের সঙ্গে ব্যবসা— এই দুটির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হতে পারে।
১ দিন আগে
ইরানের নবগঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ সোমবার (২৪ আগস্ট)এক বিবৃতিতে জানায়, কালো তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর সঙ্গে যারা পণ্য স্থানান্তর বা অন্য ধরনের সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশের কয়েকটি বড় শিপিং কোম্পানির ট্
১ দিন আগে