ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৩৮
ডোনাল্ড ট্রাম্প (বাঁয়ে) ও কিয়ার স্টারমার (ডানে) ছবি: সংগৃহীত

ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটি ব্যবহার করতে চাইলেও সে অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সুইন্ডনের কাছে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) একটি ঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় সে প্রস্তাবে সায় দেয়নি ব্রিটিশ সরকার।

অনুমতির বিষয়ে অনড় অবস্থান নেওয়ায় ব্রিটিশ সরকারের ওপর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সুইন্ডনের ওই ঘাঁটি থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।

ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, ‘বোঝাপড়ায় আসুন, না হলে খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, একটি ‘ভয়ংকর রকমের অস্থিতিশীল ও ভয়ংকর শাসনের’ অবসান ঘটাতে ব্রিটেনের ওই বিমানঘাঁটি ব্যবহার প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এখানে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনব্যবস্থার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

২০০১ সালের ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, কোনো মিত্র দেশ ব্রিটিশ ভূখণ্ড ব্যবহার করে সামরিক অভিযান চালালে ব্রিটেন সেই অভিযানের দায়ভার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। তবে শর্ত হলো— অভিযানের বিষয়ে আগে থেকে বিস্তারিত অবহিত করতে হবে।

কিন্তু সুইন্ডনের ঘাঁটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনকে আগাম জানাতে বাধ্য নয়— এমন আশঙ্কা থেকেই লন্ডন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফলে নিজেদের অজান্তে কোনো বড় সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না স্টারমার সরকার।

এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অঞ্চলটিতে ইতোমধ্যে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন বাহিনী।

সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের কাছাকাছি মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা কয়েক গুণ বেড়েছে। অপরদিকে সিএনএন ও সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন সেনারা।

তবে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেই ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা: লেবানন

২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকেই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছিল, যেখানে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দূতরা উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা পরিচালনা করেছেন।

৭ ঘণ্টা আগে

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন পুতিন

ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনও একই পদক্ষেপ নেবে বলে তারা আশা করছে। এতে আরো বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসভ সেনাবাহিনী প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভকে ওই সময় সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যেকোনো ধরনের লঙ্ঘনের জবাব দিতে রুশ বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।

৮ ঘণ্টা আগে

ইরান যুদ্ধ: নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবছে উপসাগরীয় দেশগুলো

ছয় সপ্তাহের সংঘাতে ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বড় অংশের লক্ষ্যই ছিল উপসাগরীয় দেশগুলো। এসব হামলার বেশির ভাগই প্রতিহত করা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে । তবে এরপরও তারা বুঝতে পারছে, এককভাবে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়।

৮ ঘণ্টা আগে

হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন নিখোঁজ

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নজরদারি ড্রোন ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই ড্রোনটি উড়ন্ত অবস্থায় জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল। এটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে— এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

৯ ঘণ্টা আগে