ভদ্রতা দেখানোর সময় নেই— ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে ইরানকে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন। ছবি: কোলাজ

যুদ্ধবিরতি আর দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ঘিরে কয়েকদিন ‘চুপ’ থাকার পর ফের হুমকির পুরনো অভ্যাসে ফিরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি বলেছেন, ভদ্রতার দেখানোর সময় আর নেই। ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেবেন তিনি।

রোববার (১৯ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এমন নতুন হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। দীর্ঘ এ পোস্টে হরমুজ প্রণালি, পাকিস্তানে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, ইরান চুক্তি না করলে তার পরিণতি— নানা বিষয় তুলে এনেছেন তিনি।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান গতকাল হরমুজ প্রণালিতে গুলি ছোড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন! এর অনেকগুলোই একটি ফরাসি জাহাজ ও যুক্তরাজ্যের একটি পণ্যবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে। এটা মোটেও ভালো কাজ হয়নি, তাই না?’

ইরানের নতুন করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণা নিয়ে পোস্টে ঠাট্টা করেছেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘ইরান সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে তারা প্রণালিটি বন্ধ করছে। কী অদ্ভুত! কারণ আমাদের অবরোধ এরই মধ্যে সেটি (হরমুজ প্রণালি) বন্ধ করে দিয়েছে। তারা না জেনেই আমাদের সাহায্য করছে।’

এর আগে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে এক বার্তায় আইআরজিসি জানায়, ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ও ফি দিয়ে জাহাজ চলাচলের যে সুযোগ ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। ইরানের বন্দর ও জাহাজগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি না হলেও ইরানের প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, “বরং অনেক জাহাজ এখন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, লুজিয়ানা ও আলাস্কার দিকে যাচ্ছে জ্বালানি তুলতে— সবই আইআরজিসির (ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোর) সৌজন্যে, যারা সব সময় ‘কঠিন লোক’ সাজার চেষ্টা করে!”

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবে বলে জানান ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে চুক্তি ইরানের ওপর নির্ভর করছে বলেই মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা একটি খুবই ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছি। আমি আশা করি, তারা (ইরান) সেটি গ্রহণ করবে।’

ইরান চুক্তিতে সম্মত না হলে কী পরিণতি হবে, সেটি জানাতে গিয়েই নতুন হুমকির কথা তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লিখেছেন, ‘তারা যদি (চুক্তি) না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেবে। আর ভদ্রতার সময় নেই!’

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘তারা (ইরান) দ্রুতই নতিস্বীকার করবে, সহজভাবেই করবে। আর যদি চুক্তি গ্রহণ না করে তাহলে যা কিছু প্রয়োজন, তা করা আমার জন্য গৌরবের বিষয় হবে— যা গত ৪৭ বছর ধরে অন্যান্য প্রেসিডেন্টদের করা উচিত ছিল।’

ট্রাম্পের পোস্টের শেষ বাক্য— “এখন সময় এসেছে ইরানের ‘হত্যাযন্ত্র’ বন্ধ করার!”

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি, তবে চুক্তি বহুদূর: ইরান

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা যুদ্ধ শেষ করার লক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তেহরানের অন্যতম আলোচক গালিবাফ বলেন, ‘আমরা এখনও চূড়ান্ত আলোচনা থেকে অনেক দূরে’।

১৪ ঘণ্টা আগে

হরমুজ প্রণালি এবার পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

আইআরজিসি জানিয়েছে, আগে নিরাপদ চলাচলের জন্য যে করিডোরটি নির্দিষ্ট করা হয়েছিল, তার ওপরও এখন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। ইরানের বন্দর ও জাহাজগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

১৬ ঘণ্টা আগে

যেকোনো মুহূর্তে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে: ইরান

‘ওয়াশিংটন যেকোনো মুহূর্তে আবারও হামলা চালাতে পারে। তবে তা মোকাবিলায় মাঠে প্রস্তুত আছে ইরানের সেনারা।’ এসময় তিনি হরমুজ প্রণালি অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে বোকামি ও মূর্খতার সামিল বলেও মন্তব্য করেন।

১৭ ঘণ্টা আগে

গাজায় দিনে ৪৭ নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএন উইমেনের মুখপাত্র সোফিয়া ক্যালটর্প বলেন, ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল সামরিক অভিযানে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গাজায় ৩৮ হাজারের বেশি নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে নারী ২২ হাজারের বেশি, কন্যাশিশু প্রায় ১৬ হাজার।

১৭ ঘণ্টা আগে