ডলারেও ট্রাম্পের স্বাক্ষর, ভাঙছে ১৬৫ বছরের ঐতিহ্য

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৮: ৫৭
আগামী জুন মাসে প্রথম ধাপে ১০০ ডলারের নোটে ট্রাম্পের স্বাক্ষর সংযোজন করা হবে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে প্রশাসন। এবার প্রথমবারের মতো দেশটির মুদ্রা ডলারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ভেঙে দিতে যাচ্ছে প্রায় ১৬৫ বছরের পুরনো ঐতিহ্য।

১৮৬১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক নোটে ট্রেজারারের স্বাক্ষর রাখার যে প্রথা চালু হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে তারও পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।

এতদিন মার্কিন ডলারে সাবেক প্রেসিডেন্টদের প্রতিকৃতি থাকলেও কোনো জীবিত বা মৃত প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছিল না, থাকত শুধু অর্থমন্ত্রী ও ট্রেজারারের স্বাক্ষর। তবে এবার সেই রীতির পরিবর্তন আনছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছে। ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই ১৩টি উপনিবেশ ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়, যেগুলো পরবর্তীতে অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার আড়াইশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ট্রাম্প ও তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের স্বাক্ষর সম্বলিত ডলারের নোট বাজারে ছাড়ার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ ছাপা ডলারের নোটগুলোতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন ও ট্রেজারার লিন মালেরবার স্বাক্ষর রয়েছে।

আগামী জুন মাসে প্রথম ধাপে ১০০ ডলারের নোটে ট্রাম্পের স্বাক্ষর সংযোজন করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মূল্যমানের নোটেও এটি যুক্ত করা হবে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেছেন, ‘আমাদের মহান দেশ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের ঐতিহাসিক অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে ডলারের নোটে তার স্বাক্ষরের চেয়ে শক্তিশালী প্রতীক আর কিছু হতে পারে না।’

তবে নতুন এ সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ব্যাংক নোটে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর রাখার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি, বাড়িভাড়া ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য কাকে দায় দিতে হবে— এখন মার্কিনিরা তা সহজেই বুঝতে পারবে।’

সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আইনে জীবিত প্রেসিডেন্টদের ছবি বা প্রতিকৃতি মুদ্রায় ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও স্বাক্ষর বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অনেকের মতে রাজতান্ত্রিক বা স্বৈরশাসনের ধাঁচের পদক্ষেপ।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেওয়া প্রণোদনা চেকেও তার নাম সংযোজন করেছিলেন। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম সোয়া এক বছরের মধ্যেই জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস, ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস এমনকী যুদ্ধজাহাজের আসন্ন এক শ্রেণির নামেও স্থান করে নিয়েছেন ট্রাম্প।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইবোলা ভাইরাসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

জেনেভাভিত্তিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও উগান্ডায় বুন্দিবুগিও ভাইরাসজনিত ইবোলা সংক্রমণকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা (পিএইচইআইসি) হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

১৩ ঘণ্টা আগে

হামলার হুমকির জবাবে পাল্টা যুদ্ধের ঘোষণা ইরানের

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ওয়াশিংটনে জ্বালানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং গৃহঋণের সুদের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার দিকে যেতে পারে বলে দাবি তেহরানের। আল-জাজিরার বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

১৪ ঘণ্টা আগে

আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ অত্যাসন্ন ধরে নিয়ে ইতিমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত পদক্ষেপের জন্য এখন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

১৫ ঘণ্টা আগে

চুক্তি না হলে ইরানের জন্য খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে: ট্রাম্প

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সংকট নিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান অচলাবস্থা ভাঙতে তিনি আরও বড় পরিসরে বোমা হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে মার্কিন শীর্ষ উপদেষ্টারা ইতোমধ্যে পুনরায় সামরিক অভিযান

১৫ ঘণ্টা আগে