
টিম রাজনীতি ডটকম


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তার নিজ কার্যালয়ে কাজ করার সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। তেহরানে খামেনির প্রধান কার্যালয় ‘লিডারশিপ হাউজ কম্পাউন্ডে’র ওপর চালানো এ হামলায় ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া বিবিসি ভেরিফাইয়ের স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতেও লিডারশিপ হাউজ কম্পাউন্ডের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে।
ইরানের বিপ্লবী সামরিক বাহিনী আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, খামেনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল তা ছিল ‘শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’। বরং তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজ দপ্তরেই অবস্থান করছিলেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির দ্বিতীয় সুপ্রিম লিডার ও সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফের এই আকস্মিক মৃত্যুতে ইরান জুড়ে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বাংলাদেশ সময় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে খামেনির মৃত্যুর খবর জানান ট্রাম্প। বলেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি নিহত।’
পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইতিহাসের অন্যতম এক নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের মানুষের জন্যই নয়, বরং সেইসব মার্কিনি ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্যও এক কাঙ্ক্ষিত বিচার, যাদের খামেনি ও তার রক্তপিপাসু গুন্ডাবাহিনী হত্যা কিংবা পঙ্গু করে দিয়েছিল।’
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও অত্যন্ত উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ইসরাইলের সঙ্গে মিলে আমরা এমন এক অভিযান চালিয়েছি যে খামেনি বা তার সঙ্গে মারা যাওয়া অন্য নেতাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।’
খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানের জনগণ তাদের নিজেদের মতো করে দেশ ‘ফিরে পাওয়া’র সুযোগ পেয়েছে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘ইরানের জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা খবর পাচ্ছি যে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চায় না এবং তারা আমাদের কাছে ক্ষমা বা নিরাপত্তা চাইছে।’
“আমি গত রাতেই বলেছি, ‘এখনই সুযোগ, তারা চাইলে ক্ষমা পেতে পারে; কিন্তু দেরি করলে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই পাবে না তারা।’ আশা করি, বিপ্লবী গার্ড ও পুলিশ বাহিনী ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একাত্ম হবে এবং এই দেশকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে,”— লিখেছেন ট্রাম্প।
ইরানের নাগরিকদের দ্রুতিই ‘দেশ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া’ শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সেই প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই শুরু হওয়া উচিত। কারণ শুধু খামেনির মৃত্যু নয়, মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বলতে গেলে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে।’
‘মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য’ অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ‘নিখুঁত ও ভারী বিমান হামলা’ পুরো সপ্তাহ জুড়ে অথবা প্রয়োজনমতো বিরতিহীনভাবে চলতে থাকবে বলেও ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। তার মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান।
রোববার (১ মার্চ) বাংলাদেশ সময় ভোরের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন খামেনির মৃত্যুর খবর। পরে ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিখুঁত বিমান হামলায় খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে ইরানের জনগণের জন্য ‘দেশ ফিরে পাওয়ার বড় সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেন ট্রাম্প।
ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির সময়ই বিরোধী দলীয় রাজনীতিতে পরিচিতমুখ হয়ে ওঠেন আলি খামেনি। ১৯৭৮-৭৯ সালের ইরান বিপ্লবের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি।
১৯৭৯ সালে ইরান বিপ্লবে শাহ সরকারের পতন ঘটলে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদ গ্রহণ করেন আলি খামেনির নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খামেনি। সে সময় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন আলি খামেনি। ১৯৮১ সালে ইরানের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
ইরানের রাষ্ট্রপতি পদে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত আট বছর দায়িত্ব পালন করেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই বছর রুহুলুল্লাহ খামেনির মৃত্যু হলে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদ অলঙ্কৃত করেন। গত ৩৭ বছর ধরে তিনিই দেশটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর হামলার মুখে প্রাণ হারালেন আলি খামেনি। তার ৩৭ বছরের শাসনেরও অবসান ঘটল।