
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে আলটিমেটামের সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও নতি স্বীকার করেনি ইরান। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও চুক্তিতে আসার নাম করছে না তারা। বরং তাদের মতো করে যে ১০ দফা শর্তের কথা বলা হয়েছিল, সেখানেই অবস্থান করছে দেশটি। এর মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারেন বলে গুঞ্জন পর্যন্ত ছড়িয়েছে।
দুপক্ষের অনড় অবস্থানে বড় সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে— তা জানতে ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের আর মাত্র ঘণ্টা ছয়েক আগে বিশ্বের সব এলাকা থেকেই নজরে রাখা হচ্ছে ইরানের দিকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানকে দফায় দফায় আলটিমেটাম দিয়ে আসছেন। তবে সবশেষ গত ২৭ মার্চ তিনি ইরানকে চুক্তিতে আসার জন্য ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে আলটিমেটাম দেন। এরপর গত কয়েক দিনেই তিনি সে আলটিমেটামের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একেবার একেক হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, চুক্তিতে আসার জন্য ইরান সময় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা, ইরান সময় ভোর ৩টা)। এই সময়ের ঘণ্টা ১২ আগে ট্রাম্প সবশেষ হুমকিতে বলেন, আজ রাতে একটি সভ্যতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
ট্রাম্পের এ বক্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে-ও বাইরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তার এ বক্তব্যকে সরাসরি গণহত্যা হুমকির সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকে। বলছেন, এমন বক্তব্য যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে তুলনীয়।
ট্রাম্প মরিয়া হয়ে এসব হুমকি-ধমকি দিয়ে চলেছেন মূলত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য, যেটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই বন্ধ রেখেছে ইরান। এতে গোটা বিশ্বে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে, দেশে দেশে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট।
চলমান পরিস্থিতিতে ইরান সুযোগ বুঝে হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রণালি উন্মুক্ত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে তিনি ইউরোপীয় মিত্রগুলোর কাছে সেখানে সামরিক শক্তি প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েও সাড়া পাননি। সে কারণেই ইরানকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া’, ইরানের ওপর ‘দোজখ নামিয়ে আনা’র মতো হুমকির পর শেষ পর্যন্ত একটি সভ্যতাকেই ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের হুমকি বা আলটিমেটামকে পাত্তা দিচ্ছে না ইরান। সোমবার তারা যুদ্ধ থামাতে নানামুখী তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, যেখানে তাদের পক্ষ থেকে ১০ দফা শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের রক্ষীবাহিনী বিপ্লবী গার্ডও (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালালে তারা একইভাবে জবাব দেবে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা এমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব, যেন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বহু বছর ধরে এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস থেকে বঞ্চিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি লাল রেখা অতিক্রম করে, তবে প্রতিক্রিয়া অঞ্চলের বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আবার জানিয়েছেন, দেশটির এক কোটি ৪০ লাখের বেশি ইরানি নাগরিক যুদ্ধের জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন।
ইরানকে যেভাবে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার কথা বারবার ট্রাম্প বলে আসছেন, তাতে গুঞ্জন উঠেছে— ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন কি না!
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান হোয়াকিন কাস্ত্রো ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানাতে বলেন, তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছেন না। অনদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু ‘অস্ত্র’ ব্যবহার করতে পারে, যেগুলো এখনো ব্যবহার করা হয়নি, যা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। হোয়াইট হাউজ এ-ও জানিয়েছে, যে যাই বলুক, দিন শেষে ট্রাম্প একাই জানেন তিনি কী করতে চলেছেন। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়িয়ে এবং প্রেসিডেন্ট কী করবেন— এটি কেবল তিনিই জানেন।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পালটা আক্রমণ— দুদিক থেকেই সংঘাত তীব্র হয়েছে। মার্কিন হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যদিও তেল স্থাপনায় সরাসরি হামলার কথা অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের সেতু ও রেলপথে হামলা চালিয়েছে, যা আইআরজিসি অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহার করত বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরায়েলেও পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে, আর উপসাগরীয় দেশগুলোও ইরানের পালটা হামলার চাপ সামাল দিচ্ছে।
ট্রাম্পের ‘সভ্যতা ধ্বংসে’র হুমকি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কড়া ভাষার হুমকি হলেও এর রাজনৈতিক ও নৈতিক তাৎপর্য বড়।
বিবিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনার প্রশ্ন তুলেছেন— ট্রাম্প কি ইতিহাসে সেই নেতা হিসেবে পরিচিত হতে চান, যিনি মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন, যেমন— পারস্য সাম্রাজ্যের রাজধানী পার্সেপোলিসের ধ্বংসাবশেষ বা ইউনোস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা ইরানের ‘ফ্রাইডে মস্ক অব ইসফাহানে’র স্থাপনা ধ্বংস করেছিলেন?
গার্ডনার তার লেখায় এমন কিছু উদাহরণও তুলে ধরেন। যেমন— তালিবান ষষ্ঠ শতকের বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করেছিল। আইসিস দ্বিতীয় শতকের প্রাচীন নগরী পালমিরার অংশগুলো ধ্বংস করেছিল।
এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে, যেখানে বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ চললেও সভ্যতার নানা নিদর্শন অক্ষত রাখা হয়েছে। গার্ডনার লিখেছেন, ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে নির্মম যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এর মাঝেও তিনি কিয়েভের গির্জাগুলোর সোনালি গম্বুজগুলো ধ্বংস করা থেকে বিরত থেকেছেন।’
বিবিসির নিরাপত্তাবিষয়ক এই সংবাদদাতার অভিমত, “এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো অবকাঠামো বোঝাতে ‘সভ্যতা’ শব্দটিকে হালকাভাবেও ব্যবহার করে থাকেন, তাহলেও তার এ ধরনের হুমকি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”
তবে আইনজীবীরা বলছেন, এখানে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে, কারণ যদি এটা প্রমাণ করা যায় যে কোনো স্থাপনা আসলে সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাহলে তা যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।
এসব নানামুখী ‘যদি-কিন্তু’র মধ্যে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ইরানে হামলা করবেন কি না বা হামলা করলেও তার মাত্রা কী হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক ঘণ্টা।
এর মধ্যেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প অবশ্য একে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বললেও ‘যথেষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুপক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও আলটিমেটাম, অন্যদিকে ইরানের কৌশলগত প্রতিরোধ— এ পরিস্থিতিতে সংঘাত দ্রুত প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে সংঘাত ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী যদি অতটা তীব্র না-ও হয়, তাহলেও তা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে আলটিমেটামের সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও নতি স্বীকার করেনি ইরান। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও চুক্তিতে আসার নাম করছে না তারা। বরং তাদের মতো করে যে ১০ দফা শর্তের কথা বলা হয়েছিল, সেখানেই অবস্থান করছে দেশটি। এর মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারেন বলে গুঞ্জন পর্যন্ত ছড়িয়েছে।
দুপক্ষের অনড় অবস্থানে বড় সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে— তা জানতে ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের আর মাত্র ঘণ্টা ছয়েক আগে বিশ্বের সব এলাকা থেকেই নজরে রাখা হচ্ছে ইরানের দিকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানকে দফায় দফায় আলটিমেটাম দিয়ে আসছেন। তবে সবশেষ গত ২৭ মার্চ তিনি ইরানকে চুক্তিতে আসার জন্য ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে আলটিমেটাম দেন। এরপর গত কয়েক দিনেই তিনি সে আলটিমেটামের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একেবার একেক হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, চুক্তিতে আসার জন্য ইরান সময় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা, ইরান সময় ভোর ৩টা)। এই সময়ের ঘণ্টা ১২ আগে ট্রাম্প সবশেষ হুমকিতে বলেন, আজ রাতে একটি সভ্যতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
ট্রাম্পের এ বক্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে-ও বাইরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তার এ বক্তব্যকে সরাসরি গণহত্যা হুমকির সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকে। বলছেন, এমন বক্তব্য যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে তুলনীয়।
ট্রাম্প মরিয়া হয়ে এসব হুমকি-ধমকি দিয়ে চলেছেন মূলত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য, যেটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই বন্ধ রেখেছে ইরান। এতে গোটা বিশ্বে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে, দেশে দেশে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট।
চলমান পরিস্থিতিতে ইরান সুযোগ বুঝে হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রণালি উন্মুক্ত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে তিনি ইউরোপীয় মিত্রগুলোর কাছে সেখানে সামরিক শক্তি প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েও সাড়া পাননি। সে কারণেই ইরানকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া’, ইরানের ওপর ‘দোজখ নামিয়ে আনা’র মতো হুমকির পর শেষ পর্যন্ত একটি সভ্যতাকেই ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের হুমকি বা আলটিমেটামকে পাত্তা দিচ্ছে না ইরান। সোমবার তারা যুদ্ধ থামাতে নানামুখী তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, যেখানে তাদের পক্ষ থেকে ১০ দফা শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের রক্ষীবাহিনী বিপ্লবী গার্ডও (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালালে তারা একইভাবে জবাব দেবে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা এমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব, যেন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বহু বছর ধরে এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস থেকে বঞ্চিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি লাল রেখা অতিক্রম করে, তবে প্রতিক্রিয়া অঞ্চলের বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আবার জানিয়েছেন, দেশটির এক কোটি ৪০ লাখের বেশি ইরানি নাগরিক যুদ্ধের জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন।
ইরানকে যেভাবে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার কথা বারবার ট্রাম্প বলে আসছেন, তাতে গুঞ্জন উঠেছে— ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন কি না!
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান হোয়াকিন কাস্ত্রো ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানাতে বলেন, তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছেন না। অনদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু ‘অস্ত্র’ ব্যবহার করতে পারে, যেগুলো এখনো ব্যবহার করা হয়নি, যা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। হোয়াইট হাউজ এ-ও জানিয়েছে, যে যাই বলুক, দিন শেষে ট্রাম্প একাই জানেন তিনি কী করতে চলেছেন। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়িয়ে এবং প্রেসিডেন্ট কী করবেন— এটি কেবল তিনিই জানেন।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পালটা আক্রমণ— দুদিক থেকেই সংঘাত তীব্র হয়েছে। মার্কিন হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যদিও তেল স্থাপনায় সরাসরি হামলার কথা অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের সেতু ও রেলপথে হামলা চালিয়েছে, যা আইআরজিসি অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহার করত বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরায়েলেও পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে, আর উপসাগরীয় দেশগুলোও ইরানের পালটা হামলার চাপ সামাল দিচ্ছে।
ট্রাম্পের ‘সভ্যতা ধ্বংসে’র হুমকি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কড়া ভাষার হুমকি হলেও এর রাজনৈতিক ও নৈতিক তাৎপর্য বড়।
বিবিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনার প্রশ্ন তুলেছেন— ট্রাম্প কি ইতিহাসে সেই নেতা হিসেবে পরিচিত হতে চান, যিনি মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন, যেমন— পারস্য সাম্রাজ্যের রাজধানী পার্সেপোলিসের ধ্বংসাবশেষ বা ইউনোস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা ইরানের ‘ফ্রাইডে মস্ক অব ইসফাহানে’র স্থাপনা ধ্বংস করেছিলেন?
গার্ডনার তার লেখায় এমন কিছু উদাহরণও তুলে ধরেন। যেমন— তালিবান ষষ্ঠ শতকের বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করেছিল। আইসিস দ্বিতীয় শতকের প্রাচীন নগরী পালমিরার অংশগুলো ধ্বংস করেছিল।
এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে, যেখানে বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ চললেও সভ্যতার নানা নিদর্শন অক্ষত রাখা হয়েছে। গার্ডনার লিখেছেন, ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে নির্মম যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এর মাঝেও তিনি কিয়েভের গির্জাগুলোর সোনালি গম্বুজগুলো ধ্বংস করা থেকে বিরত থেকেছেন।’
বিবিসির নিরাপত্তাবিষয়ক এই সংবাদদাতার অভিমত, “এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো অবকাঠামো বোঝাতে ‘সভ্যতা’ শব্দটিকে হালকাভাবেও ব্যবহার করে থাকেন, তাহলেও তার এ ধরনের হুমকি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”
তবে আইনজীবীরা বলছেন, এখানে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে, কারণ যদি এটা প্রমাণ করা যায় যে কোনো স্থাপনা আসলে সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাহলে তা যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।
এসব নানামুখী ‘যদি-কিন্তু’র মধ্যে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ইরানে হামলা করবেন কি না বা হামলা করলেও তার মাত্রা কী হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক ঘণ্টা।
এর মধ্যেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প অবশ্য একে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বললেও ‘যথেষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুপক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও আলটিমেটাম, অন্যদিকে ইরানের কৌশলগত প্রতিরোধ— এ পরিস্থিতিতে সংঘাত দ্রুত প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে সংঘাত ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী যদি অতটা তীব্র না-ও হয়, তাহলেও তা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান

ইরানের কাশান শহরের একটি রেলওয়ে সেতুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে দুজন নিহত হয়েছেন। আল-জাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইসফাহানের ডেপুটি গভর্নরের বরাত দিয়ে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানের কাশান শহরের ইয়াহিয়া আবাদ রেলওয়ে সেতুতে এ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
১০ ঘণ্টা আগে
দেশের জন্য ১ কোটি ৪০ লাখ (১৪ মিলিয়ন) ইরানি জীবন দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ১৪ মিলিয়নের বেশি গর্বিত ইরানি তাদের জীবন উৎসর্গ করতে নিবন্ধন করেছেন। আমিও আমার জীবন ইরানের জন্য উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলাম, আছি এবং থাকবো।
১১ ঘণ্টা আগে
ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-১৫ই ফাইটার জেটটি কাঁধ থেকে ছোড়া তাপ-অনুসন্ধানী (হিট-সিকিং) মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এটি ছিল হাতে বহনযোগ্য একটি শোল্ডার মিসাইল।
১১ ঘণ্টা আগে
সেনাবাহিনীর ফারসি ভাষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় আইডিএফ ইরানের মানুষকে “নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে” সারা দেশে “ইরান সময় রাত ৯টা পর্যন্ত” ট্রেন ব্যবহার ও ট্রেনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলেছে।
১৩ ঘণ্টা আগে