নিউইয়র্কে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথা বলতে আর আইনি বাধা নেই

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ২১
নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের আসনে বসেই ইসরায়েলি লবির তোয়াক্কা না করে সাহসী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শহরটির নতুন এবং প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি। শপথ নেওয়ার পরই তিনি আগের মেয়র এরিক অ্যাডামসের জারি করা ইসরায়েলপন্থি সব নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন।

মামদানির এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছে ইসরায়েল, তবে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনমনা মানুষ একে দেখছেন এক বড় বিজয় হিসেবে। পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেওয়া এই নেতা বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো বিশেষ লবির চাপে মাথা নত করতে আসেননি।

মামদানির এই পদক্ষেপের ফলে নিউইয়র্কে এখন থেকে ইসরায়েলের সমালোচনা করা আর ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে না। তিনি বিতর্কিত ‘আইএইচআরএ’ (IHRA)-এর সংজ্ঞা বাতিল করেছেন, যেখানে ইসরায়েল রাষ্ট্রের সমালোচনাকেও কৌশলগতভাবে ‘ইহুদিবিদ্বেষ’ বলে চালিয়ে দেওয়া হতো।

শুধু তাই নয়, ইসরায়েলি পণ্য বা সেবাকে বয়কট (BDS) করার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তাও তিনি তুলে নিয়েছেন। অর্থাৎ, নিউইয়র্কের বুকে এখন ইসরায়েলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না। আগের প্রশাসন যেভাবে বাকস্বাধীনতা হরণ করে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করত, মামদানি সেই শিকল ভেঙে দিয়েছেন।

নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানি শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইহুদি ধর্ম আর জায়নবাদ এক জিনিস নয়। আগের প্রশাসন এই দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা মানুষদের কণ্ঠরোধ করত।

মামদানি বলেন, ইহুদিদের নিরাপত্তা তার কাছে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং এজন্য তিনি ইহুদিবিদ্বেষ বিরোধী অফিস চালু রাখবেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ইসরায়েল সরকারের বর্বরতা বা দখলদারিত্বের সমালোচনা করা যাবে না। তিনি প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে চান এবং একটি নতুন শুরু নিশ্চিত করতে চান।

স্বাভাবিকভাবেই মামদানির এমন সাহসী পদক্ষেপে তেল আবিবের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত নাকি ইহুদিবিদ্বেষের আগুনে ঘি ঢালবে। তারা মেয়র হিসেবে মামদানির প্রথম দিনেই তার ‘আসল চেহারা’ উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে।

তবে মেয়র মামদানি এসব বিষাক্ত সমালোচনায় কান দেননি। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সাবেক মেয়র অ্যাডামসের মতো তিনি ইসরায়েলের অন্ধ সমর্থক নন। তার এই সিদ্ধান্ত নিউইয়র্ক তো বটেই, বিশ্ব রাজনীতিতেও এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, দিন পাল্টাচ্ছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মাদুরোর মুক্তির দাবিতে উত্তাল ভেনেজুয়েলা, সমর্থকদের বিক্ষোভ

৪ ঘণ্টা আগে

‘হাতকড়া’ পরিয়ে নিকোলাস মাদুরোকে হাঁটিয়ে নেওয়ার ভিডিও প্রকাশ

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অভিযানের সময় মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেস কারাকাসের উচ্চ-নিরাপত্তা সামরিক কম্পাউন্ড ফুয়ের্তে তিউনায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। অভিযানের পর তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

৪ ঘণ্টা আগে

মাদুরোকে আটক ‘বিপজ্জনক নজির’, জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সেই উত্তেজনার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ যুক্তরাষ্ট্রের শনিবারের সামরিক অভিযান এবং মহাসচিবের আশঙ্কা, এ অভিযানের জেরে অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।”

৫ ঘণ্টা আগে

নজিরবিহীন মার্কিন আগ্রাসন, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের শাসন শুরুর ঘোষণা

একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে এভাবে আটক করার ঘটনা নজিরবিহীন। তবে এই হামলা ও গ্রেপ্তার ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক মাসের তীব্র চাপ প্রয়োগের ধারাবাহিকতারই অংশ। গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার উপকূলে বড় আকারের নৌবহর মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক

৫ ঘণ্টা আগে