ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ৪৭

ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি রাজ্যের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে দেশটির সরকার। ভেনেজুয়েলা এই হামলাকে সামরিক আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছে। হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

একজন মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে হামলা চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টানা কয়েক মাসের হুমকির পর রাজধানী কারাকাস শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল।

ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, মিরান্দা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে মাদুরো জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করেছেন।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

খবর পাওয়া গেছে যে, একটি প্রধান সামরিক ঘাঁটির কাছে অবস্থিত রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি এলাকা বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।

রয়টার্স নিউজ এজেন্সি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানায়, শনিবার ভোরে কারাকাসে বিকট শব্দ শোনা গেছে।

অন্যদিকে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে যে, কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণ এবং নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমানের শব্দ শোনা গেছে। শহরের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা, যেখানে একটি বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভেনেজুয়েলা ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা মাদক পাচার দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে গত সপ্তাহে তার দেশে সিআইএ-র নেতৃত্বাধীন কথিত হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নীরবতা বজায় রেখেছেন।

গত বৃহস্পতিবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কিছুটা নমনীয় সুর প্রকাশ করেছেন, যদিও গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে।

তা সত্ত্বেও, মাদুরো পুনরায় অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের দখল নিতে এই নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করছে।

তিনি যোগ করেন, ‘যদি তারা তেল চায়, তবে ভেনেজুয়েলা মার্কিন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত, যেমনটি শেভরনের ক্ষেত্রে হয়েছে।’ উল্লেখ্য, শেভরন একমাত্র বড় মার্কিন তেল কোম্পানি যা ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করছে।

ভেনেজুয়েলার মাটিতে মার্কিন হামলার সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার করার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মাদুরো বলেন, ‘এটি এমন কিছু হতে পারে যা নিয়ে আমরা কয়েক দিন পর কথা বলব।’

মাদুরো আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র হুমকি, ভীতি এবং শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়।

মাদুরোর এই সাক্ষাৎকারটি ইংরেজি নববর্ষের প্রাক্কালে রেকর্ড করা হয়েছিল। ওই একই দিনে মার্কিন সামরিক বাহিনী মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচটি নৌকায় হামলা চালায়, যাতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন।

ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণা করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই হামলার ফলে ক্যারিবীয় সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌকায় হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫-এ এবং নিহতের সংখ্যা অন্তত ১১৫ জনে পৌঁছেছে। ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার নাগরিকরা এই হামলার শিকার হয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

হরমুজ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ট্রাম্পের

ইরান ও ওমানকে আলাদা করা এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হতো। এখন হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্পের নতুন ক্ষতিপূরণ দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

২০ ঘণ্টা আগে

এ শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপছে কলম্বিয়া, নিহত বেড়ে ১৩২

কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, চলতি একবিংশ শতাব্দীতে এটিই কলম্বিয়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

১ দিন আগে

৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে তছনছ কলম্বিয়ায় নিহত ১১১, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ

রিসারালদার প্রধান শহর পেরেইরায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শহরটিতে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরে বিভাগের অন্যান্য এলাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকে। আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে পেরেইরার একাধিক হাসপাতালও চাপের মুখে পড়ে।

১ দিন আগে

পরমাণু চুক্তির আশায় ‘গুঁড়ে বালি’, ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি হরমুজের দরজায়?

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরমাণু চুক্তি ছাড়াই সংঘাত শেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াকে যুদ্ধের বিজয় হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন তিনি। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিনিময়ে

২ দিন আগে