
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় নতুন এক উদ্বেগ সামনে এসেছে। বর্তমান ও সাবেক একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে আশঙ্কার কারণে পেন্টাগন সম্প্রতি ইসরায়েলকে ঘিরে পালটা-গোয়েন্দা (কাউন্টারইন্টেলিজেন্স) হুমকির মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
দুজন বর্তমান ও একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের খবরে বলা হয়, পেন্টাগনের গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একটি নতুন হুমকি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের জন্য কাউন্টারইন্টেলিজেন্স সতর্কতার মাত্রা ‘ক্রিটিক্যাল’ বা সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা এনবিসি নিউজকে জানান, ডিআইএর একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় এই সতর্কতা জারি করা হয়। এর পেছনে প্রধান উদ্বেগ হলো— ইসরায়েল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা, নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে পেন্টাগনের ধারণা।
এক কর্মকর্তা জানান, ডিআইএর মূল্যায়নে সাত পৃষ্ঠার একটি নথি ও একটি বিশ্লেষণাত্মক চার্ট রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মানব গোয়েন্দা (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স) এবং প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সক্ষমতা ‘ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে রয়েছে। নথিতে এমন কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনারও উল্লেখ রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে সেসব ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েল অবশ্য অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে— এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম শত্রুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়, মিত্রদের বিরুদ্ধে নয়।’
হোয়াইট হাউজও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পুরো প্রতিবেদনটি মিথ্যা এবং এমন একজন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।’
পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদারকি প্রতিষ্ঠান জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয় (ওডিএনআই) কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু দ্বন্দ্বের মধ্যেই নতুন উদ্বেগ
কর্মকর্তাদের মতে, এই বাড়তি সতর্কতার পেছনে শুধু গোয়েন্দা কার্যক্রম নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ক্রমবর্ধমান নীতিগত বিভাজনও ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ইরান যুদ্ধ ও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে একটি উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেন, আলোচনার সময় তিনি নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, যাতে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটানো যায়। কিন্তু ইসরায়েল প্রকাশ্যেই সন্দেহ প্রকাশ করেছে যে ইরান কোনো আলোচনার ফল মেনে চলবে কি না।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান সীমিত করার ট্রাম্পের আহ্বানের সঙ্গেও একমত নন।
বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করবেন নাকি সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তির দিকে এগোবেন— এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। আর সে কারণেই ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা বাড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
এই মূল্যায়নের বাস্তব প্রভাবও থাকতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েল সফর বা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মার্কিন কর্মকর্তাদের আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হতে পারে। তবে ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত দৈনন্দিন উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে আপাতত কোনো প্রভাব পড়েনি।
এক বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসরায়েল সফরে গেলে যুক্তরাষ্ট্র আগেই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে। তারা তথ্য সংগ্রহে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক— এটা সবারই জানা।’
পুরনো অবিশ্বাস, নতুন উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও গুপ্তচরবৃত্তি নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক গোয়েন্দা তৎপরতার অভিযোগ বহুদিনের।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল সফরের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। অনেক ক্ষেত্রে অস্থায়ী মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়, এমনকি হোটেল কক্ষে সংবেদনশীল আলোচনা থেকেও বিরত থাকা হয়।
ওয়াশিংটনের থিংকট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে’র প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমিলি হার্ডিং বলেন, ‘ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। তারা সবসময় জানতে চায় আমরা কী করছি।’
এই প্রসঙ্গে প্রায়ই উঠে আসে গত শতকের আশির দশকের জোনাথন পোলার্ড কেলেঙ্কারির কথা। মার্কিন নৌবাহিনীর এই গোয়েন্দা বিশ্লেষক গোপন নথিপত্র ইসরায়েলের কাছে সরবরাহ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং প্রায় ৩০ বছর কারাভোগ করেন। ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছিল।
অবশ্য শুধু ইসরায়েল নয়, যুক্তরাষ্ট্রও মিত্র দেশগুলোর ওপর নজরদারি চালিয়ে থাকে। ২০১৩ সালে এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা নথি থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় মিত্রদেরও নজরদারিতে রেখেছিল। ওই নথিগুলোতে প্রকাশ পায় যে তৎকালীন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের মোবাইল ফোনেও আঁড়ি পাতা হয়েছিল, যা জার্মানিতে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
সব বিতর্কের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনও ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে কয়েক দশক ধরে নিবিড় সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময় চলছে। তবে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে— যখন ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য নেই, এমন সময়ে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ দ্বিপাক্ষিক আস্থার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে কৌশলগত বিভাজন যত বাড়বে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহও তত গভীর হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় নতুন এক উদ্বেগ সামনে এসেছে। বর্তমান ও সাবেক একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে আশঙ্কার কারণে পেন্টাগন সম্প্রতি ইসরায়েলকে ঘিরে পালটা-গোয়েন্দা (কাউন্টারইন্টেলিজেন্স) হুমকির মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
দুজন বর্তমান ও একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের খবরে বলা হয়, পেন্টাগনের গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একটি নতুন হুমকি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের জন্য কাউন্টারইন্টেলিজেন্স সতর্কতার মাত্রা ‘ক্রিটিক্যাল’ বা সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা এনবিসি নিউজকে জানান, ডিআইএর একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় এই সতর্কতা জারি করা হয়। এর পেছনে প্রধান উদ্বেগ হলো— ইসরায়েল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা, নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে পেন্টাগনের ধারণা।
এক কর্মকর্তা জানান, ডিআইএর মূল্যায়নে সাত পৃষ্ঠার একটি নথি ও একটি বিশ্লেষণাত্মক চার্ট রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মানব গোয়েন্দা (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স) এবং প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সক্ষমতা ‘ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে রয়েছে। নথিতে এমন কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনারও উল্লেখ রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে সেসব ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েল অবশ্য অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে— এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম শত্রুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়, মিত্রদের বিরুদ্ধে নয়।’
হোয়াইট হাউজও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পুরো প্রতিবেদনটি মিথ্যা এবং এমন একজন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।’
পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদারকি প্রতিষ্ঠান জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয় (ওডিএনআই) কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু দ্বন্দ্বের মধ্যেই নতুন উদ্বেগ
কর্মকর্তাদের মতে, এই বাড়তি সতর্কতার পেছনে শুধু গোয়েন্দা কার্যক্রম নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ক্রমবর্ধমান নীতিগত বিভাজনও ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ইরান যুদ্ধ ও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে একটি উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেন, আলোচনার সময় তিনি নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, যাতে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটানো যায়। কিন্তু ইসরায়েল প্রকাশ্যেই সন্দেহ প্রকাশ করেছে যে ইরান কোনো আলোচনার ফল মেনে চলবে কি না।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান সীমিত করার ট্রাম্পের আহ্বানের সঙ্গেও একমত নন।
বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করবেন নাকি সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তির দিকে এগোবেন— এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। আর সে কারণেই ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা বাড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
এই মূল্যায়নের বাস্তব প্রভাবও থাকতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েল সফর বা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মার্কিন কর্মকর্তাদের আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হতে পারে। তবে ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত দৈনন্দিন উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে আপাতত কোনো প্রভাব পড়েনি।
এক বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসরায়েল সফরে গেলে যুক্তরাষ্ট্র আগেই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে। তারা তথ্য সংগ্রহে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক— এটা সবারই জানা।’
পুরনো অবিশ্বাস, নতুন উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও গুপ্তচরবৃত্তি নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক গোয়েন্দা তৎপরতার অভিযোগ বহুদিনের।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল সফরের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। অনেক ক্ষেত্রে অস্থায়ী মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়, এমনকি হোটেল কক্ষে সংবেদনশীল আলোচনা থেকেও বিরত থাকা হয়।
ওয়াশিংটনের থিংকট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে’র প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমিলি হার্ডিং বলেন, ‘ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। তারা সবসময় জানতে চায় আমরা কী করছি।’
এই প্রসঙ্গে প্রায়ই উঠে আসে গত শতকের আশির দশকের জোনাথন পোলার্ড কেলেঙ্কারির কথা। মার্কিন নৌবাহিনীর এই গোয়েন্দা বিশ্লেষক গোপন নথিপত্র ইসরায়েলের কাছে সরবরাহ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং প্রায় ৩০ বছর কারাভোগ করেন। ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছিল।
অবশ্য শুধু ইসরায়েল নয়, যুক্তরাষ্ট্রও মিত্র দেশগুলোর ওপর নজরদারি চালিয়ে থাকে। ২০১৩ সালে এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা নথি থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় মিত্রদেরও নজরদারিতে রেখেছিল। ওই নথিগুলোতে প্রকাশ পায় যে তৎকালীন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের মোবাইল ফোনেও আঁড়ি পাতা হয়েছিল, যা জার্মানিতে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
সব বিতর্কের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনও ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে কয়েক দশক ধরে নিবিড় সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময় চলছে। তবে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে— যখন ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য নেই, এমন সময়ে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ দ্বিপাক্ষিক আস্থার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে কৌশলগত বিভাজন যত বাড়বে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহও তত গভীর হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিজিৎ দীপকে সরাসরি যন্তর মন্তরে পৌঁছান। সাদা টি-শার্ট, কালো জ্যাকেট ও টুপি পরিহিত অভিজিতের হাতে ছিল ভারতীয় সংবিধানের অন্যতম রূপকার ভীমরাও আম্বেদকরের আত্মজীবনী।
১ দিন আগে
মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা সংক্রমণ অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে চলেছে। চলমান এই প্রাদুর্ভাবের বিস্তার ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় আঘাত হানা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা মহামারির আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। পশ্চিম আফ্রিকার সেই প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারেরও বেশি ম
১ দিন আগে
বৈরুত-তেল আবিব যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর, নিজেদের লেবানিজ মিত্র হিজবুল্লাহর প্রতি আবারও প্রকাশ্য ও জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে ইরান। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
১ দিন আগে
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট একটি যুদ্ধবিরতিরও আহবান জানান এবং চিঠিতে কিছু ক্ষেত্রে তিনি দৃঢ় অবস্থান দেখান আবার কিছু ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যের সুর ছিল বিদ্রূপাত্মক।
১ দিন আগে