যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১১: ২৮
ইরান যুদ্ধসহ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপ ঘিরে গত বছরের পর ‘নো কিংস’ আন্দোলন আবারও গতি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ ছবিটি গত অক্টোবরের, মেইন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড থেকে তোলা। ছবি: মেইন মর্নিং স্টার

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত অভিবাসন নীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বিশাল গণআন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। ‘নো কিংস’ নামক এই কর্মসূচিতে আজ শনিবার (২৮ মার্চ) দেশটির তিন হাজারেরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আয়োজকরা আশা করছেন, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার দিক থেকে এটি হতে যাচ্ছে আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিবাদী দিন।

বিবিসি ও সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই ‘নো কিংস’ আন্দোলন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ‘নো কিংস’ ব্যানার নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মার্কিনিরা। এবার শনিবার সম্মিলিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এ প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তার প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপকেই এবারের ‘নো কিংস’ বিক্ষোভের বিষয়বস্তু হিসেবে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে গুরুত্ব পাচ্ছে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ‘নো কিংস’ আয়োজন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পোস্টে জানানো হয়েছে, শনিবার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি এবং মিনিয়াপোলিস, শিকাগো ও সান ফ্রান্সিসকোতে বড় বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে। এমনকি ছোট অঙ্গরাজ্য ভারমন্টেও ৪০টির বেশি স্থানে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজ্যটিতে মাত্র ছয় লাখ ৪৬ হাজার মানুষ বাস করে।

এর আগে ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবর মাসেও ‘নো কিংস’ আন্দোলন হয়। তখন লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। আয়োজকদের দাবি, জুনে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ এবং অক্টোবরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নেয়। এবারের কর্মসূচিতে আগের দুবারের চেয়েও বেশি মানুষ অংশ নেবেন।

‘নো কিংস’ আন্দোলন কী, যেভাবে এর শুরু ও উত্থান

২০২৫ সালের জুনে সূত্রপাত ‘নো কিংস’ আন্দোলনের, যেখানে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অহিংস বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এর প্রধান লক্ষ্য ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তার প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক জনঅসন্তোষ প্রকাশ করা।

নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন, এলজিবিটিকিউ+ অধিকারভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন, প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠন ইন্ডিভিজিবল ও মুভঅন, শিক্ষক সংগঠন আমেরিকান ফেডারেশন অব টিচার্সের মতো বড় বড় সব সংগঠন ‘নো কিংস’ আন্দোলনের আয়োজক হিসেবে কাজ করছে, তবে এর একক কোনো নেতৃত্ব নেই।

গ্যালাপের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ জরিপে উঠে এসেছে, প্রতি তিনজন আমেরিকানের মধ্যে মাত্র একজন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট। চলতি মার্চেই ফক্স নিউজের আরেক জরিপে দেখা যায়, ১০ জনের মধ্যে ছয়জন আমেরিকানই ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি প্রয়োগের বিরোধিতা করছেন। একই সময়ে সিবিএসের জরিপে ১০ জনের মধ্যে ছয়জন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধেরও বিরোধিতা করেছেন।

গত অক্টোবরে ‘নো কিংস’ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে। ছবি: সংগৃহীত
গত অক্টোবরে ‘নো কিংস’ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে। ছবি: সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষ ঘিরেই ‘নো কিংস’ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। শুরু থেকেই এ আন্দোলন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরোধিতা করে আসছে। এ ছাড়া হোয়াইট হাউজের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের হুমকি, স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমানো ও পরিবেশ সুরক্ষামূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ বন্ধ করে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোকেও আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু করা ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিনিদের জনমত আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসবে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

হুতিদের ‘দখলে’ ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, হুমকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইয়েমেন সরকারের চারটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, মোখা দখলের মধ্য দিয়ে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর হুতিদের প্রভাব আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালির কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও হুতিরা হামলা চালাচ্ছে।

১৬ ঘণ্টা আগে

নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতলে প্রত্যেক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেবেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে যখন পণ্যের দাম বাড়ছে, যার পেছনে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে শুরু করা যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। ইরান এর পালটা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা

১৭ ঘণ্টা আগে

যুদ্ধে টিকতে না পেরে মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে মরিয়া ইরান: ট্রাম্প

ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নৌযানকে লক্ষ্য করে সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনায় আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

২১ ঘণ্টা আগে

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

আমেরিকান কর্মকর্তাদের মতে, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে সম্প্রতি পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত এক নাবিক নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। এর পরই মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা জোরদার করে ইরান।

২১ ঘণ্টা আগে
Advertisement