যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধে কিউবাজুড়ে তীব্র লোডশেডিং, অন্ধকারে পুরো দেশ

জ্বালানি সংকটের কারণে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় আবারও ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যার ঠিক আগে পুরো দ্বীপটি অন্ধকারে ডুবে যায়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
কিউবার রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইউনিয়ন ইলেক্ট্রিকা দে কিউবা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এর সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়া হলেও বছরের শুরু থেকে এ নিয়ে দেশটিতে চারবার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটল। ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যবর্তী শীতল যুদ্ধকালীন সময়ে নির্মিত কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কারণে দেশটিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়মিত ঘটনা হলেও এবারের সংকট ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সংকট তীব্র হওয়ার পেছনে মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলা আর কিউবাকে কোনো তেল বা অর্থ দেবে না। এরপর গত ২৯ জানুয়ারি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে কিউবায় জ্বালানি সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এই মার্কিন অবরোধের জেরে কার্যত কিউবার বিদেশি তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র একটি রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার সেখানে পৌঁছাতে পেরেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিউবা তার প্রয়োজনীয় তেলের মাত্র ৪০ শতাংশ নিজস্ব উৎস থেকে উৎপাদন করে এবং বাকি ৬০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির মোট শক্তির মাত্র ১৮ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই অব্যাহত জ্বালানি ঘাটতির ফলে কিউবার পরিবহনসহ গুরুত্বপূর্ণ গণসেবাগুলো বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়তে পারে।
রাজনীতি/এসআর

















