জন্মদিনে হোয়াইট হাউজে ‘খাঁচাবদ্ধ লড়াই’য়ের আয়োজন ট্রাম্পের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ১৫: ৩০
রোববার হোয়াইট হাউজের সাউথ লনে আয়োজিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ অনুষ্ঠানে ইউএফসির প্রধান নির্বাহী ডানা হোয়াইটের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ৮১তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করলেন এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে। রোববার (১৪ জুন) ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত একটি শান্তি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি হোয়াইট হাউজের লনে একটি পেশাদার ‘কেজ ফাইট’ বা খাঁচাবদ্ধ মল্লযুদ্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দিন ট্রাম্প আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপের (ইউএফসি) প্রধান নির্বাহী ডানা হোয়াইটকে সঙ্গে নিয়ে ওভাল অফিস থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে তিনি হোয়াইট হাউজের সাউথ লনে নির্মিত ‘দ্য ক্ল’ নামে পরিচিত বিশেষ অঙ্গনের দিকে যান।

অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ট্রাম্প ঐতিহাসিক ট্রুম্যান ব্যালকনিতে উঠে উপস্থিত জনতাকে স্যালুট জানান। তখন জাতীয় সংগীত বাজছিল এবং মার্কিন বিমানবাহিনীর ১২টি যুদ্ধবিমান হোয়াইট হাউজের আকাশে প্রদর্শনী উড্ডয়ন করে।

এরপর ট্রাম্প সাউথ লনে নিজের নির্ধারিত আসনে বসেন। সেখানে ‘অক্টাগন’ নামে পরিচিত জালঘেরা খাঁচার পাশে ১৪ জন মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) যোদ্ধা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। হোয়াইট হাউজের ইতিহাসে এটিই সেখানে অনুষ্ঠিত প্রথম কোনো পেশাদার ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।

ইরান চুক্তির ঘোষণায় বাড়তি উৎসব

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়া ট্রাম্পের জন্মদিনের আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করে ইরান-সংক্রান্ত একটি ঘোষণা। ‘কেজ ফাইট’ শুরুর আগে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।

দর্শকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
দর্শকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

রয়টার্স জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজের আবাসিক অংশ থেকে সরাসরি দেখা যায়— এমন দূরত্বে ইউএফসির আট কোণাবিশিষ্ট খাঁচা বা ‘অক্টাগন’ স্থাপন করা হয়েছে। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’।

‘দ্য ক্ল’তে জমকালো আয়োজন

প্রায় ৯২ ফুট (২৮ মিটার) উঁচু অস্থায়ী ভেন্যু ‘দ্য ক্ল’-এ অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতা দেখতে প্রায় চার হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বের পাঁচটি দেশের ১৪ জন যোদ্ধা এতে অংশ নেন। মূল আকর্ষণ ছিল ইউএফসি লাইটওয়েট চ্যাম্পিয়ন ইলিয়া তোপুরিয়া ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন চ্যাম্পিয়ন জাস্টিন গাথজের মধ্যকার পাঁচ রাউন্ডের লড়াই। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’-এ লাইটওয়েট শিরোপা লড়াইয়ের আগে ইলিয়া তোপুরিয়া ও জাস্টিন গাথজের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে অক্টাগন। ছবি: রয়টার্স
‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’-এ লাইটওয়েট শিরোপা লড়াইয়ের আগে ইলিয়া তোপুরিয়া ও জাস্টিন গাথজের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে অক্টাগন। ছবি: রয়টার্স

এই অনুষ্ঠানের টিকিট সাধারণ মানুষের জন্য বিক্রি করা হয়নি। আয়োজকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, যারা ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছেন, মূলত তাদের জন্যই টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দর্শকদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ছিলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য।

সমালোচনার মুখে আয়োজন

সরকারি জমিতে একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এমন আয়োজন করতে গিয়ে ট্রাম্প তার নির্বাহী ক্ষমতার ব্যাপক ব্যবহার করেছেন বলে সমালোচকদের অভিযোগ। এ নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জও করা হয়েছিল। পাশাপাশি আয়োজনের বিপুল ব্যয় এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ইউএফসির মূল প্রতিষ্ঠান ‘টিকেও গ্রুপ হোল্ডিংস’ একটি তালিকাভুক্ত পাবলিক কোম্পানি। রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এই আয়োজনকে উপযুক্ত বলে মনে করেন।

তবে গত শুক্রবার এক বিচারক এই আয়োজন বন্ধে করা আবেদন খারিজ করে দেন।

ট্রাম্প-ইউএফসি সম্পর্ক

ইউএফসির প্রধান ডানা হোয়াইট দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণা থেকেই তিনি ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে আসছেন।

ইউএফসি কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরো আয়োজনের পেছনে তারা ৬ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছে এবং এ থেকে কোনো মুনাফা করার পরিকল্পনা নেই। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ট্রাস্ট ইতোমধ্যে টিকেও গ্রুপ হোল্ডিংসের কিছু শেয়ার কিনেছে।

এ ছাড়া প্রেসিডেন্টের ছবি ও লাইসেন্স ব্যবহার করে ১২ হাজার ডলার মূল্যের বিশেষ স্মারক মুদ্রাও বাজারজাত করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ক্রিপ্টো ডটকম এর আগে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারত্বে কাজ করেছে।

যুদ্ধের চাপের মধ্যেই শান্তি চুক্তি

এমন এক সময়ে এই আয়োজন করা হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের কারণে চাপে ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং জনমত জরিপে প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষও প্রকাশ পেয়েছে।

তবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রথম এ তথ্য প্রকাশের পর ট্রাম্প নিজেও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ তিনি লেখেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি এখন সম্পন্ন হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালি কোনো টোল বা শুল্ক ছাড়াই উন্মুক্ত করার পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি।’

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা ৪ দেশের

এদিকে ইউরোপের চার দেশ— জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তেহরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তারা ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছে।

চার দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত।’

বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিকে নির্বিঘ্নভাবে উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

নেতানিয়াহু চুক্তিটিকে প্রায় ভেস্তে দিয়েছিলেন: ট্রাম্প

নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) একজন জটিল মানুষ। সত্যি বলতে, এর (চুক্তি) জন্য আমাদের কাছে তার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ, ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকত না।’

৬ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে স্বাগত বিশ্বনেতাদের, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা ৪ দেশের

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ নেতারা। তারা এই সমঝোতাকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

৬ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি চুক্তি, ট্রাম্প বললেন ‘এবার তেল সচল হোক!’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এতদ্বারা হরমুজ প্রণালি কোনো টোল বা শুল্ক ছাড়াই উন্মুক্ত করার পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি।’ বিশ্ববাসীর উদ্দেশে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। এবার তেল স

১০ ঘণ্টা আগে

ইউরেনিয়াম মজুত পাতলা করতে সম্মত হয়েছে ইরান: রয়টার্স

ইরানি এক কর্মকর্তার বরাতে রোববার (১৪ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ফের চালু, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

১ দিন আগে