হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের পথে

হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও বাড়ছে তেল পরিবহন। যুদ্ধ শুরুর পর যেখানে প্রতিদিন মাত্র কয়েকটি ট্যাংকার চলাচল করছিল, সেখানে বর্তমানে তেল পরিবহনের প্রবাহ ফিরে এসেছে যুদ্ধপূর্ব সময়ের প্রায় ৮০ শতাংশে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পথকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ইরান কি তার কৌশলগত প্রভাব হারাচ্ছে? তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের প্রধানতম পথ হলো হরমুজ প্রণালি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল এই জলপথ। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, যুদ্ধের তীব্রতায় তা কমে দাঁড়িয়েছিল হাতে গোনা কয়েকটি ট্যাংকারে।
তবে সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। পণ্যবাজার বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান 'কেপলার'-এর তথ্যানুযায়ী, হরমুজ দিয়ে বর্তমানে তেল প্রবাহ যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
তা সত্ত্বেও পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না। কারণ এই রুটে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোর বিমা মাশুল (ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম) এখনো অনেক বেশি এবং জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়ে গেছে। এমনকি গত মঙ্গলবারও হরমুজ প্রণালিতে তিনটি জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অবরোধের সার্বিক প্রভাবে চরম সংকটের মুখে পড়েছে ইরানের অর্থনীতি। দেশটির সরকারি তথ্যমতে, ২১ মার্চ থেকে ২০ জুনের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে তেল ও গ্যাস খাত সংকুচিত হয়েছে ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে প্রায় ৭০ শতাংশে।
অবশ্য এই অর্থনৈতিক চাপ কেবল ইরানের একার ওপর সীমাবদ্ধ নেই; যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে দেশটিতে ডিজেলের দাম রেকর্ড ৬ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছায়, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ৭০ শতাংশেরও বেশি।
তবে আশার বিষয় হলো, উভয় দেশের মধ্যকার এই অর্থনৈতিক চাপের কারণে নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো কাটে না ওঠায় হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কৌশলগত কর্তৃত্ব একেবারে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে না। ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান দর-কষাকষিতে এটি এখনো তেহরানের বড় হাতিয়ার বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।










-38a187.jpg)



