হরমুজে হামলা বেড়েছে, ২ সপ্তাহে আহত ১০০ মার্কিন সেনা: পেন্টাগন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
হরমুজ প্রণালিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ারে দায়িত্ব পালন করছেন মার্কিন নৌবাহিনীর এক সদস্য। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
হরমুজ প্রণালিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ারে দায়িত্ব পালন করছেন মার্কিন নৌবাহিনীর এক সদস্য। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপালটি হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। একই সঙ্গে গত ৭ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়, পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহে আহত হওয়া মার্কিন সেনাদের বেশির ভাগই হালকা ধরনের মস্তিষ্কে আঘাত (মাইনর কনকাশন) পেয়েছেন।

তবে সেনাদের আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশে মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ ধীরগতি দেখিয়েছে। তাদের দাবি, সেনা সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তথ্য প্রকাশে বিলম্ব করা হয়েছে।

যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের (ডিগনিফায়েড ট্রান্সফার) অনুষ্ঠান মঙ্গলবার হওয়ার কথা ছিল। তবে তা এক দিন পিছিয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা।

এই অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এর আগে গত কয়েক দিনে তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, এর মূল্য তেহরানকে দিতে হবে।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস, কেশম ও বেমানি জেলাসহ কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলেও। ব্রিটিশ সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার হামলার শিকার হওয়া একটি বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিকরা জাহাজ ছেড়ে লাইফবোটে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে। সোমবার মাত্র নয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, গত মে মাসের শুরু থেকে তারা প্রায় ৯০০টি বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহায়তা করেছে।

সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই দেখা যাচ্ছে। কুয়েত জানিয়েছে, রাতভর তারা কয়েকটি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। জর্ডানের দাবি, ইরানের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কয়েক ডজন মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান ইসরায়েলে পৌঁছেছে।

এ অবস্থায় কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন— এমন সম্ভাবনাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহারের একটি ‘পাইলট কর্মসূচি’ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের তিনটি গ্রামের নিয়ন্ত্রণ লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা কাঠামোর অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
হরমুজে হামলা বেড়েছে, ২ সপ্তাহে আহত ১০০ মার্কিন সেনা: পেন্টাগন