
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে নতুন করে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা’ ঘোষণা করা হবে। তবে ওয়াশিংটনের এই হুমকির মুখেও পিছু হটার ইঙ্গিত নেই ইরানের। বরং নতুন নিষেধাজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হতাশার বহির্প্রকাশ’ আখ্যা দিয়ে পালটা প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের বর্তমান পর্যায়টি এক ‘অদ্ভুত অবস্থা’য় পৌঁছেছে— সরাসরি হামলা আপাতত থেমে আছে; কিন্তু যুদ্ধ শেষ হয়নি, এগোচ্ছে না শান্তি আলোচনাও। এর মধ্যেই অর্থনৈতিক যুদ্ধকে আরও তীব্র করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগামীকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) ইরানের বিরুদ্ধে দেওয়া হবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠোরতম।
বেসেন্টের নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য শুধু ইরানের অর্থনীতি নয়, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোকেও চাপে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের লাইফলাইন’ দেওয়া দেশগুলোও অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে পারে।
এখানেই নতুন মার্কিন কৌশল বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে চাপে রাখার কৌশল বহু আগে থেকেই প্রয়োগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার ওয়াশিংটন চেষ্টা করছে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোকেও সেই চাপের আওতায় আনতে, বিশেষ করে চীনকে সহযোগিতায় রাজি করানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
চীন এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। ফলে ইরানের তেল বিক্রির প্রধান বাজারটিকে যদি ওয়াশিংটন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ অনেকটাই বাড়বে।
কিন্তু সমস্যা হলো, চীন এরই মধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কোনো সমাধান আনবে না এবং কূটনৈতিক পথেই সংকটের সমাধান করা উচিত। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধকে কার্যকর করতে ওয়াশিংটনকে শুধু তেহরানের সঙ্গে নয়, বেইজিংয়ের সঙ্গেও একটি কঠিন কূটনৈতিক লড়াইয়ে যেতে হবে।
ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপের বিপরীতে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘হাতিয়ার’ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হতো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হতেই ইরান কার্যত এই রুট বন্ধ করে দেয়। ফলে যুদ্ধ শুরুর পর এই রুটে জাহাজ চলাচল রাতারাতি শূন্যের কোটায় নেমে আসে। এরপর গত ছয় মাসে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় ইরানের সঙ্গে দেনদরবার করার চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হয়নি।
আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত পরিসরে শুরু হলেও নৌ পথটি মূলত নামেমাত্র চালু রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে।
তেহরান বলছে, অনুমোদনহীন তেলবাহী জাহাজকে এই জলপথে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রি বন্ধ করতে যত চাপ দিচ্ছে, তেহরানও তত বেশি হরমুজকে ব্যবহার করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করতে পারছে।
এটি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা। কারণ ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হলেও হরমুজের ভৌগোলিক গুরুত্ব দেশটিকে এমন একটি চাপ প্রয়োগের সুযোগ দেয়, যার প্রভাব শুধু ওয়াশিংটন বা তেহরানে সীমাবদ্ধ থাকে না— তা ছড়িয়ে পড়ে এশিয়া, ইউরোপ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত তেলের দামও ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে। ফলে হরমুজে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
ইরানকে এই চাপের মূল্য দিতেও হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অবকাঠামোর ক্ষতি ও দীর্ঘ সংঘাত দেশটির অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে দুর্বল করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা তেহরানকে পরাজিত করতে পারবে না। তার ভাষায়, আগের সামরিক পদক্ষেপ ব্যর্থ হওয়ার মতো নতুন অর্থনৈতিক চাপও ব্যর্থ হবে।
এখানেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কৌশলের মৌলিক পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়। ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা যত কমবে, তেহরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থানও তত দুর্বল হবে। অন্যদিকে ইরানের হিসাব— অর্থনৈতিক ক্ষতি সহ্য করেও যদি তারা হরমুজ, তেল সরবরাহ ও আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে চাপ ধরে রাখতে পারে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলেই ফিরতে হবে।
অর্থাৎ এখন শুধু নিষেধাজ্ঞা বা আর্থিক চাপের লড়াই নয়, কে বেশি সময় ধরে চাপ সহ্য করতে পারে— সেই লড়াইও চলছে।
চলমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সোমবার তেহরান সফর করবেন বলে জানিয়েছে ইরান ও পাকিস্তান। তার এ সফর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতসময় সম্পর্ক বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং হুতিদের বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
পাকিস্তান শুরু থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত এপ্রিলে ইসলামাবাদে তারা সফলভাবে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পেরেছিল। ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সে আলোচনায় দুই দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সরাসরি দীর্ঘ আলোচনা হলেও অবশ্য শেষ পর্যন্ত তা চূড়ান্ত কোনো ফল বয়ে আনেনি।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরপরও পাকিস্তান চেষ্টা থামিয়ে রাখেনি। নতুন করে আবার তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে আসিম মুনিরের সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সফর নয়, এটি সরাসরি সংঘাতের বাইরে একটি কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতার স্মারকলিপিই অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার সবচেয়ে ভালো পথ হতে পারে। অর্থাৎ তেহরান একদিকে কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের ভাষা ব্যবহার করছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক দরজাটিও পুরোপুরি বন্ধ করছে না।
চলমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কি ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে, নাকি তেহরান আরও কঠোর পালটা ব্যবস্থা নেবে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি চীন মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে ইরানের তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তাহলে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে। আবার হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম ও বৈশ্বিক পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে, যার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোকেও।
আর যদি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হরমুজ ঘিরে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ে, তাহলে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা এই ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ পরিস্থিতি আবার পূর্ণমাত্রার সংঘাতে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।
তাই সোমবারের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা শুধু ইরানের অর্থনীতির জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তেহরানকে নত করতে চাইছে, আর তেহরান দেখাতে চাইছে— অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হলেও কৌশলগতভাবে এখনো তাদের হাতে এমন কিছু অস্ত্র আছে, যার অভিঘাত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও বহন করতে হবে।
এ কারণেই সামনে আসা লড়াইটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে চীন, পাকিস্তান, হরমুজ প্রণালি ও পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের হিসাব।

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে নতুন করে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা’ ঘোষণা করা হবে। তবে ওয়াশিংটনের এই হুমকির মুখেও পিছু হটার ইঙ্গিত নেই ইরানের। বরং নতুন নিষেধাজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হতাশার বহির্প্রকাশ’ আখ্যা দিয়ে পালটা প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের বর্তমান পর্যায়টি এক ‘অদ্ভুত অবস্থা’য় পৌঁছেছে— সরাসরি হামলা আপাতত থেমে আছে; কিন্তু যুদ্ধ শেষ হয়নি, এগোচ্ছে না শান্তি আলোচনাও। এর মধ্যেই অর্থনৈতিক যুদ্ধকে আরও তীব্র করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগামীকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) ইরানের বিরুদ্ধে দেওয়া হবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠোরতম।
বেসেন্টের নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য শুধু ইরানের অর্থনীতি নয়, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোকেও চাপে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের লাইফলাইন’ দেওয়া দেশগুলোও অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে পারে।
এখানেই নতুন মার্কিন কৌশল বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে চাপে রাখার কৌশল বহু আগে থেকেই প্রয়োগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার ওয়াশিংটন চেষ্টা করছে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোকেও সেই চাপের আওতায় আনতে, বিশেষ করে চীনকে সহযোগিতায় রাজি করানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
চীন এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। ফলে ইরানের তেল বিক্রির প্রধান বাজারটিকে যদি ওয়াশিংটন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ অনেকটাই বাড়বে।
কিন্তু সমস্যা হলো, চীন এরই মধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কোনো সমাধান আনবে না এবং কূটনৈতিক পথেই সংকটের সমাধান করা উচিত। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধকে কার্যকর করতে ওয়াশিংটনকে শুধু তেহরানের সঙ্গে নয়, বেইজিংয়ের সঙ্গেও একটি কঠিন কূটনৈতিক লড়াইয়ে যেতে হবে।
ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপের বিপরীতে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘হাতিয়ার’ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হতো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হতেই ইরান কার্যত এই রুট বন্ধ করে দেয়। ফলে যুদ্ধ শুরুর পর এই রুটে জাহাজ চলাচল রাতারাতি শূন্যের কোটায় নেমে আসে। এরপর গত ছয় মাসে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় ইরানের সঙ্গে দেনদরবার করার চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হয়নি।
আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত পরিসরে শুরু হলেও নৌ পথটি মূলত নামেমাত্র চালু রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে।
তেহরান বলছে, অনুমোদনহীন তেলবাহী জাহাজকে এই জলপথে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রি বন্ধ করতে যত চাপ দিচ্ছে, তেহরানও তত বেশি হরমুজকে ব্যবহার করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করতে পারছে।
এটি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা। কারণ ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হলেও হরমুজের ভৌগোলিক গুরুত্ব দেশটিকে এমন একটি চাপ প্রয়োগের সুযোগ দেয়, যার প্রভাব শুধু ওয়াশিংটন বা তেহরানে সীমাবদ্ধ থাকে না— তা ছড়িয়ে পড়ে এশিয়া, ইউরোপ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত তেলের দামও ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে। ফলে হরমুজে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
ইরানকে এই চাপের মূল্য দিতেও হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অবকাঠামোর ক্ষতি ও দীর্ঘ সংঘাত দেশটির অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে দুর্বল করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা তেহরানকে পরাজিত করতে পারবে না। তার ভাষায়, আগের সামরিক পদক্ষেপ ব্যর্থ হওয়ার মতো নতুন অর্থনৈতিক চাপও ব্যর্থ হবে।
এখানেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কৌশলের মৌলিক পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়। ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা যত কমবে, তেহরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থানও তত দুর্বল হবে। অন্যদিকে ইরানের হিসাব— অর্থনৈতিক ক্ষতি সহ্য করেও যদি তারা হরমুজ, তেল সরবরাহ ও আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে চাপ ধরে রাখতে পারে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলেই ফিরতে হবে।
অর্থাৎ এখন শুধু নিষেধাজ্ঞা বা আর্থিক চাপের লড়াই নয়, কে বেশি সময় ধরে চাপ সহ্য করতে পারে— সেই লড়াইও চলছে।
চলমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সোমবার তেহরান সফর করবেন বলে জানিয়েছে ইরান ও পাকিস্তান। তার এ সফর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতসময় সম্পর্ক বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং হুতিদের বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
পাকিস্তান শুরু থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত এপ্রিলে ইসলামাবাদে তারা সফলভাবে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পেরেছিল। ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সে আলোচনায় দুই দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সরাসরি দীর্ঘ আলোচনা হলেও অবশ্য শেষ পর্যন্ত তা চূড়ান্ত কোনো ফল বয়ে আনেনি।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরপরও পাকিস্তান চেষ্টা থামিয়ে রাখেনি। নতুন করে আবার তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে আসিম মুনিরের সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সফর নয়, এটি সরাসরি সংঘাতের বাইরে একটি কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতার স্মারকলিপিই অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার সবচেয়ে ভালো পথ হতে পারে। অর্থাৎ তেহরান একদিকে কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের ভাষা ব্যবহার করছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক দরজাটিও পুরোপুরি বন্ধ করছে না।
চলমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কি ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে, নাকি তেহরান আরও কঠোর পালটা ব্যবস্থা নেবে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি চীন মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে ইরানের তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তাহলে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে। আবার হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম ও বৈশ্বিক পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে, যার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোকেও।
আর যদি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হরমুজ ঘিরে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ে, তাহলে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা এই ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ পরিস্থিতি আবার পূর্ণমাত্রার সংঘাতে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।
তাই সোমবারের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা শুধু ইরানের অর্থনীতির জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তেহরানকে নত করতে চাইছে, আর তেহরান দেখাতে চাইছে— অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হলেও কৌশলগতভাবে এখনো তাদের হাতে এমন কিছু অস্ত্র আছে, যার অভিঘাত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও বহন করতে হবে।
এ কারণেই সামনে আসা লড়াইটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে চীন, পাকিস্তান, হরমুজ প্রণালি ও পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের হিসাব।

তবে অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্সের মোট আইনি খরচ কতটা বাদীদের দিতে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অযৌক্তিক হিসেবে বিবেচিত খরচের বিষয়ে আদালত আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই খরচ নির্ধারণ করা হবে।
১ দিন আগে
জাতিসংঘের পাওনা ৪০০ কোটি ডলারের বেশি বকেয়া অর্থের একটি অংশ পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘকে ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেবে। এ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসকেও অবহিত করা হয়েছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা।
১ দিন আগে
ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস শুক্রবার (২১ আগস্ট) এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিনি বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্টের জানুয়ারিতে ঘোষিত এই নীতি ছিল ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। এটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থি। কারণ, ওই আইনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি ক
১ দিন আগে
দীর্ঘদিনের মিত্র কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটির প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের কিছু পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক দিনের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করেছে। শনিবার থেকে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
১ দিন আগে