প্রেসিডেন্টকে আর চায় না দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীনরা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের প্রধান সতর্ক করেছেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল যদি ক্ষমতায় থাকেন, তাহলে দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারে। তাই, তিনি অবিলম্বে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব স্থগিত করার আহ্বান জানান।

পিপলস পাওয়ার পার্টির (পিপিপি) নেতা হান দুং-হুন শুক্রবার এক জরুরি বৈঠকে বলেন, তার দল বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেয়েছে যে মঙ্গলবার রাতে সামরিক আইন জারি করার সময় প্রেসিডেন্ট ইউন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদদের রাষ্ট্রবিরোধিতার অভিযোগে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তার সঙ্গে বিকেলে প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ হতে পারে বলে জানায় বিবিসি। তবে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। বিবিসি সর্বশেষ খবরে জানায়, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল যেকোনো সময় জাতীয় সংসদে পৌঁছাতে পারেন। প্রবেশদ্বারে গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় রয়েছে। আর ভেতরে বিরোধী সদস্যরা অভিশংসনের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন।

ক্ষমতাসীন দল প্রেসিডেন্টের অভিশংসন আটকে দেবে, প্রথমে এমনটি বললেও এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন হান দুং-হুন। বিরোধীরা গত বুধবার সংসদে ওই অভিশংসন প্রস্তাব পেশ করে।

মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট ইউন সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৯০ জন সংসদ সদস্য দ্রুত সংসদে ঢুকে ভোট দিয়ে সামরিক আইন বাতিল করেন।

শুক্রবার হান উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে ইউন ক্ষমতায় থাকলে তিনি ফের সামরিক আইন জারি করার মতো চরম পদক্ষেপ নিতে পারেন। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড কোরিয়া ও কোরিয়ার জনগণের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

হান আরও জানান, তাদের দল জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তার বিরোধী রাজনীতিবিদদের দেশটির রাজধানী সিউলের দক্ষিণে গওয়াচনের একটি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রাখার পরিকল্পনা ছিল।

তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেল, খন প্রেসিডেন্টের নিজের দল হয়তো বিরোধী দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিতে পারে।

এদিকে, ক্ষমতাসীন দলের পার্লামেন্ট সদস্য চো কিয়ুং-তায় প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট ইউনের অভিশংসনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, আশা করি পিপলস পাওয়ার পার্টির সব রাজনীতিবিদ জনগণের পক্ষে অবস্থান নেবেন।

সিউলে টানা দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্ট ইউনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই বিক্ষোভের বিষয়ে তদন্ত করছে।

স্থানীয় জরিপকারী প্রতিষ্ঠান রিয়েলমিটারের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১০ জনের মাঝে সাতজনের বেশি দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের পক্ষে।

অভিশংসন প্রস্তাব পাস করতে ২০০ ভোট প্রয়োজন। বিরোধীদের হাতে ১৯২টি আসন রয়েছে। অর্থাৎ, প্রস্তাব পাস করার জন্য তাদের ক্ষমতাসীন দল থেকে মাত্র আটজনের ভোট প্রয়োজন। ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যের সংখ্যা ১০৮ জন।

সূত্র:বিবিসি

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ওমান উপকূলে জাহাজে রহস্যজনক হামলা, উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালি

ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে দক্ষিণমুখী ওই ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায় বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।

৬ ঘণ্টা আগে

ন্যাটো সম্মেলনের আগে ইউক্রেনে রুশ হামলা, নিহত ২০

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পূর্বসতর্কবার্তাকে সত্য প্রমাণিত করে রুশ বাহিনী রাতভর প্রায় ৪ শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। একদিকে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান ‘মানুষের ভাবনার চেয়েও কাছাকাছি’, ঠিক তখনই মস্কোর এই রেকর্ড

৬ ঘণ্টা আগে

গাজার শাসনকার্যে থাকছে না হামাস, প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা

প্রায় দুই দশক ধরে গাজা উপত্যকার বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করে আসা নিজেদের সরকারি কাঠামো বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এতে উপত্যকাটির বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাট কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার পথ আরও সুগম হলো।

১৯ ঘণ্টা আগে

রাখাইনের বিভিন্ন শহরের নাম বদলের প্রস্তুতি আরাকান আর্মির

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের (শহর) মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণে থাকা জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) কয়েকটি শহরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজ সোমবার দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবদির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২১ ঘণ্টা আগে