ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা আরও ১০ দিন পেছালেন ট্রাম্প

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আরও ১০ দিন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তেহরানের অনুরোধে এবং আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও এমন কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।

মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই ওয়াশিংটন এই আল্টিমেটাম ও স্থগিতের দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইরানের অনুরোধে তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের সময়সীমা ১০ দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ‘আলোচনা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে,’ যদিও এ ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।

এই ঘোষণাটি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশ্বে তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালাবেন। পরে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র কথা বলে তিনি প্রথমে ৫ দিনের জন্য সময় বাড়ান, আর এবার সেটি দ্বিতীয়বারের মতো আরও বাড়ানো হলো।

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সরাসরি সামরিক প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্ত না থাকে।

বর্তমান সংঘাতটি শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এরপর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে ‘চুক্তির জন্য মিনতি করছে,’ যদিও তেহরান তা অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে—তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে আক্রমণ বাড়ানো হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আলোচনা চলার দাবি, অন্যদিকে সামরিক হুমকি—এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এমনকি মার্কিন গণমাধ্যমে ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের কথাও উঠে এসেছে, যা বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।

বর্তমান সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক এই সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরানের পক্ষে ‘যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত’ হুতিরা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র হলে ইরানের পক্ষে মাঠে নামতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। তারা জানিয়েছে, যুদ্ধ করার মতো পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

১২ ঘণ্টা আগে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব পেয়েও রাজি হইনি— অদ্ভুত দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছল, তবে তাতে রাজি হয়নি। ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এমন অদ্ভুত দাবি করেন, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

১৭ ঘণ্টা আগে

পাকিস্তানের অনুরোধে দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে ‘হিট-লিস্ট’ থেকে সরাল ইসরায়েল

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন,‘আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আসা এবং আমাদের পক্ষ থেকে নিজেদের অবস্থান জানানো বা প্রয়োজনীয় সতর্কতা জারি করাকে আলোচনা বা সংলাপ বলা যায় না।’

১৮ ঘণ্টা আগে

আইআরজিসির নৌপ্রধান তাংসিরিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। আলিরেজা তাংসিরি হরমুজ প্রণালি বন্ধের জন্য দায়ী ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

১৮ ঘণ্টা আগে