ইতালির বিক্ষোভে সহিংসতায় আহত ১৫০ পুলিশ, আটক ২ শতাধিক

ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি ও করের চাপ এবং জনসেবার অবনতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সপ্তাহান্তে সহিংস রূপ নিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১৫০ সদস্য আহত হয়েছেন। শুধু মিলানেই দুই শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে।
গার্ডিয়ান ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় উত্তরাঞ্চলীয় শহর মিলানে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) শুরু হওয়া বিক্ষোভ রোববারও (১৮ অক্টোবর) ছড়িয়ে পড়ে শহরের কেন্দ্রীয় দুয়োমো চত্বরে।
শহরটিতে মুখোশধারী একদল তরুণ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও আতশবাজি ছোড়ে। বিভিন্ন দোকান ও সুপারমার্কেটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। কোথাও কোথাও আবর্জনার স্তূপ, স্কুটার ও সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসা জানিয়েছে, রোববারের দাঙ্গায় মিলানে ২৭১ জনকে পুলিশ সদর দপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের মধ্যে ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। এর বাইরে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার এবং আরও ২৮ জনকে প্রসিকিউটরের কাছে পাঠানো হয়েছে। শনিবারের সংঘর্ষে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতিরোধ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে তাদের আটক রাখার আবেদনও করেছে মিলানের প্রসিকিউটর কার্যালয়।
এর আগে শনিবার মিলান, তুরিন, বোলোনিয়া, ব্রেশিয়া ও বার্গামোতে বড় বিক্ষোভ হয়। পুলিশি হিসাবে শুধু মিলানেই প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেন। তুরিনে তিন হাজার, বোলোনিয়ায় দুই হাজার এবং ব্রেশিয়া ও বার্গামোতে কয়েক শ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শনিবারের সংঘর্ষে দেশ জুড়ে ১৪১ পুলিশ সদস্য আহত ও ২৮ জন গ্রেপ্তার হন।
বিক্ষোভের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো, মজুরি বৃদ্ধির ব্যবস্থা, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষা ও অন্যান্য জনসেবায় ব্যয় বাড়ানো। কিছু বিক্ষোভে যুদ্ধ ও সামরিক ব্যয়ের বিরোধিতার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির স্লোগানও ছিল। তবে মূল বিক্ষোভটি ছিল অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে।
সহিংসতার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার স্বীকার করলেও শহর ধ্বংস, দোকান লুট কিংবা পুলিশের ওপর হামলাকে মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার তিনি শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেছেন, বিক্ষোভের পেছনে থাকা মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষোভের কারণগুলো অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু ভাঙচুর, লুটপাট ও পুলিশের ওপর হামলা সেই দাবিকে আড়াল করে দিচ্ছে।
ইতালির এই অস্থিরতা ইউরোপ জুড়ে বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত ক্ষোভের সঙ্গেও মিল রয়েছে। ফ্রান্সেও একই সময়ে মূল্যবৃদ্ধি ও জনসেবা নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। ফলে ইতালির পরিস্থিতি এখন শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ নয়, ইউরোপের বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষের নতুন বহির্প্রকাশ হিসেবেও সামনে এসেছে।



















