
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ভুল নিশানার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সবই ব্যবহার করে ফেলেছে। এতে ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (অ্যাটাকমস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম)। দুটি সূত্রের ভাষ্য, এসব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ‘প্রায় সবই’ ইতোমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
দূরপাল্লার এসব নির্ভুল নিশানার অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিরাপদ দূরত্ব থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে এগুলো ব্যবহার করা হয়। তবে অ্যাটাকমস ও পিআরএসএমের মজুত কতটা কমে গেছে, সে বিষয়ে এর আগে কখনো কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অ্যাটাকমস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে পিআরএসএম নতুন প্রজন্মের আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা অ্যাটাকমসের তুলনায় সর্বোচ্চ ২০০ কিলোমিটার বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটির দাম ১০ লাখ ডলারেরও বেশি এসব ক্ষেপণাস্ত্র চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কতগুলো অ্যাটাকমস ও পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি সূত্রগুলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। তখন তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, সংঘাতটি অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হবে।
কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিপক্ষকে প্রতিরোধ করার যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চতুর্থ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) যুদ্ধ শুরুর আগে তাদের হাতে থাকা ভূমিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় শেষ করে ফেলেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত থেকে নতুন করে অস্ত্র এনে সেই ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সব সূত্রই পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দিয়েছেন।
ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউজ ট্রাম্পের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে তিনি বলেন, “বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, এমনকি আমাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই মুহূর্তে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গোলাবারুদ উৎপাদন করছে। একই সঙ্গে রেকর্ড পরিমাণে কারখানা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, কামানের গোলাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণে উৎপাদিত হচ্ছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের তুলনায় সেই মজুত এখনও অনেক কম হতে পারে।
অ্যাটাকমস, পিআরএসএম এবং টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাতা লকহিড মার্টিন ট্রাম্পের বক্তব্য কিংবা অস্ত্রের মজুত নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি। একইভাবে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা রেথিয়নও কোনো মন্তব্য করেনি।
মন্তব্যের অনুরোধের জবাবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট যে সময় ও স্থানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা তাদের রয়েছে। আমরা বিভিন্ন সামরিক কমান্ড এলাকায় সফলভাবে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছি এবং একই সঙ্গে জনগণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্রভান্ডারও বজায় রেখেছি।”
গত এক সপ্তাহ ধরে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতসংক্রান্ত এসব তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগ রয়েছে— ইরানে আর কতদিন হামলা চালানো সম্ভব, যাতে অন্য কোনো সংকটে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো পর্যায়ে অস্ত্রের মজুত নেমে না যায়।
একটি সূত্র জানিয়েছে, অ্যাটাকমস ও পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত কাজ করেছে। তারা ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি— যেমন যুদ্ধবিমান দিয়ে বোমা ফেলা— এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা চীনের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এসব ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত কার্যকর হবে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মার্চ মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রেও এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, পিআরএসএম তুলনামূলক নতুন অস্ত্র হওয়ায় এর মজুত শুরু থেকেই কম ছিল। তবে ২০২৭ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিপুলসংখ্যক পিআরএসএম কেনার অর্ডার দিয়েছে। সেনাবাহিনী আগেই জানিয়েছে, অ্যাটাকমসের উৎপাদন ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে এবং এর পরিবর্তে নতুন পিআরএসএম উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে।
দুটি সূত্র জানিয়েছে, সামরিক কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে আসছিলেন যে, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্যাট্রিয়ট অত্যন্ত কার্যকর।
গত সপ্তাহে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, সামরিক উপদেষ্টাদের সতর্কবার্তার কারণেই ট্রাম্প ইরানের ভেতরে আরেকটি বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।
তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপের কারণেই ট্রাম্প নতুন হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন পর্যন্ত কংগ্রেসে যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের আবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
গত সপ্তাহে সিএসআইএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৬৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। একই সময়ে থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার মজুত যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় অন্তত ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। প্যাট্রিয়ট ও থাড— দুটিই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করার অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব মজুতের তথ্য যাচাই করতে না পারলেও, দুটি সূত্র জানিয়েছে, সিএসআইএসের উল্লেখ করা সংখ্যাগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অভ্যন্তরীণ তথ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে।
একটি সূত্র আরও জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈশ্বিক মজুতের অর্ধেকের কিছু কম টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করে ফেলেছে। সাধারণত এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজ থেকে নিক্ষেপ করা হয়। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
টমাহক যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। এটি ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার ও সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয় এবং পাইলটদের ঝুঁকিতে না ফেলে শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার প্রধান মাধ্যম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এদিকে রেথিয়নের মূল প্রতিষ্ঠান আরটিএক্স এবং পেন্টাগনের মধ্যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে একটি বহু-বছর মেয়াদি প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আরও কয়েক ধরনের গোলাবারুদের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ভুল নিশানার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সবই ব্যবহার করে ফেলেছে। এতে ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (অ্যাটাকমস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম)। দুটি সূত্রের ভাষ্য, এসব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ‘প্রায় সবই’ ইতোমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
দূরপাল্লার এসব নির্ভুল নিশানার অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিরাপদ দূরত্ব থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে এগুলো ব্যবহার করা হয়। তবে অ্যাটাকমস ও পিআরএসএমের মজুত কতটা কমে গেছে, সে বিষয়ে এর আগে কখনো কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অ্যাটাকমস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে পিআরএসএম নতুন প্রজন্মের আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা অ্যাটাকমসের তুলনায় সর্বোচ্চ ২০০ কিলোমিটার বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটির দাম ১০ লাখ ডলারেরও বেশি এসব ক্ষেপণাস্ত্র চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কতগুলো অ্যাটাকমস ও পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি সূত্রগুলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। তখন তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, সংঘাতটি অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হবে।
কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিপক্ষকে প্রতিরোধ করার যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চতুর্থ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) যুদ্ধ শুরুর আগে তাদের হাতে থাকা ভূমিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় শেষ করে ফেলেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত থেকে নতুন করে অস্ত্র এনে সেই ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সব সূত্রই পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দিয়েছেন।
ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউজ ট্রাম্পের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে তিনি বলেন, “বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, এমনকি আমাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই মুহূর্তে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গোলাবারুদ উৎপাদন করছে। একই সঙ্গে রেকর্ড পরিমাণে কারখানা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, কামানের গোলাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণে উৎপাদিত হচ্ছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের তুলনায় সেই মজুত এখনও অনেক কম হতে পারে।
অ্যাটাকমস, পিআরএসএম এবং টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাতা লকহিড মার্টিন ট্রাম্পের বক্তব্য কিংবা অস্ত্রের মজুত নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি। একইভাবে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা রেথিয়নও কোনো মন্তব্য করেনি।
মন্তব্যের অনুরোধের জবাবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট যে সময় ও স্থানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা তাদের রয়েছে। আমরা বিভিন্ন সামরিক কমান্ড এলাকায় সফলভাবে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছি এবং একই সঙ্গে জনগণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্রভান্ডারও বজায় রেখেছি।”
গত এক সপ্তাহ ধরে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতসংক্রান্ত এসব তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগ রয়েছে— ইরানে আর কতদিন হামলা চালানো সম্ভব, যাতে অন্য কোনো সংকটে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো পর্যায়ে অস্ত্রের মজুত নেমে না যায়।
একটি সূত্র জানিয়েছে, অ্যাটাকমস ও পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত কাজ করেছে। তারা ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি— যেমন যুদ্ধবিমান দিয়ে বোমা ফেলা— এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা চীনের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এসব ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত কার্যকর হবে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মার্চ মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রেও এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, পিআরএসএম তুলনামূলক নতুন অস্ত্র হওয়ায় এর মজুত শুরু থেকেই কম ছিল। তবে ২০২৭ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিপুলসংখ্যক পিআরএসএম কেনার অর্ডার দিয়েছে। সেনাবাহিনী আগেই জানিয়েছে, অ্যাটাকমসের উৎপাদন ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে এবং এর পরিবর্তে নতুন পিআরএসএম উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে।
দুটি সূত্র জানিয়েছে, সামরিক কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে আসছিলেন যে, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্যাট্রিয়ট অত্যন্ত কার্যকর।
গত সপ্তাহে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, সামরিক উপদেষ্টাদের সতর্কবার্তার কারণেই ট্রাম্প ইরানের ভেতরে আরেকটি বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।
তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপের কারণেই ট্রাম্প নতুন হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন পর্যন্ত কংগ্রেসে যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের আবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
গত সপ্তাহে সিএসআইএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৬৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। একই সময়ে থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার মজুত যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় অন্তত ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। প্যাট্রিয়ট ও থাড— দুটিই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করার অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব মজুতের তথ্য যাচাই করতে না পারলেও, দুটি সূত্র জানিয়েছে, সিএসআইএসের উল্লেখ করা সংখ্যাগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অভ্যন্তরীণ তথ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে।
একটি সূত্র আরও জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈশ্বিক মজুতের অর্ধেকের কিছু কম টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করে ফেলেছে। সাধারণত এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজ থেকে নিক্ষেপ করা হয়। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
টমাহক যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। এটি ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার ও সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয় এবং পাইলটদের ঝুঁকিতে না ফেলে শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার প্রধান মাধ্যম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এদিকে রেথিয়নের মূল প্রতিষ্ঠান আরটিএক্স এবং পেন্টাগনের মধ্যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে একটি বহু-বছর মেয়াদি প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আরও কয়েক ধরনের গোলাবারুদের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব ঘটনায় আল-জাজিরার প্রতিবেদনকে ‘বাছাই করা’ ও ‘বিকৃত উপস্থাপন’ বলে অভিযোগ করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, মুজাফফরাবাদের কয়েকটি নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্র থেকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ সাক্ষাৎকার ও নির্দিষ্ট সময়ের ফুটেজ ব্যবহার করে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) নির্ব
১৬ ঘণ্টা আগে
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আলোচিত অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে।
২০ ঘণ্টা আগে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
১ দিন আগে
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট লি দাবদাহে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
১ দিন আগে