
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিজয়ে আশান্বিত যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কাছে জামায়াত এরই মধ্যে নিজেদের ‘মধ্যপন্থি ইসলামী দল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আগামী নির্বাচনে এই জামায়াতকেই যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়। বন্ধু হিসেবে তাদের পাশেও পেতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে শরিয়া আইন চালু করবে না। আর যদি যুক্তরাষ্ট্রের কথা না শুনে সেটি করেও, তাহলে শুল্ক আরোপসহ বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিকের সঙ্গে এক সাংবাদিকের কথোপকথনের ফাঁস হওয়া অডিওর সূত্র ধরে এসব তথ্য জানিয়েছে দেড় শ বছরের পুরনো প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে এ প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল’ জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসের সেরা নির্বাচনি ফল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা যাচ্ছে, এ অবস্থায় দলটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা।
ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, অতীতে একাধিকবার নিষিদ্ধ হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ওপর সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে। কঠোর হাতে দেশ চালানো এই নেত্রীর শাসনামলেই দলটি রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে কোণঠাসা ছিল। ঐতিহ্যগতভাবে শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ও নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে সন্তান পালনের দায়িত্ব পালনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দলটি সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের ভাবমূর্তি কিছুটা বদলানোর চেষ্টা করছে। তারা বলছে, এখন তাদের মূল লক্ষ্য দুর্নীতি দূর করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্রুত বদলে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকরা ইসলামপন্থি এই পুনরুত্থানশীল দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী— এমন ইঙ্গিত মিলেছে। গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ‘ইসলামঘেঁষা’ হয়ে উঠেছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ফলাফল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হবে।
এক অডিও রেকর্ডিংয়ে ওই কূটনীতিককে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।’ তিনি বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, জামায়াতের প্রভাবশালী ছাত্রসংগঠনের নেতাদের কি তারা নিজেদের অনুষ্ঠানে আনতে পারবেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন? তারা কি আপনার অনুষ্ঠানে আসবে?’
নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করেনি। তিনি জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন চাপিয়ে দেবে— এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেন। বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথেষ্ট চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। আমি একেবারেই বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়া চাপিয়ে দিতে পারবে। দলটির নেতারা উদ্বেগজনক এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র পরদিনই তাদের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করতে পারে।
এ বিষয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই বলেন, ডিসেম্বরের ওই আলোচনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি নিয়মিত, অফ দ্য রেকর্ড বৈঠক। তিনি জানান, সেখানে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রসঙ্গ উঠে আসে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না। বাংলাদেশের জনগণ যে সরকার নির্বাচন করবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গেই কাজ করবে।
জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকে করা মন্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে আমরা মন্তব্য করতে চাই না।’
ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, অপ্রকাশিত এসব মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের দৃষ্টিভঙ্গির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তার অধীনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ বাড়ানোর এই প্রয়াস ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করেন আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সংঘাত, রাশিয়ার তেল কেনা, অমীমাংসিত বাণিজ্য চুক্তি ও বহু ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপ— এসব কারণে দুই দেশের সম্পর্ক এমনিতেই নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
কুগেলম্যান বলেন, ‘জামায়াত বরাবরই ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়।’ ভারতের দৃষ্টিতে দলটি পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ এবং তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের জন্য হুমকি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে ‘তাৎপর্যপূর্ণ কোনো প্রভাব’ ফেলবে না। তার মতে, ঢাকা ও নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিজ নিজ ভিত্তিতেই দাঁড়িয়ে আছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হায় বাংলাদেশ। এরপর থেকেই বাংলাদেশ নানা ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। সামরিক অভ্যুত্থান, স্বৈরশাসন এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পালাক্রমে শাসনে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে টালমাটাল রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের পাশাপাশি চীন ও ভারতের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করাও বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় আড়াই হাজার মাইল। দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে প্রায় তলানিতে।
ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেন। গত নভেম্বরে একটি বাংলাদেশি ট্রাইব্যুনাল তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড সাজা দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও ভারত তাকে এখনো প্রত্যর্পণ করেনি।
ডিসেম্বরের বৈঠকে ওই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, শেখ হাসিনার দণ্ডাদেশ ‘রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত চতুর’ সিদ্ধান্ত। তিনি স্বীকার করেন, ট্রাইব্যুনালটি ‘মুক্ত ও ন্যায্য’ ছিল না, তবে তার ভাষ্য, ‘তিনি দোষী ছিলেন এবং তারা তাদের ম্যান্ডেটের মধ্যেই তা প্রমাণ করেছে, যা ছিল চমকপ্রদ।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের কাছে বিক্ষোভকারীদের হামলার পর ভারত সেখানে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করে। জবাবে বাংলাদেশও নয়াদিল্লিতে তাদের দূতাবাসে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
অন্তর্বর্তী সরকার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রস্তুতি নিতে চাচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউনূস বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ একটি পরিবার, আমাদের একে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে— ১২ ফেব্রুয়ারির আগে বা পরে নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ভালো ফল করার সম্ভাবনা প্রবল। ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুবাশশির হাসানের ভাষায়, ‘এখন জামায়াত মূলধারায়।’
জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, দলটি দুর্নীতিবিরোধী, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং শরিয়া আইন চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
এ নির্বাচনে জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। দলটি জিতলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে বিএনপির এক সূত্র জানায়, তিনি মনে করেন জামায়াত ভালো ফল করলেও সম্ভাব্য সরকারে তাদের নেওয়া হবে না। তবে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহী। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে জামায়াত শরিক ছিল।
শেখ হাসিনার পতনের পর জামায়াত নেতারা ওয়াশিংটনে চারটি বৈঠক করেছেন এবং ঢাকায়ও কয়েক দফা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানান মোহাম্মদ রহমান। তিনি বলেন, দলটির শীর্ষ নেতা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গেও ভার্চুয়ালি কথা বলেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এসব বৈঠক নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা ঢাকার বৈঠকগুলোকে ‘নিয়মিত কূটনৈতিক কার্যক্রম’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ডিসেম্বরে ঢাকায় ওই বৈঠকে মার্কিন কূটনীতিক জানান, জামায়াত ছাড়াও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো অন্যান্য রক্ষণশীল ইসলামপন্থি দলের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর কথা ভাবছে দূতাবাস।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক, যেন প্রয়োজনে ফোন তুলে বলতে পারি— তোমরা যা বলেছ, এর পরিণতি কী হবে।’
তবে জামায়াত ক্ষমতায় গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নীতি নিলে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ রপ্তানি পোশাকনির্ভর। নারীদের কাজ থেকে সরিয়ে দিলে বা শরিয়া আইন চাপিয়ে দিলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো অর্ডার বন্ধ করে দেবে। তখন বাংলাদেশের অর্থনীতিও টিকবে না।
তবে ওই কূটনীতিকের মতে, ‘জামায়াত এগুলো করবে না। দেশে অনেক শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান মানুষ আছে। আমরা তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দেব, কী হলে কী পরিণতি হবে।’
তবু বিশ্লেষকদের মতে, এতে ভারতের উদ্বেগ কমবে না। ভারত ২০১৯ সালে কাশ্মীরে জামায়াতে ইসলামীর শাখাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং ২০২৪ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করে।
মাইকেল কুগেলম্যানের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ক যদি ভালো থাকত, তাহলে হয়তো ওয়াশিংটন ভারতের উদ্বেগের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতো। কিন্তু সম্পর্ক যখন এতটা নড়বড়ে, তখন মার্কিন কর্মকর্তারা ভারতীয় উদ্বেগকে ততটা গুরুত্ব না-ও দিতে পারেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিজয়ে আশান্বিত যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কাছে জামায়াত এরই মধ্যে নিজেদের ‘মধ্যপন্থি ইসলামী দল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আগামী নির্বাচনে এই জামায়াতকেই যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়। বন্ধু হিসেবে তাদের পাশেও পেতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে শরিয়া আইন চালু করবে না। আর যদি যুক্তরাষ্ট্রের কথা না শুনে সেটি করেও, তাহলে শুল্ক আরোপসহ বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিকের সঙ্গে এক সাংবাদিকের কথোপকথনের ফাঁস হওয়া অডিওর সূত্র ধরে এসব তথ্য জানিয়েছে দেড় শ বছরের পুরনো প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে এ প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল’ জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসের সেরা নির্বাচনি ফল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা যাচ্ছে, এ অবস্থায় দলটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা।
ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, অতীতে একাধিকবার নিষিদ্ধ হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ওপর সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে। কঠোর হাতে দেশ চালানো এই নেত্রীর শাসনামলেই দলটি রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে কোণঠাসা ছিল। ঐতিহ্যগতভাবে শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ও নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে সন্তান পালনের দায়িত্ব পালনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দলটি সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের ভাবমূর্তি কিছুটা বদলানোর চেষ্টা করছে। তারা বলছে, এখন তাদের মূল লক্ষ্য দুর্নীতি দূর করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্রুত বদলে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকরা ইসলামপন্থি এই পুনরুত্থানশীল দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী— এমন ইঙ্গিত মিলেছে। গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ‘ইসলামঘেঁষা’ হয়ে উঠেছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ফলাফল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হবে।
এক অডিও রেকর্ডিংয়ে ওই কূটনীতিককে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।’ তিনি বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, জামায়াতের প্রভাবশালী ছাত্রসংগঠনের নেতাদের কি তারা নিজেদের অনুষ্ঠানে আনতে পারবেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন? তারা কি আপনার অনুষ্ঠানে আসবে?’
নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করেনি। তিনি জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন চাপিয়ে দেবে— এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেন। বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথেষ্ট চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। আমি একেবারেই বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়া চাপিয়ে দিতে পারবে। দলটির নেতারা উদ্বেগজনক এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র পরদিনই তাদের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করতে পারে।
এ বিষয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই বলেন, ডিসেম্বরের ওই আলোচনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি নিয়মিত, অফ দ্য রেকর্ড বৈঠক। তিনি জানান, সেখানে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রসঙ্গ উঠে আসে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না। বাংলাদেশের জনগণ যে সরকার নির্বাচন করবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গেই কাজ করবে।
জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকে করা মন্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে আমরা মন্তব্য করতে চাই না।’
ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, অপ্রকাশিত এসব মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের দৃষ্টিভঙ্গির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তার অধীনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ বাড়ানোর এই প্রয়াস ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করেন আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সংঘাত, রাশিয়ার তেল কেনা, অমীমাংসিত বাণিজ্য চুক্তি ও বহু ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপ— এসব কারণে দুই দেশের সম্পর্ক এমনিতেই নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
কুগেলম্যান বলেন, ‘জামায়াত বরাবরই ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়।’ ভারতের দৃষ্টিতে দলটি পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ এবং তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের জন্য হুমকি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে ‘তাৎপর্যপূর্ণ কোনো প্রভাব’ ফেলবে না। তার মতে, ঢাকা ও নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিজ নিজ ভিত্তিতেই দাঁড়িয়ে আছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হায় বাংলাদেশ। এরপর থেকেই বাংলাদেশ নানা ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। সামরিক অভ্যুত্থান, স্বৈরশাসন এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পালাক্রমে শাসনে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে টালমাটাল রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের পাশাপাশি চীন ও ভারতের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করাও বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় আড়াই হাজার মাইল। দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে প্রায় তলানিতে।
ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেন। গত নভেম্বরে একটি বাংলাদেশি ট্রাইব্যুনাল তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড সাজা দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও ভারত তাকে এখনো প্রত্যর্পণ করেনি।
ডিসেম্বরের বৈঠকে ওই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, শেখ হাসিনার দণ্ডাদেশ ‘রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত চতুর’ সিদ্ধান্ত। তিনি স্বীকার করেন, ট্রাইব্যুনালটি ‘মুক্ত ও ন্যায্য’ ছিল না, তবে তার ভাষ্য, ‘তিনি দোষী ছিলেন এবং তারা তাদের ম্যান্ডেটের মধ্যেই তা প্রমাণ করেছে, যা ছিল চমকপ্রদ।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের কাছে বিক্ষোভকারীদের হামলার পর ভারত সেখানে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করে। জবাবে বাংলাদেশও নয়াদিল্লিতে তাদের দূতাবাসে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
অন্তর্বর্তী সরকার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রস্তুতি নিতে চাচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউনূস বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ একটি পরিবার, আমাদের একে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে— ১২ ফেব্রুয়ারির আগে বা পরে নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ভালো ফল করার সম্ভাবনা প্রবল। ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুবাশশির হাসানের ভাষায়, ‘এখন জামায়াত মূলধারায়।’
জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, দলটি দুর্নীতিবিরোধী, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং শরিয়া আইন চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
এ নির্বাচনে জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। দলটি জিতলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে বিএনপির এক সূত্র জানায়, তিনি মনে করেন জামায়াত ভালো ফল করলেও সম্ভাব্য সরকারে তাদের নেওয়া হবে না। তবে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহী। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে জামায়াত শরিক ছিল।
শেখ হাসিনার পতনের পর জামায়াত নেতারা ওয়াশিংটনে চারটি বৈঠক করেছেন এবং ঢাকায়ও কয়েক দফা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানান মোহাম্মদ রহমান। তিনি বলেন, দলটির শীর্ষ নেতা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গেও ভার্চুয়ালি কথা বলেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এসব বৈঠক নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা ঢাকার বৈঠকগুলোকে ‘নিয়মিত কূটনৈতিক কার্যক্রম’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ডিসেম্বরে ঢাকায় ওই বৈঠকে মার্কিন কূটনীতিক জানান, জামায়াত ছাড়াও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো অন্যান্য রক্ষণশীল ইসলামপন্থি দলের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর কথা ভাবছে দূতাবাস।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক, যেন প্রয়োজনে ফোন তুলে বলতে পারি— তোমরা যা বলেছ, এর পরিণতি কী হবে।’
তবে জামায়াত ক্ষমতায় গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নীতি নিলে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ রপ্তানি পোশাকনির্ভর। নারীদের কাজ থেকে সরিয়ে দিলে বা শরিয়া আইন চাপিয়ে দিলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো অর্ডার বন্ধ করে দেবে। তখন বাংলাদেশের অর্থনীতিও টিকবে না।
তবে ওই কূটনীতিকের মতে, ‘জামায়াত এগুলো করবে না। দেশে অনেক শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান মানুষ আছে। আমরা তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দেব, কী হলে কী পরিণতি হবে।’
তবু বিশ্লেষকদের মতে, এতে ভারতের উদ্বেগ কমবে না। ভারত ২০১৯ সালে কাশ্মীরে জামায়াতে ইসলামীর শাখাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং ২০২৪ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করে।
মাইকেল কুগেলম্যানের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ক যদি ভালো থাকত, তাহলে হয়তো ওয়াশিংটন ভারতের উদ্বেগের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতো। কিন্তু সম্পর্ক যখন এতটা নড়বড়ে, তখন মার্কিন কর্মকর্তারা ভারতীয় উদ্বেগকে ততটা গুরুত্ব না-ও দিতে পারেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দেশ নিজ নিজ সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর আওতায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বোর্ডে যোগদানের নথিতে সই করবে। এর মধ্যে মিসর, পাকিস্তান ও ইউএই আগেই এই উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি জানিয়েছে।
১ দিন আগে
আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় এ বছরও অংশ নিতে পারছেন না বাংলাদেশের প্রকাশকরা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই বইমেলায় বাংলাদেশের কোনো প্যাভিলিয়ন থাকছে না বলে নিশ্চিত করেছে আয়োজকরা।
২ দিন আগে
সুইজারল্যান্ডে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেন, "নিয়মবিহীন এক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব।
২ দিন আগে
বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিনিয়াপলিস, যেখানে গত ৭ জানুয়ারি এক অভিবাসন অভিযানের সময় রেনি গুডকে তার গাড়ি থেকে টেনে বের করে গুলি করা হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা ‘নো আইস, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করেন।
২ দিন আগে