
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে উত্তর আটলান্টিক জোটের (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এই সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোটভুক্ত দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ আরও জোরদার করেছেন। ট্রাম্পের এ চাপের প্রেক্ষাপটে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সম্মেলনে কয়েক বিলিয়ন ডলারের নতুন সামরিক চুক্তি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে।
গত বছরের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণে সম্মত হয়। এর মধ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সরাসরি সামরিক খাতে এবং ১ দশমিক ৫ শতাংশ নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৫ সালে কোন দেশ কত ব্যয় করছে?
২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ন্যাটোর সব সদস্য দেশই এখন জিডিপির অন্তত ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে পোল্যান্ড, জিডিপির ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে লিথুয়ানিয়া (৪ শতাংশ), লাটভিয়া (৩ দশমিক ৭ শতাংশ), এস্তোনিয়া (৩ দশমিক ৪ শতাংশ), ডেনমার্ক (৩ দশমিক ৩ শতাংশ), নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্র (উভয়ই ৩ দশমিক ২ শতাংশ)।
ফিনল্যান্ড ব্যয় করছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, গ্রিস ২ দশমিক ৮ শতাংশ, নেদারল্যান্ডস ২ দশমিক ৬ শতাংশ, সুইডেন ২ দশমিক ৫ শতাংশ, জার্মানি ২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং তুরস্ক ও যুক্তরাজ্য উভয়ই ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, লুক্সেমবার্গ, উত্তর মেসিডোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, ফ্রান্স ও মন্টিনেগ্রো প্রত্যেকেই ব্যয় করছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। আর স্লোভেনিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ইতালি, আলবেনিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, পর্তুগাল ও স্পেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশ।
এসব দেশের মধ্যে পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া, ডেনমার্ক, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, রোমানিয়া ও চেকিয়া জাতীয় আইন বা রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিবছর জিডিপির অন্তত ২ শতাংশ বা তার বেশি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
কারা অংশ নিচ্ছেন, কী নিয়ে আলোচনা?
এবারের সম্মেলনে ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নিচ্ছেন।
এ ছাড়া জোটের বাইরের দুই দেশের নেতা— ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংও উপস্থিত রয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও নিউজিল্যান্ড প্রতিরক্ষামন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। একইভাবে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে থাকা উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও প্রতিনিধি পাঠিয়েছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না। তবে আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ন্যাটো মিত্রদের কাছে ট্রাম্পের চাওয়া কী?
প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা থেকেই ট্রাম্প ন্যাটোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, জোটের ব্যয়ের বড় অংশ অন্যায্যভাবে যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হচ্ছে। সে সময় মাত্র পাঁচটি দেশ জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছিল।
যৌথ প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে ট্রাম্পের চাপের ফলে গত কয়েক বছরে ন্যাটো সদস্যরা প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জার্মান মার্শাল ফান্ডের তুরস্কবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ওজগুর উনলুহিসারচিকলি মনে করেন, এবারের সম্মেলনের মূল গুরুত্ব থাকবে গত বছরের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের ওপর।
তিনি বলেন, ‘গত বছর হেগে ন্যাটো মিত্ররা প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করার পদক্ষেপও নিয়েছে। এবার আঙ্কারায় আলোচনা হবে, কীভাবে এই ব্যয়কে বাস্তব সামরিক সক্ষমতায় রূপ দেওয়া যায়। সে কারণে এবারের সম্মেলন গত বছরের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ।’
তবে গ্লোবাল পলিসি ইনস্টিটিউটের সভাপতি পাওলো ফন শিরাখের মতে, বাড়তি ব্যয়ের সুফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ‘বেশি সামরিক সরঞ্জামের অর্ডার দেওয়া মানেই তা দ্রুত হাতে পাওয়া নয়। আপনি অনেক অর্থ ব্যয় করতে পারেন, কিন্তু তার বিনিময়ে অল্প ফলও পেতে পারেন।’
ইউক্রেন কী চায়?
ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য নয়। তবে বুধবার প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
সোমবার সকালে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হন। রাশিয়ার হামলা বাড়তে থাকার এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাইবেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক জ্যাক ওয়াটলিং বলেন, ইউক্রেন চায় ন্যাটো সদস্যদের রাজনৈতিক ও সামরিক-প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকুক, যাতে রাশিয়ার কাছে এই বার্তা যায় যে পশ্চিমা সমর্থন থেমে যাবে না।
তার ভাষায়, উদ্দেশ্য হলো রাশিয়াকে দেখানো যে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার সক্ষমতা কমে যাবে না।
ওয়াটলিং বলেন, ‘ইউক্রেনকে যত বেশি ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করা হবে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়া তত কম ক্ষতি করতে পারবে।’
ইউরোপের লক্ষ্য কী?
সম্মেলনে ইউরোপীয় দেশগুলো যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক চুক্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছে, অনেক বিশ্লেষকের মতে, তা ট্রাম্প প্রশাসনকে সন্তুষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলো অংশ না নেওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি তাদের অর্থ চান না, চান শুধু ‘আনুগত্য’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান আয়োজক না হলে তিনি হয়তো এই সম্মেলনেই অংশ নিতেন না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক শুধু প্রতিরক্ষা ব্যয়ই বাড়ায়নি, ন্যাটোর অন্যতম বড় সামরিক রপ্তানিকারক দেশেও পরিণত হয়েছে।
এদিকে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। সম্মেলনের আগের দিন ট্রাম্প জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয়কে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। এর জবাবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস বলেন, নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এর চেয়ে বড় উদ্যোগ দেশটি আগে কখনো নেয়নি।
অন্যদিকে শুধু বক্তব্যেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো থেকে ধাপে ধাপে যুদ্ধবিমান, ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে।
এ বিষয়ে জ্যাক ওয়াটলিং বলেন, ইউরোপে মার্কিন পদাতিক বাহিনী বা সাঁজোয়া ইউনিট কমে গেলে তার প্রভাব মূলত রাজনৈতিক বার্তায় পড়বে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান শক্তি প্রত্যাহার হলে তার বাস্তব সামরিক প্রভাব অনেক বেশি হবে।
ন্যাটো কি ঐক্য ধরে রাখতে পারবে?
বিশ্লেষকদের মতে, নানা মতপার্থক্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানোর ঘোষণার মধ্যেও ন্যাটো নিজেদের ঐক্য তুলে ধরতে পারে কি না, সেটিই এবারের সম্মেলনের অন্যতম বড় প্রশ্ন।
গ্লোবাল পলিসি ইনস্টিটিউটের সভাপতি পাওলো ফন শিরাখ বলেন, ‘এই সম্মেলনের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব রাজনৈতিক। এটি দেখায়, মিত্র দেশগুলো এখনও আলোচনা করছে, এখনও একসঙ্গে বসছে এবং এখনও ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে— যদিও তাদের ভেতরের মতপার্থক্য ও সংশয় পুরোপুরি দূর হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আঙ্কারা সম্মেলনের মূল লক্ষ্য তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন আনা নয়; বরং মিত্রদের আশ্বস্ত করা এবং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া।’

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে উত্তর আটলান্টিক জোটের (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এই সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোটভুক্ত দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ আরও জোরদার করেছেন। ট্রাম্পের এ চাপের প্রেক্ষাপটে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সম্মেলনে কয়েক বিলিয়ন ডলারের নতুন সামরিক চুক্তি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে।
গত বছরের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণে সম্মত হয়। এর মধ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সরাসরি সামরিক খাতে এবং ১ দশমিক ৫ শতাংশ নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৫ সালে কোন দেশ কত ব্যয় করছে?
২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ন্যাটোর সব সদস্য দেশই এখন জিডিপির অন্তত ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে পোল্যান্ড, জিডিপির ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে লিথুয়ানিয়া (৪ শতাংশ), লাটভিয়া (৩ দশমিক ৭ শতাংশ), এস্তোনিয়া (৩ দশমিক ৪ শতাংশ), ডেনমার্ক (৩ দশমিক ৩ শতাংশ), নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্র (উভয়ই ৩ দশমিক ২ শতাংশ)।
ফিনল্যান্ড ব্যয় করছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, গ্রিস ২ দশমিক ৮ শতাংশ, নেদারল্যান্ডস ২ দশমিক ৬ শতাংশ, সুইডেন ২ দশমিক ৫ শতাংশ, জার্মানি ২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং তুরস্ক ও যুক্তরাজ্য উভয়ই ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, লুক্সেমবার্গ, উত্তর মেসিডোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, ফ্রান্স ও মন্টিনেগ্রো প্রত্যেকেই ব্যয় করছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। আর স্লোভেনিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ইতালি, আলবেনিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, পর্তুগাল ও স্পেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশ।
এসব দেশের মধ্যে পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া, ডেনমার্ক, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, রোমানিয়া ও চেকিয়া জাতীয় আইন বা রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিবছর জিডিপির অন্তত ২ শতাংশ বা তার বেশি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
কারা অংশ নিচ্ছেন, কী নিয়ে আলোচনা?
এবারের সম্মেলনে ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নিচ্ছেন।
এ ছাড়া জোটের বাইরের দুই দেশের নেতা— ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংও উপস্থিত রয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও নিউজিল্যান্ড প্রতিরক্ষামন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। একইভাবে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে থাকা উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও প্রতিনিধি পাঠিয়েছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না। তবে আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ন্যাটো মিত্রদের কাছে ট্রাম্পের চাওয়া কী?
প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা থেকেই ট্রাম্প ন্যাটোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, জোটের ব্যয়ের বড় অংশ অন্যায্যভাবে যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হচ্ছে। সে সময় মাত্র পাঁচটি দেশ জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছিল।
যৌথ প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে ট্রাম্পের চাপের ফলে গত কয়েক বছরে ন্যাটো সদস্যরা প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জার্মান মার্শাল ফান্ডের তুরস্কবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ওজগুর উনলুহিসারচিকলি মনে করেন, এবারের সম্মেলনের মূল গুরুত্ব থাকবে গত বছরের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের ওপর।
তিনি বলেন, ‘গত বছর হেগে ন্যাটো মিত্ররা প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করার পদক্ষেপও নিয়েছে। এবার আঙ্কারায় আলোচনা হবে, কীভাবে এই ব্যয়কে বাস্তব সামরিক সক্ষমতায় রূপ দেওয়া যায়। সে কারণে এবারের সম্মেলন গত বছরের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ।’
তবে গ্লোবাল পলিসি ইনস্টিটিউটের সভাপতি পাওলো ফন শিরাখের মতে, বাড়তি ব্যয়ের সুফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ‘বেশি সামরিক সরঞ্জামের অর্ডার দেওয়া মানেই তা দ্রুত হাতে পাওয়া নয়। আপনি অনেক অর্থ ব্যয় করতে পারেন, কিন্তু তার বিনিময়ে অল্প ফলও পেতে পারেন।’
ইউক্রেন কী চায়?
ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য নয়। তবে বুধবার প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
সোমবার সকালে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হন। রাশিয়ার হামলা বাড়তে থাকার এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাইবেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক জ্যাক ওয়াটলিং বলেন, ইউক্রেন চায় ন্যাটো সদস্যদের রাজনৈতিক ও সামরিক-প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকুক, যাতে রাশিয়ার কাছে এই বার্তা যায় যে পশ্চিমা সমর্থন থেমে যাবে না।
তার ভাষায়, উদ্দেশ্য হলো রাশিয়াকে দেখানো যে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার সক্ষমতা কমে যাবে না।
ওয়াটলিং বলেন, ‘ইউক্রেনকে যত বেশি ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করা হবে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়া তত কম ক্ষতি করতে পারবে।’
ইউরোপের লক্ষ্য কী?
সম্মেলনে ইউরোপীয় দেশগুলো যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক চুক্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছে, অনেক বিশ্লেষকের মতে, তা ট্রাম্প প্রশাসনকে সন্তুষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলো অংশ না নেওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি তাদের অর্থ চান না, চান শুধু ‘আনুগত্য’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান আয়োজক না হলে তিনি হয়তো এই সম্মেলনেই অংশ নিতেন না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক শুধু প্রতিরক্ষা ব্যয়ই বাড়ায়নি, ন্যাটোর অন্যতম বড় সামরিক রপ্তানিকারক দেশেও পরিণত হয়েছে।
এদিকে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। সম্মেলনের আগের দিন ট্রাম্প জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয়কে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। এর জবাবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস বলেন, নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এর চেয়ে বড় উদ্যোগ দেশটি আগে কখনো নেয়নি।
অন্যদিকে শুধু বক্তব্যেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো থেকে ধাপে ধাপে যুদ্ধবিমান, ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে।
এ বিষয়ে জ্যাক ওয়াটলিং বলেন, ইউরোপে মার্কিন পদাতিক বাহিনী বা সাঁজোয়া ইউনিট কমে গেলে তার প্রভাব মূলত রাজনৈতিক বার্তায় পড়বে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান শক্তি প্রত্যাহার হলে তার বাস্তব সামরিক প্রভাব অনেক বেশি হবে।
ন্যাটো কি ঐক্য ধরে রাখতে পারবে?
বিশ্লেষকদের মতে, নানা মতপার্থক্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানোর ঘোষণার মধ্যেও ন্যাটো নিজেদের ঐক্য তুলে ধরতে পারে কি না, সেটিই এবারের সম্মেলনের অন্যতম বড় প্রশ্ন।
গ্লোবাল পলিসি ইনস্টিটিউটের সভাপতি পাওলো ফন শিরাখ বলেন, ‘এই সম্মেলনের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব রাজনৈতিক। এটি দেখায়, মিত্র দেশগুলো এখনও আলোচনা করছে, এখনও একসঙ্গে বসছে এবং এখনও ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে— যদিও তাদের ভেতরের মতপার্থক্য ও সংশয় পুরোপুরি দূর হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আঙ্কারা সম্মেলনের মূল লক্ষ্য তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন আনা নয়; বরং মিত্রদের আশ্বস্ত করা এবং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া।’

ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে দক্ষিণমুখী ওই ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায় বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
৮ ঘণ্টা আগে
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পূর্বসতর্কবার্তাকে সত্য প্রমাণিত করে রুশ বাহিনী রাতভর প্রায় ৪ শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। একদিকে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান ‘মানুষের ভাবনার চেয়েও কাছাকাছি’, ঠিক তখনই মস্কোর এই রেকর্ড
৮ ঘণ্টা আগে
প্রায় দুই দশক ধরে গাজা উপত্যকার বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করে আসা নিজেদের সরকারি কাঠামো বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এতে উপত্যকাটির বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাট কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার পথ আরও সুগম হলো।
২০ ঘণ্টা আগে
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের (শহর) মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণে থাকা জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) কয়েকটি শহরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজ সোমবার দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবদির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে