জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে আটকে দিয়েও ২৫ রানে হারল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশের উইকেট পতনে জিম্বাবুয়ের উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত

নাহিদ রানা ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করলেন। কেবল নিজের ক্যারিয়ারের নয়, তার ২১ রানে ৬ উইকেট ওয়ানডেতে বাংলাদেশেরই সেরা বোলিং ফিগার। তাতে ১৪১ রানেই অলআউট জিম্বাবুয়ে। মনে হচ্ছিল, একমাত্র টেস্টের ব্যর্থতা ফেলে ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দল।

কিন্তু না! ওয়ানডে ম্যাচে ১৪১ রান চেজ করতে নেমে নিদারুণ ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন ব্যাটাররা। দুই অঙ্কের রান পেলেন মাত্র তিনজন— তৌহিদ হৃদয় (৫৮ বলে ২৫), নুরুল হাসান সোহান (৪৪ ব ৩১) আর মেহেদি হাসান মিরাজ (১৮ বলে ১০)। তাতে শেষ পর্যন্ত ৩৩ ওভার ১ বলে মাত্র ১১৬ রানে অলআউট হলো বাংলাদেশ। হেরে গেল ২৫ রানে।

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুরে জিম্বাবুয়ের হারারে স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ে ওয়ানডে সিরিজে লক্ষ্য ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। ম্যাচটা তেমন ইঙ্গিতেই শুরু হয়েছিল।

টসে জিতে বোলিং বেছে নেন টাইগার ক্যাপ্টেন মেহেদি হাসান মিরাজ। জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট আর বেন কারান দেখেশুনে শুরু করেন। ৬ ওভার ৪ বলে ৩৬ রান তুলেও ফেলেন দুজন। সপ্তম ওভারেই জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ছন্দপতন আর বাংলাদেশি বোলারদের দাপট শুরু।

তাসকিনের করা বল মিড-অফে ঠেলে দিয়েই রান নিতে গিয়েছিলেন কারান। সেখানে দাঁড়ানো মিরাজ ডিরেক্ট থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, তখনো ক্রিজে পৌঁছাতে পারেননি কারান, আউট হয়ে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে।

ওই ওভারের শেষ বলেই তাসকিনের করা শর্ট বল স্ল্যাশ করতে গিয়েছিলেন বেনেট। সেটি শেষ পর্যন্ত গিয়ে জমা হয় মোসাদ্দেকের হাতে। এক ওভার পরেই নবম ওভারের প্রথম বলটি ফের শর্ট লেন্থে ফেলেন তাসকিন। ক্রেইগ আরভিন ফ্লিক করতে গিয়ে লাইন মিস করেন, বল আঘাত করে মিডল স্টাম্পের ওপরের দিকে। মাত্র ১০ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় জিম্বাবুয়ে।

এর পরের গল্পটা ক্যারিয়ারের ১৪তম ওডিআই খেলতে নামা নাহিদ রানার। ইনিংসের দশম ওভারে প্রথম বল পেয়েছিলেন। প্রথম দুই ওভার টাইট লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বল করলে রান আটকে রেখেছিলেন, কিন্তু সাফল্য মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত উইকেট মিলল তার ব্যক্তিগত তৃতীয় ও দলীয় চতুর্দশ ওভারের প্রথম বলেই।

নাহিদের করা শর্ট লেন্থে বল পড়ে লাফিয়ে উঠেছিল অনেকটা। সিকান্দার রাজা জায়গায় দাঁড়িয়ে অফসাইড রিং পার করে দেওয়ার জন্য শট খেলেছিলেন। ব্যাটের কানায় লেগে সেটি গিয়ে জমা হয় উইকেটরক্ষক সোহানের হাতে। পরের ওভারেই আবার উইকেট। এবারও নাহিদের ব্যাক অব লেন্থ থেকে উঠে যাওয়া বাউন্সার খেলতে বাধ্য হন ওয়েসলি মাধভিয়ার। সেটি ব্যাটের কানায় লেগে জমা হয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে।

নাহিদকে থামানো যায়নি পরের ওভারেও। এবারে ফুল লেন্থের খানিকটা ওয়াইড লাইনের বল ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন ক্লিভ মাদান্দে। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়ানো মোসাদ্দেকের কাঁধ বরাবর ধেয়ে আসা সে বল ধরতে একটুও অসুবিধা হয়নি। টানা তিন ওভারে ৩ উইকেট নেওয়া নাহিদ চতুর্থ ওভারে আরও ভয়ংকর। এ ওভারের প্রথম বলেই সেট ব্যাটার ইনোসেন্ট কাইয়াকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। পঞ্চম বলে ব্র্যাড ইভানসকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন।

এর মধ্য দিয়ে ৫ উইকেটও পূরণ হয় নাহিদের। ১৪ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় ৫ উইকেট শিকার। ওই সময় তার বোলিং ফিগার ছিল ৬ ওভারে ২ মেডেন, ১২ রানে ৫ উইকেট।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের তখন মাত্র শেষ হয়েছে ২০ ওভার। ৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে তখন ১০০ রানও মনে হচ্ছিল বহু দূরের পথ। কিন্তু তখনই প্রতিরোধ গড়েন রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান ন্যামহুরি। দুজনে মিলে ৮১ বলে গড়ে তোলেন ৬৩ রানের জুটি।

৩৪তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে সেই জুটি ভাঙতে হয় নাহিদ রানাকেই। ৪১ বলে ২৭ রান করা এনগারাভাকে দারুণ এক ইয়র্কারে বোল্ড করে দেন তিনি। দুই ওভার পরেই মিরাজের বলে তানজিদ তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৫১ বলে ৩৩ রান করা ন্যামহুরি। ১৪১ রানে যবনিকা পতন ঘটে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের।

ইনিংস শেষে ১০ ওভারের পূর্ণ কোটায় নাহিদ রানার বোলিং ফিগার ২১ রানে ৬ উইকেট। এটিই এখন ওয়ানডেতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং ফিগার। এতদিন ২৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে সেটি দখলে রেখেছিলেন মাশরাফি বিন মূর্তজা। এ ছাড়া রুবেল হোসেন, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের ৬ উইকেট রয়েছে ওয়ানডেতে।

বিরতির পর বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামলে শুরুতেই চাপে পড়ে। দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন তানজিদ তামিম (৬ বলে ৮ রান)। চতুর্থ ওভারে ফেরেন শান্ত (৭ বলে ৩)। দুটি উইকেটই তুলে নেন ব্লেসিং মুজারাবানি। থিতু হতে পারেননি আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারও। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলেই এনগারাভার বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি (১০ বলে ৬ রান)।

এরপর চতুর্থ উইকেট জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ। ৮৮ বলে ৪৯ রানের জুটি তাওহীদ হৃদয় আর নুরুল হাসান সোহানের। ১৯তম ওভারে দলীয় ৬৬ রানের মাথায় হৃদয় ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন। এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে দলের ইনিংস।

৭৪ রানের মাথায় মোসাদ্দেক হোসেন, ৮৯ রানের মাথায় মিরাজ, ৯৮ রানের মাথায় সোহান, ৯৯ রানের মাথায় রিশাদ, ১০৫ রানের মাথায় তাসকিন ও ১১৬ রানের মাথায় মুস্তাফিজ প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। ১৪২ রানের টার্গেট থেকে ২৬ রান দূরেই থেমে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচ হারে ২৫ রানে।

শুরুর দুটি উইকেটের পর আর উইকেট পাননি মুজারাবানি। বাকি জিম্বাবুইয়ান বোলারদের মধ্যে ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন এনগারাভা, ৩৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন ইভানস। আর ন্যামহুরি নিয়েছেন বাকি দুটি উইকেট।

৫১ বলে ৩৩ রানের প্রতিরোধী ইনিংসের পর ২২ রানে ২ উইকেট আর দুটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন ন্যামহুরি। দেশের পক্ষে নাহিদের গড়া সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও ম্যাচে জয় আনতে পারেনি বাংলাদেশের জন্য।

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

নাহিদ-তাসকিনের দাপটে ৪৭ রানেই ৫ উইকেট নেই জিম্বাবুয়ের

শুরুতে একটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হলেও পরে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দারুণ বোলিংয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। ১৫ ওভারের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ৪৭ রান।

৯ ঘণ্টা আগে

লাল কার্ড পেয়েও মাঠে নামবেন বালেগুন, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

বিশ্বকাপের প্রথম ২৪ দিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট প্রায় পুরোপুরিই রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের একটি আবেদন ঘিরে সেই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেল। ফিফার নিরপেক্ষতা, ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক প্রভাব— সবকিছুই এখন প্রশ্নের মুখে।

১০ ঘণ্টা আগে

মেক্সিকোকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই শুরু হয় আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ। ম্যাচের ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে, মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। তবে সেই ধাক্কা সামলে উঠতে বেশি সময় নেয়নি মেক্সিকো; ৪২ মিনিটে হুলিয়ান কিনিওনেসের দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান কমিয়ে ২-১-এ প্রথ

১২ ঘণ্টা আগে

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দিলেন নেইমার

৩৪ বছর বয়সী নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করলেন। ২০১০ সালে সিনিয়র দলে অভিষেকের পর ১২৯ ম্যাচে ৮০ গোল করেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ। দুটি অলিম্পিকেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন ব্রাজিলকে। এর মধ্যে ২০১২ সালে জিতেছিলেন রৌপ্য পদক, আর ২০১৬ সালে নি

১২ ঘণ্টা আগে