বদলে যাওয়া বিশ্বব্যবস্থায় ব্রিকস সম্মেলন, বাংলাদেশের পথ কোন দিকে?

উজ্জল কান্তি বড়ুয়া
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ১২

বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে যেন এক অদৃশ্য ভূমিকম্প চলছে। পুরোনো শক্তির বিন্যাস ধীরে ধীরে নড়বড়ে হয়ে উঠছে, আর তার ফাঁক দিয়ে জন্ম নিচ্ছে নতুন নতুন সমীকরণ। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যে একমেরু বিশ্বব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন প্রায় একক প্রভাব বিস্তার করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর ঘটনাপ্রবাহ সেই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ক্রমেই স্পষ্ট করে তুলছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়া ও চীনের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা, ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য নিয়ে নতুন আলোচনা— সব মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতি প্রবেশ করছে এক পরিবর্তনশীল অধ্যায়ে।

এই পরিবর্তন শুধু ওয়াশিংটন, মস্কো কিংবা বেইজিংয়ের বিষয় নয়। এর অভিঘাত পৌঁছাবে ঢাকাতেও। কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতির বড় কোনো পরিবর্তন আজ আর কোনো দেশের সীমান্তের মধ্যে আটকে থাকে না। জ্বালানির দাম বাড়ে, খাদ্যপণ্যের বাজারে চাপ পড়ে, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট তৈরি হয়, রপ্তানি বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, অভিবাসন ও রেমিট্যান্সের ওপর প্রভাব পড়ে।

অর্থাৎ বিশ্বের কোনো প্রান্তে সংঘটিত যুদ্ধ বা ভূরাজনৈতিক সংঘাতও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রা ও পারিবারিক ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বাংলাদেশের জন্য হলো, আমরা কোন শক্তির পাশে দাঁড়াব। এর বাস্তব উত্তর হচ্ছে, বাংলাদেশকে কোনো শক্তির ছায়ায় নয়, নিজের জাতীয় স্বার্থের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ভারত, অন্যদিকে চীন, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বদিকে মিয়ানমার এবং সমুদ্রপথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃত যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অবস্থান বাংলাদেশকে যেমন সম্ভাবনার দেশ করেছে, তেমনি করেছে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বঙ্গোপসাগর এখন শুধু মাছ ধরা কিংবা সমুদ্রবাণিজ্যের ক্ষেত্র নয়, এটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও কৌশলগত কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলো বাংলাদেশের দিকে তাকাবে, এটাই স্বাভাবিক।

প্রশ্ন হলো— বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক পরিচালনা করবে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার সঙ্গে রয়েছে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গভীরতা ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার, বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি খাতে মার্কিন বাজারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতএব বাংলাদেশের বাস্তবতা কোনো একটি শক্তিকে বেছে নেওয়ার নয়। বরং প্রয়োজন সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, কিন্তু কারও ওপর অন্ধ নির্ভরশীল না হওয়া।

এখানেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা যত বাড়বে, ছোট ও মাঝারি দেশগুলোর ওপর চাপও তত বাড়বে। কে কার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা করছে, কে কার কাছ থেকে জ্বালানি কিনছে, কোন দেশের সঙ্গে কার বাণিজ্য বাড়ছে, কোন প্রযুক্তি কার নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে— এসব সিদ্ধান্তের পেছনে থাকবে বৃহৎ ভূরাজনৈতিক হিসাব। বাংলাদেশকে সেই হিসাব বুঝতে হবে, কিন্তু অন্যের হিসাবের অংশ হয়ে গেলে চলবে না।

ব্রিকসের উত্থান এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো আন্তর্জাতিক আর্থিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নিজেদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি তুলছে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বহুমুখিতা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকতর প্রতিনিধিত্ব, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য এবং বিকল্প আর্থিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বাংলাদেশের জন্য এর তাৎপর্য রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতি যদি ধীরে ধীরে আরও বহুমুখী হয়ে ওঠে, তাহলে বাংলাদেশের সামনে নতুন বাজার, নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন অর্থনৈতিক অংশীদার খুঁজে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোনো নতুন ব্যবস্থাকে পুরোনোটির সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখার আগে তার বাস্তব অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় শক্তি হলো রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। সেই অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে বাজারের বহুমুখীকরণ অপরিহার্য। কয়েকটি নির্দিষ্ট বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকলে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিবর্তন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহজেই চাপে ফেলতে পারে।

একই কথা প্রযোজ্য জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও। মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বড় সংঘাত তৈরি হলে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে। তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বেড়ে যায় পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ, কৃষির ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি তখন সরাসরি বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এ কারণে বাংলাদেশকে জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার দিকে আরও মনোযোগ দিতে হবে।

বিশ্বের পরিবর্তিত শক্তির সমীকরণে ভারতের ভূমিকা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও চীনের সম্পর্ক যেমন বাংলাদেশের ওপর প্রভাব ফেলে, তেমনি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশকে তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। কোনো দেশের সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করা ঠিক হবে না, যার কারণে অন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের স্বার্থে ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক যেমন প্রয়োজন, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা দরকার। কূটনীতির সাফল্য তখনই, যখন বন্ধুত্বের পরিধি বাড়ে এবং নির্ভরতার ঝুঁকি কমে।

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা রোহিঙ্গা সংকট। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, চীনের প্রভাব, ভারতের স্বার্থ, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতি— সবকিছুই এই সংকটের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে আছে। তাই শুধু দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশকে বহুপক্ষীয় কূটনীতিকে আরও কার্যকর করতে হবে। যে দেশই বাংলাদেশের বন্ধু হোক, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে তাদের সমর্থন আদায় করতে হবে। এখানে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। আমাদের অবস্থান মানবিক। এই মানবিক অবস্থানকে কূটনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।

একইভাবে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রসম্পদ, খাদ্য নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো ইস্যুতেও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা শুধু সহায়তা প্রত্যাশী একটি দেশ নই। আমাদের রয়েছে বিশাল জনগোষ্ঠী, গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রসম্পদ এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সক্ষমতা। আন্তর্জাতিক পরিসরে এই সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।

তবে বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য কেবল সুযোগ নয়, ঝুঁকিও নিয়ে আসতে পারে। বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা যদি আরও তীব্র হয়, তাহলে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখোমুখি হতে হতে পারে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্যযুদ্ধ, শুল্কনীতি, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা কিংবা সামরিক উত্তেজনা— যেকোনো একটি বিষয় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা হবে নিজস্ব অর্থনৈতিক শক্তি। যে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয় শক্তিশালী, রপ্তানি বহুমুখী, খাদ্য উৎপাদন স্থিতিশীল, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মানবসম্পদ দক্ষ, সে দেশ আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষম। তাই বাংলাদেশের কূটনীতি ও অর্থনীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আজকের বিশ্বে অর্থনৈতিক সক্ষমতাই অনেক সময় কূটনৈতিক স্বাধীনতার ভিত্তি তৈরি করে। অর্থনীতি দুর্বল হলে পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতাও সংকুচিত হয়। আর অর্থনীতি শক্তিশালী হলে একটি দেশ নিজের অবস্থান আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরতে পারে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা স্থায়ী শত্রুর চেয়ে স্থায়ী হলো জাতীয় স্বার্থ। যে রাষ্ট্র নিজের স্বার্থ বুঝতে পারে এবং সেই স্বার্থ রক্ষায় দক্ষ কূটনীতি পরিচালনা করতে পারে, পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় তার অবস্থানও শক্তিশালী হয়। বাংলাদেশের সামনে তাই কোনো একটি শিবিরে যাওয়ার প্রশ্ন নয়, বরং নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করার প্রশ্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য থাকবে, চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা থাকবে, ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক আরও গভীর হবে, রাশিয়ার সঙ্গে প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা থাকবে। তবে প্রতিটি সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে বাংলাদেশ। কোনো সম্পর্ক যেন অন্য সম্পর্কের জন্য অপ্রয়োজনীয় বোঝা হয়ে না দাঁড়ায় এবং কোনো বৈদেশিক অংশীদারিত্ব যেন বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে দুর্বল না করে, সেদিকে নীতিনির্ধারকদের সতর্ক থাকতে হবে।

বিশ্ব এখন একমেরু থেকে বহুমেরুর দিকে এগোচ্ছে। এই পরিবর্তনের শেষ কোথায়, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কোন শক্তি কতটা প্রভাবশালী হবে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির কাঠামো কতটা বদলাবে কিংবা ব্রিকস ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর প্রভাব বিস্তার করবে, সেসব সময়ই নির্ধারণ করবে। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট, আগামী দিনের পৃথিবীতে যারা সময়ের পরিবর্তন বুঝতে পারবে, তারাই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি সক্ষম হবে। বাংলাদেশেরও তাই সময় এসেছে শুধু বিশ্বের পরিবর্তন দেখার নয়, সেই পরিবর্তনের ভেতরে নিজের ভবিষ্যৎ খুঁজে নেওয়ার। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে শান্তিপূর্ণ, ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মমর্যাদাশীল।

আমাদের অর্থনীতি হতে হবে বহুমুখী ও শক্তিশালী। আমাদের কূটনীতি হতে হবে সম্পর্কনির্ভর নয়, স্বার্থনির্ভর। আর জাতীয় সিদ্ধান্ত হতে হবে কোনো পরাশক্তির ইচ্ছায় নয়, বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখে। কারণ পৃথিবীর শক্তির মানচিত্র যতই বদলাক, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানচিত্রটি একটিই। সেটি হলো বাংলাদেশের মানুষের নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের মানচিত্র।

লেখক: কলামিস্ট ও ডিস্ট্রিক্ট সেক্রেটারি, লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশ

Ad
Ad
ad
ad
ad

মতামত থেকে আরও পড়ুন

ব্রিকস সম্মেলনে ২০২৬: বাংলাদেশ কীভাবে উপকৃত হবে?

বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলনটির গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ ঢাকা একইসঙ্গে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখে। ফলে ব্রিকসকে বাংলাদেশের কাছে কোনো একটি ভূরাজনৈতিক বলয় হিসেবে দেখার চেয়ে বরং বিকল্প অর্থায়ন, বাণিজ্যিক বৈচিত্র্য, জ্

১৩ দিন আগে

সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ, উত্তরণে প্রয়োজন অর্থনীতি-রাজনীতির সমন্বিত কৌশল

একটি নবনির্বাচিত বা নতুন গঠিত সরকারের সামনে রাষ্ট্র পরিচালনার নানাবিধ সংকট ও চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়ায়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের পথচলা নিছক রুটিন রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় নয়; বরং এটি একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ সামলানো, গণআকাঙ্ক্ষা রক্ষা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরুত্থানের এক কঠিন পর

২২ দিন আগে

সাংঘর্ষিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষণ এখনো দৃশ্যমান নয়

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা স্পষ্ট করা দরকার— আমি রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনকে অন্যায় বলছি না। আমার মূল যুক্তিটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নিয়ে— রাজপথকে যদি প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে রাখা হয়, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

২৫ দিন আগে

খাদ্য নিরাপত্তা— নতুন নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা

মানুষের জীবনে কিছু প্রয়োজন আছে, যেগুলো নিয়ে কোনো আপস চলে না। খাদ্য তার প্রথম সারিতে। সকালে শ্রমজীবী মানুষের নাশতার রুটি, দুপুরে পরিবারের ভাতের হাঁড়ি, কৃষকের গোলায় ধান কিংবা দুর্যোগে অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে যাওয়া খাদ্যসহায়তা—সবকিছুর পেছনেই রয়েছে একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা। সেই ব্যবস্থাপনার কেন

২৪ আগস্ট ২০২৬
Advertisement