ত্রিদেশীয় নিরাপত্তা চুক্তি কি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনতে পারবে?

সৈয়দ তোশারফ আলী

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সই হয়েছে। বিষয়টি সঙ্গত কারণে কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত হচ্ছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে রয়েছে। তাছাড়া বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে আজ মধ্যপ্রাচ্য ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা অবশ্য নতুন নয়। একসময় পাকিস্তান, ইরান ও তুরস্ক মিলে রিজিওনাল কোঅপারেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (আরসিডি) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিল।

ওই সময় ইরানে রেজা শাহ পাহলভি ও পাকিস্তানে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ক্ষমতায় ছিলেন। উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ একটি স্থায়ী আঞ্চলিক সংগঠনে রূপ নিতে পারেনি। আজকের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।

পরিবর্তিত আঞ্চলিক সমীকরণ

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ককে আমূল বদলে দিয়েছে। এরপর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক তিক্ত ও বিরোধপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সশস্ত্র হামলা মোকাবিলা করে ইরান যেমন তার সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরেছে, তেমনি উভয় পক্ষকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের বিপুল মূল্য দিতে হয়েছে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে— উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক কারণে ইরানের সঙ্গে কোনো না কোনো ধরনের সমঝোতার পথ খোঁজার চাপের মুখে পড়েছে।

পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব, বিশেষ করে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন বলে ধারণা করা হয়।

বলতে গেলে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কা যৌথ নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, চুক্তিটির তাৎক্ষণিক লক্ষ্য সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা। তবে এর তাৎপর্য সৌদি আরবের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

চুক্তি সইয়ের পর তিন দেশ জানিয়েছে, এর উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার জন্য নিজেদের যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— চুক্তির আওতায় কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

তবে প্রতিটি দেশের সুনির্দিষ্ট সামরিক দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তা সত্ত্বেও চুক্তিতে যৌথ নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ এর বাইরেও শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেছেন, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। বরং এর উদ্দেশ্য হলো তিনটি দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একজন তুর্কি সূত্রের মতে, এটি মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা, যা পারস্পরিক আত্মরক্ষামূলক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য আঞ্চলিক দেশও এতে যোগ দিতে পারে— এমন সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। শোনা যাচ্ছে মিশরও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এই চুক্তির পটভূমি বোঝার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

কেন সৌদি আরব বিকল্প খুঁজছে

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সৌদি আরব তার নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই নির্ভরতার  সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের মিত্রদের  আক্রমণ ও পালটা আক্রমণ বেড়েছে। ফলে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।

জ্বালানি অবকাঠামো এবং তেল-গ্যাস রপ্তানির পথও তাই আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে পড়তে পারে।

এতে জ্বালানির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই সত্যিকার অর্থে উত্তেজনা কমিয়ে সংঘাত প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভিত্তির সম্প্রসারণ 

মক্কা চুক্তি রাতারাতি তৈরি হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর প্রস্তুতি প্রায় এক বছর ধরে চলেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— তিনটি দেশের মধ্যে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বিদ্যমান ছিল।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যেও ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে, যার মধ্যে নৌ ও বিমান প্রতিরক্ষা প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত।

২০২৩ সালে সৌদি আরব তুরস্কের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণের ড্রোন কেনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করে, যেটিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। পাকিস্তানও সৌদি আরবে উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে, যার মধ্যে সামরিক সদস্য ও বিভিন্ন সামরিক সম্পদ রয়েছে।

এসব ঘটনা থেকে বোঝা যায়, তিনটি দেশ এরই মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তাই নতুন চুক্তিকে সম্পূর্ণ নতুন কোনো ব্যবস্থা না বলে বিদ্যমান কৌশলগত সম্পর্ককে একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো?

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এরই মধ্যে চুক্তিটির বৃহত্তর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। লন্ডনভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলফিরাজ শিয়ার্স আল জাজিরাকে বলেছেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন বাড়তে থাকলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান বিকল্প কৌশলগত সহযোগিতার দিকে আরও বেশি করে এগিয়ে যেতে পারে।

তবে চুক্তিটি সমালোচনার মুখেও পড়েছে। ইরানের সংসদ সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি এটিকে ‘কাগুজে চুক্তি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে। তার দাবি, এই চুক্তি সৌদি আরবকে প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারবে না।

ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনও সতর্ক করে দিয়েছে, সৌদি বাহিনী ও ইয়েমেনে তাদের মিত্ররা এ ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে বলে আশা করতে পারে না।

এসব প্রতিক্রিয়া চুক্তিটির সামনে থাকা একটি মৌলিক চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে— একটি নিরাপত্তা চুক্তি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, কিন্তু যে রাজনৈতিক সংঘাতগুলো অনিরাপত্তার জন্ম দেয়, সেগুলোর সমাধান  কোনো নিরাপত্তা চুক্তির পক্ষে এককভাবে করা সম্ভব নয়।

বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক স্বার্থ

মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরে তেল, গ্যাস, বাণিজ্যপথ এবং কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। একসময় ইউরোপীয় শক্তিগুলো এই অঞ্চলের ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরে সেই প্রভাবের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে চলে যায়।

রাশিয়াও এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে চীন ও ভারত ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক সুপ্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে গভীর বৈরিতাপূর্ণ। পাকিস্তানের আবার ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তুরস্কের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কেও বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে জাপানও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

এই বহুমুখী স্বার্থের কারণে মক্কা চুক্তিকে শুধু একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটিকে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেও মূল্যায়ন করা সমীচীন হবে।

শান্তিই হতে হবে অভিন্ন লক্ষ্য

মক্কা যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির প্রকৃত পরীক্ষা হবে— এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে, নাকি এরই মধ্যে বিভক্ত একটি অঞ্চলে আরও একটি সামরিক জোট তৈরি করবে।

চুক্তির স্বাক্ষরকারীরা যদি সত্যিই এর ঘোষিত প্রতিরক্ষামূলক চরিত্র বজায় রাখে, তাহলে এটি যৌথ প্রতিরোধ, সংকট মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি কার্যকর ব্যবস্থা হয়ে উঠতে পারে।

কিন্তু শুধু সামরিক প্রতিরোধ দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যের প্রয়োজন সংলাপ, পারস্পরিক আস্থা তৈরির উদ্যোগ, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, জ্বালানি ও বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা এবং প্রধান রাজনৈতিক সংঘাতগুলোর রাজনৈতিক সমাধান।

মধ্যপ্রাচ্যে স্বার্থ রয়েছে— এমন প্রায় সব দেশই একটি মৌলিক বিষয়ে একমত— তাদের সবার জন্যই এই অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাখা জরুরি। এই অভিন্ন স্বার্থকে আঞ্চলিক কূটনীতির ভিত্তি করা উচিত।

মক্কা চুক্তি হয়তো একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। এটি শান্তির হাতিয়ার হবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে আরেকটি উপাদান হিসেবে যুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে চুক্তির স্বাক্ষরকারীরা তাদের সম্মিলিত শক্তিকে কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করেন তার ওপর।

এই মুহূর্তে যুদ্ধের সম্ভাবনা কমাতে পারে— এমন প্রতিটি উদ্যোগকেই বিশ্ববাসীর স্বাগত জানানো উচিত। তবে স্থায়ী শান্তির জন্য শুধু একটি নিরাপত্তা চুক্তিই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন এমন একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে নিরাপত্তা চিরস্থায়ী সংঘাতের মাধ্যমে অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়, বরং তা পারস্পরিক সমঝোতা ও সংলাপের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট; উপদেষ্টা সম্পাদক, দ্য নিউ নেশন

Ad
Ad
ad
ad
ad

মতামত থেকে আরও পড়ুন

এখনই চাই ‘শিক্ষক সুরক্ষা আইন’

কেন আজ শিক্ষক এত অসহায়? কারণ রাষ্ট্রের আইনেই তাদের সুরক্ষার জন্য আলাদা ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ কিংবা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নীতিমালায় শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান নেই।

৭ দিন আগে

সমালোচনা হোক যোগ্যতা নিয়ে, নারী পরিচয় নিয়ে নয়

বহু শতাব্দীর পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো নারীর সাফল্যকে প্রায়ই সন্দেহের চোখে দেখেছে। একজন পুরুষের পদোন্নতি ‘যোগ্যতার স্বীকৃতি’, আর একজন নারীর পদোন্নতি ‘বিশেষ সুবিধা’— এই ধারণা শুধু বৈষম্যমূলক নয়, এটি তথ্যবিবর্জিতও। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বা পদোন্নতির সমালোচনা করতে হলে তথ্য, নীতি ও যোগ্যতার

৭ দিন আগে

নারী নয়, প্রশ্ন হোক নিয়োগের যোগ্যতা নিয়ে

দুর্ভাগ্যজনকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, কাজী জেসিনের যোগ্যতা নিয়ে যুক্তি উপস্থাপনের পরিবর্তে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে— তিনি কার সঙ্গে ‘ঘুমিয়েছেন’, কাকে ‘খুশি করেছেন’ বা কীভাবে এই পদ পেয়েছেন। এসব মন্তব্য কোনোভাবেই রাজনৈতিক সমালোচনা নয়, এগুলো নারীবিদ্বেষের প্রকাশ।

৭ দিন আগে

ভয়, পতন আর উৎসব: আমার দেখা ৫ আগস্ট

৫ আগস্ট রাতের সেই এক ধরনের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ পরিস্থিতি একটা চাপা শঙ্কা তৈরি করেছিল, সন্দেহ নেই। কিন্তু তার পাশেই যা দেখেছিলাম— দেশের ইতিহাসে স্বৈরাচার পতনের পর সাধারণ মানুষের মুখে ফুটে ওঠা সেই অবর্ণনীয় আনন্দ— তা ছিল সম্পূর্ণ খাঁটি, সম্পূর্ণ অকৃত্রিম।

৯ দিন আগে