
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

জাতীয় সংসদে সংসদ নেতার চেয়ারটি মোটেও আরামদায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই যে চেয়ারটি আপনি দেখছেন, যে চেয়ারে আমি এখানে বসছি আপনার আপনার সামনে, এই চেয়ারটি খুব কঠিন একটি চেয়ার। এই চেয়ারটি দেখলে মনে হয় বসতে খুব আরাম। কিন্তু আসলে মোটেও আরামের না। এই চেয়ারটিতে বসলে প্রতি মুহূর্তে মনে হয়, আগুনের তপ্ত হিট আসছে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
সংসদ নেতার এমন বক্তব্যে সংসদ সদস্যরা হেসে ওঠেন। এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘হাসার কিছু নেই। আমি যা ফিল করি, আমি আপনাদের তাই বলছি। এই চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আপনার (স্পিকার) সামনে বক্তব্যে আমি হয়তো পপুলার কথা বলতে পারতাম, যেটাতে আরও অনেক বেশি তালি হতো। কিন্তু এই চেয়ার আমাকে বলে, আমি সবসময় পপুলার কথা বলতে পারি না। আমাকে সেটিই বলতে হবে, যেটি সঠিক সিদ্ধান্তের কথা বলে।’
গত ১২ মার্চ যাত্রা শুরু করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। সে দিনই স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কার্যউপদেষ্টা কমিটিসহ সংসদ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়। কার্যউপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল এ অধিবেশনের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ছিল প্রথম অধিবেশনের সমাপনী দিন।
এ দিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা মেটানো এবং সমস্যা সমাধানের গুরুভার এই চেয়ারের উত্তাপ বাড়িয়ে দেয়। আমরা যদি পপুলার ডিসিশনের পেছনে ছুটি, তবে হয়তো বাহবা পাব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে জন্যই সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের বন্ধুদের প্রতি পপুলার নয়, বরং সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর আলাপ করার আহ্বান জানাই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের ২৫ কার্যদিবসে সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক। সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতাও সে প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তবে তিনি বিতর্ক ফেলে সবাই মিলে কাজ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস নিয়ে অনেক বিতর্ক করা যাবে। কিন্তু এ বিতর্ক হামের শিকার বাচ্চার মায়ের মন শান্ত করতে পারবে না, বেকারের কর্মসংস্থান করে দিতে পারবে না। হামে আক্রান্ত শিশুর জন্য ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে। বেকার যুবকের কর্মসংস্থান করতে হবে।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে সংসদ নেতা বলেন, আসুন, আগামী অধিবেশনে আলোচনা করব, কত দ্রুত আমরা দেশের বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে পারি। আমরা আলাপ করতে চাই, কত দ্রুত কত বেশিসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারি। মানুষের কাছে কত দ্রুত শিক্ষা ও চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পারি।
তিনি আরও বলেন, আসুন, আজ আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, আমাদের আলোচনার বিষয় হবে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। আলোচনার বিষয়বস্তু হবে, আমরা অন্য দেশের উদাহরণ দেবো না, বরং আমরা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
দেশের কৃষি ও পরিবেশগত সংকটের কথা বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, জলাবদ্ধতা ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সমস্যাটি অত্যন্ত ভয়াবহ। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরুর লক্ষ্যই হলো মাটির নিচের পানির স্তর রিফিল করা। এর শুভ ফল পেতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে এখনই আমাদের তপ্ত আগামীর প্রস্তুতি নিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা সরকার গঠনের পরে কৃষক ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমরা কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছি। আমরা সব ধরনের কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে চাই।
কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খাল খনন কর্মসূচিসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে বলে জানান সরকারপ্রধান তারেক রহমান। সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, এর আগে বিএনপি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। এবার মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে করা হবে। সেই সঙ্গে যারা ভালো ফল করবে তাদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে মোট বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। তা বাস্তবায়নে কাজ করছি। প্রাইমারি স্কুলের শিশুদের ব্যাগ, বই ও জুতো দিয়ে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের সম্মান বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেন তারা গুণগত শিক্ষায় মনোনিবেশ করতে পারেন।
শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার উদ্বেগের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমি চাই আমার দেশের সন্তানরা একটি সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করুক। জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সেদিন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একসঙ্গে বসে সুরাহা বের করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমার মনে হয় আমরা (শিক্ষাঙ্গনের) এই সমস্যারও সমাধান উভয় পক্ষ এক সঙ্গে বসে নিশ্চয় বের করতে সক্ষম হব।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। একে বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। এর রিটার্ন আসবে। এ উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ মাথায় নিয়ে এই সংসদ দেশ পরিচালনা শুরু করেছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান তারেক রহমান। এ অবস্থায় দেশকে এগিয়ে নিতে হলে একটি স্থিতিশীল সরকার ও স্থিতিশীল সংসদ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, অতীতে যতবারই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ততবারই দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান মুখ থুবড়ে পড়েছে। ১৭৩ দিনের হরতালে হয়তো কোনো সরকার ক্ষমতা হারিয়েছে, কিন্তু বুক চিরে কেউ বলতে পারবে না যে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ক্ষতির মাসুল আজও আমাদের টানতে হচ্ছে।
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আপনারা ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া। আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই আসুন, আমরা একে অন্যকে ব্যর্থ করার প্রতিযোগিতায় না নেমে একসঙ্গে এই সংসদকে সফল করি।
ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দলের জন্য এখনো উন্মুক্ত রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অধিবেশনের শেষ দিনে সরকারের অবস্থান থেকে আবার পরিষ্কার করে দিতে চাই— আমরা বিরোধী দলের সদস্যদের সঙ্গে, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যেকোনো আলাপ-আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই আমরা উভয়ে সবাই একসঙ্গে এই দেশকে ইনশাআল্লাহ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এ দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব।
সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারসহ সরকার দলীয়, বিরোধী দলীয় ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান সংসদ নেতা তারেক রহমান। সংসদ সচিবালয়সহ সংসদের কার্যক্রমে সহায়তা করা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। নিরাপত্তা বাহিনীসহ সংসদ অধিবেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সেবাদাতাদেরও ধন্যবাদ জানান।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সব সংসদ সদস্যের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান থাকবে— আসুন, আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি। যে দায়িত্ব, যে প্রত্যাশা, যে আশা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে, আসুন, আমরা সেই দায়িত্ব ও কর্তব্যকে সর্বোচ্চ সম্মান দিই।

জাতীয় সংসদে সংসদ নেতার চেয়ারটি মোটেও আরামদায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই যে চেয়ারটি আপনি দেখছেন, যে চেয়ারে আমি এখানে বসছি আপনার আপনার সামনে, এই চেয়ারটি খুব কঠিন একটি চেয়ার। এই চেয়ারটি দেখলে মনে হয় বসতে খুব আরাম। কিন্তু আসলে মোটেও আরামের না। এই চেয়ারটিতে বসলে প্রতি মুহূর্তে মনে হয়, আগুনের তপ্ত হিট আসছে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
সংসদ নেতার এমন বক্তব্যে সংসদ সদস্যরা হেসে ওঠেন। এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘হাসার কিছু নেই। আমি যা ফিল করি, আমি আপনাদের তাই বলছি। এই চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আপনার (স্পিকার) সামনে বক্তব্যে আমি হয়তো পপুলার কথা বলতে পারতাম, যেটাতে আরও অনেক বেশি তালি হতো। কিন্তু এই চেয়ার আমাকে বলে, আমি সবসময় পপুলার কথা বলতে পারি না। আমাকে সেটিই বলতে হবে, যেটি সঠিক সিদ্ধান্তের কথা বলে।’
গত ১২ মার্চ যাত্রা শুরু করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। সে দিনই স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কার্যউপদেষ্টা কমিটিসহ সংসদ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়। কার্যউপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল এ অধিবেশনের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ছিল প্রথম অধিবেশনের সমাপনী দিন।
এ দিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা মেটানো এবং সমস্যা সমাধানের গুরুভার এই চেয়ারের উত্তাপ বাড়িয়ে দেয়। আমরা যদি পপুলার ডিসিশনের পেছনে ছুটি, তবে হয়তো বাহবা পাব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে জন্যই সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের বন্ধুদের প্রতি পপুলার নয়, বরং সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর আলাপ করার আহ্বান জানাই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের ২৫ কার্যদিবসে সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক। সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতাও সে প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তবে তিনি বিতর্ক ফেলে সবাই মিলে কাজ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস নিয়ে অনেক বিতর্ক করা যাবে। কিন্তু এ বিতর্ক হামের শিকার বাচ্চার মায়ের মন শান্ত করতে পারবে না, বেকারের কর্মসংস্থান করে দিতে পারবে না। হামে আক্রান্ত শিশুর জন্য ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে। বেকার যুবকের কর্মসংস্থান করতে হবে।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে সংসদ নেতা বলেন, আসুন, আগামী অধিবেশনে আলোচনা করব, কত দ্রুত আমরা দেশের বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে পারি। আমরা আলাপ করতে চাই, কত দ্রুত কত বেশিসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারি। মানুষের কাছে কত দ্রুত শিক্ষা ও চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পারি।
তিনি আরও বলেন, আসুন, আজ আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, আমাদের আলোচনার বিষয় হবে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। আলোচনার বিষয়বস্তু হবে, আমরা অন্য দেশের উদাহরণ দেবো না, বরং আমরা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
দেশের কৃষি ও পরিবেশগত সংকটের কথা বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, জলাবদ্ধতা ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সমস্যাটি অত্যন্ত ভয়াবহ। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরুর লক্ষ্যই হলো মাটির নিচের পানির স্তর রিফিল করা। এর শুভ ফল পেতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে এখনই আমাদের তপ্ত আগামীর প্রস্তুতি নিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা সরকার গঠনের পরে কৃষক ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমরা কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছি। আমরা সব ধরনের কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে চাই।
কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খাল খনন কর্মসূচিসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে বলে জানান সরকারপ্রধান তারেক রহমান। সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, এর আগে বিএনপি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। এবার মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে করা হবে। সেই সঙ্গে যারা ভালো ফল করবে তাদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে মোট বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। তা বাস্তবায়নে কাজ করছি। প্রাইমারি স্কুলের শিশুদের ব্যাগ, বই ও জুতো দিয়ে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের সম্মান বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেন তারা গুণগত শিক্ষায় মনোনিবেশ করতে পারেন।
শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার উদ্বেগের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমি চাই আমার দেশের সন্তানরা একটি সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করুক। জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সেদিন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একসঙ্গে বসে সুরাহা বের করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমার মনে হয় আমরা (শিক্ষাঙ্গনের) এই সমস্যারও সমাধান উভয় পক্ষ এক সঙ্গে বসে নিশ্চয় বের করতে সক্ষম হব।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। একে বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। এর রিটার্ন আসবে। এ উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ মাথায় নিয়ে এই সংসদ দেশ পরিচালনা শুরু করেছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান তারেক রহমান। এ অবস্থায় দেশকে এগিয়ে নিতে হলে একটি স্থিতিশীল সরকার ও স্থিতিশীল সংসদ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, অতীতে যতবারই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ততবারই দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান মুখ থুবড়ে পড়েছে। ১৭৩ দিনের হরতালে হয়তো কোনো সরকার ক্ষমতা হারিয়েছে, কিন্তু বুক চিরে কেউ বলতে পারবে না যে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ক্ষতির মাসুল আজও আমাদের টানতে হচ্ছে।
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আপনারা ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া। আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই আসুন, আমরা একে অন্যকে ব্যর্থ করার প্রতিযোগিতায় না নেমে একসঙ্গে এই সংসদকে সফল করি।
ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দলের জন্য এখনো উন্মুক্ত রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অধিবেশনের শেষ দিনে সরকারের অবস্থান থেকে আবার পরিষ্কার করে দিতে চাই— আমরা বিরোধী দলের সদস্যদের সঙ্গে, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যেকোনো আলাপ-আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই আমরা উভয়ে সবাই একসঙ্গে এই দেশকে ইনশাআল্লাহ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এ দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব।
সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারসহ সরকার দলীয়, বিরোধী দলীয় ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান সংসদ নেতা তারেক রহমান। সংসদ সচিবালয়সহ সংসদের কার্যক্রমে সহায়তা করা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। নিরাপত্তা বাহিনীসহ সংসদ অধিবেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সেবাদাতাদেরও ধন্যবাদ জানান।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সব সংসদ সদস্যের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান থাকবে— আসুন, আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি। যে দায়িত্ব, যে প্রত্যাশা, যে আশা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে, আসুন, আমরা সেই দায়িত্ব ও কর্তব্যকে সর্বোচ্চ সম্মান দিই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুবাইয়ে আটকের পরই ১৪৪ পৃষ্ঠার মামলার নথি আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, খ্যাতিমান হকি খেলোয়াড় ও সংগঠক আবদুস সাদেক আর নেই। আজ শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
৬ ঘণ্টা আগে
জৈন ধর্ম মানুষের মুক্তির জন্য নৈতিকতার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছে। এই ধর্ম অনুযায়ী, বন্দি অবস্থা থেকে আত্মার মুক্তির উপায় তিনটি— সম্যগ দর্শন বা সত্যের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, সম্যগজ্ঞান বা সংশয়শূন্য ও ভ্রমমুক্ত বিশদ জ্ঞান এবং সম্যগ চারিত্র বা হিত আচরণে প্রবৃত্ত হওয়া এবং অহিতকর আচরণ থেকে সম্প
১০ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেল এবং আত্মীয়ের নামের সঙ্গে মিল রেখে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণের অভিযোগের পর এবার তার নামে একটি স্কুলের নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষা সচিবের কাছে পাঠানো এক পত্রে এই প্রস্তাব নাকচ করেছেন তিনি।
২০ ঘণ্টা আগে