১৭ সেপ্টেম্বর থেকে আইসিসিবিতে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

দেশ-বিদেশ ভ্রমণের নানা আয়োজন, পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রদর্শনী এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ)। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ পর্যটন মেলা বসবে রাজধানীর ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি)।

তিন দিনব্যাপী মেলাটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে। দেশের পর্যটন খাতের অন্যতম বড় এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের জন্য রাজধানীর অন্যতম বড় ও বহুমুখী ইভেন্ট ভেন্যু আইসিসিবিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

আধুনিক স্থাপত্য, সুবিশাল পরিসর, উন্নত অবকাঠামো, পর্যাপ্ত পার্কিং এবং একই কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ধরনের আয়োজনের সুযোগ— সব মিলিয়ে ইতোমধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ভেন্যু হিসেবে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে আইসিসিবি। বড় আন্তর্জাতিক মেলা থেকে শুরু করে করপোরেট সেমিনার, বাণিজ্যিক প্রদর্শনী, পণ্য মেলা, কনসার্ট, পর্যটন মেলা, বিয়ের অনুষ্ঠান এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন— বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এখানে রয়েছে একাধিক হল, উন্মুক্ত স্থান ও প্রয়োজনীয় নানা সুবিধা।

আইসিসিবিতে বিশাল হল, উন্মুক্ত মাঠ, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, পার্কিং সুবিধা ও সুবিন্যস্ত প্রবেশপথ রয়েছে। একই কমপ্লেক্সে খাবার, নামাজ, প্রদর্শনী, অনুষ্ঠান ও বিনোদনের সুযোগ থাকায় বড় কোনো আয়োজনের সময় দর্শনার্থীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার প্রয়োজন কমে আসে। রাজধানীতে একই জায়গায় এত বড় পরিসরে বিচিত্র ধরনের আয়োজনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে বিরল।

বিপুলসংখ্যক অতিথি ও দর্শনার্থীর গাড়ি রাখার ব্যবস্থাও আইসিসিবির অন্যতম সুবিধা। বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে যাতায়াত ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় এই সুবিধা আয়োজক ও দর্শনার্থীদের বাড়তি স্বস্তি দেয়। এখানে রয়েছে হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট, উন্মুক্ত বড় মাঠ ও মসজিদসহ বিভিন্ন সুবিধা। ফলে আইসিসিবি শুধু একটি কনভেনশন সেন্টার নয়, বরং বড় আয়োজনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ইভেন্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বড় আয়োজনের জন্য একাধিক হল

অনুষ্ঠানের ধরন, অতিথির সংখ্যা ও আয়োজকদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইসিসিবিতে বিভিন্ন আকারের একাধিক হল রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে শুরু করে তুলনামূলক ছোট করপোরেট বা সামাজিক অনুষ্ঠান— বিভিন্ন ধরনের আয়োজনের জন্য এসব হল ব্যবহার করা যায়।

হল-১-এ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের আসন ব্যবস্থা রয়েছে। হল-২ ও হল-৩-এ প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন করে এবং হল-৪-এ প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনের আয়োজন করা যায়। হল-৫-এ প্রায় ৬০০ জন এবং হল-৬ বা এক্সপো জোনে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে।

আয়োজনের ধরন অনুযায়ী এসব হলের ভাড়াও ভিন্ন। সাধারণ হিসাবে হল-১, হল-২ ও হল-৩-এর ভাড়া প্রায় ৪ লাখ টাকা। হল-৪-এর ভাড়া প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং হল-৫-এর প্রায় ২ লাখ টাকা। তবে অনুষ্ঠান, সময়, সাজসজ্জা ও অন্যান্য সেবার ওপর ভিত্তি করে ভাড়ার পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

আইসিসিবির বড় আকর্ষণ এর বিশাল পরিসরের এক্সপো সেন্টার। এখানে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের একসঙ্গে বসার ব্যবস্থা করা যায়। ফলে বৃহৎ কনসার্ট, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বড় করপোরেট অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আয়োজনের জন্য এটি বিশেষভাবে উপযোগী।

একই সঙ্গে একাধিক হল ব্যবহার করে বড় কোনো আন্তর্জাতিক আয়োজন পরিচালনার সক্ষমতাও রয়েছে এখানে। বৃহৎ পরিসরের এই অবকাঠামোই আইসিসিবিকে রাজধানীর অন্যান্য ইভেন্ট ভেন্যু থেকে আলাদা করেছে।

এবার পর্যটনের আন্তর্জাতিক মিলনমেলা

এমন একটি বহুমুখী ও বৃহৎ পরিসরের ভেন্যুতেই এবার বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার। সোমবার রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক ও এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতা ও অংশ গ্রহণে এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। আইসিসিবির তিনটি হলে প্রায় ৩০০টি বুথে নিজেদের পর্যটন পণ্য ও সেবা তুলে ধরবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি দূতাবাস ও মিশন অংশ নেবে। পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রদর্শনীর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফারও থাকবে।

এবারের মেলায় বিশেষ আয়োজন হিসেবে থাকছে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেজ’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেজ’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেজ’। পাশাপাশি থাকছে বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, প্রোডাক্ট প্রমোশন ও নেটওয়ার্কিংয়ের আয়োজন।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হবে।

এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, ‘এটিএফ ২০২৬ দেশি-বিদেশি পর্যটন অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক সংযোগ, পর্যটন পণ্যের প্রচার এবং বাংলাদেশে পর্যটন বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

প্রধান অতিথি মো. সামীমুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটিএফ বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মেলাটির অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মেলায় সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিসহ মেলার বিভিন্ন অংশীদার ও স্পনসর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

দেশ-বিদেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, এয়ারলাইনস, হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এবারের এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার শুধু পর্যটন পণ্য প্রদর্শনের আয়োজন নয়; একই সঙ্গে এটি ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগ, পর্যটন প্রচার ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে।

আর এত বড় আয়োজনের জন্য আইসিসিবির মতো সুবিশাল ও বহুমুখী ভেন্যু বেছে নেওয়া মেলার ব্যাপ্তিকেও তুলে ধরছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, বিশাল পার্কিং, একাধিক হল, উন্মুক্ত স্থান, খাবার ও অন্যান্য সুবিধা— সব মিলিয়ে বড় আয়োজনের জন্য আইসিসিবি একটি উপযোগী পরিসর তৈরি করেছে।

প্রতিবছর দেশি-বিদেশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলা, বাণিজ্যিক প্রদর্শনী, করপোরেট অনুষ্ঠান, সেমিনার ও সম্মেলনের আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে আইসিসিবি। পর্যটন মেলাসহ নানা থিমভিত্তিক মেলা ও প্রদর্শনীও এখানে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে, বিশেষ করে শুক্রবার, এখানে গাড়ির হাটও বসে— যা ভেন্যুটির বহুমুখী ব্যবহারের আরেকটি দৃষ্টান্ত।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বুকে আইসিসিবি আধুনিক স্থাপত্য, প্রশস্ততা, অবকাঠামো ও বহুমাত্রিক ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে বড় আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা হয়ে উঠেছে। আর সেই ভেন্যুতেই আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনের জন্য মিলিত হবেন দেশ-বিদেশের পর্যটনশিল্পের অংশীজনরা।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

ডাকসু সংগ্রহশালার সামনে জিন্নাহ-আযমের ছবি পদদলন করে প্রতিবাদ

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে প্রতিবাদকারীরা ডাকসু সংগ্রহশালার ফটকের সামনের মেঝেতে দুটি এবং ভেতরের মেঝেতে দুটি ছবি সাঁটিয়ে দেন। এ সময় তারা জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পদদলন করে প্রতিবাদ জানান।

৪ ঘণ্টা আগে

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মনগড়া নয়, বলছে দুদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ মনগড়া নয় বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব সাইদুর রহমান খান।

৫ ঘণ্টা আগে

হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১০৩৬

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ রোগীদের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ছয় মাসে প্রাণ গেছে ১ হাজার ৩৬ জনের। দেশের ইতিহাসে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘ

৫ ঘণ্টা আগে

এয়ারবাস কেনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আশ্বাস বিমানমন্ত্রীর

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে এয়ারবাস কেনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, যেকোনো ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে

৬ ঘণ্টা আগে
Advertisement