প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছে ৩৭ হাজার ৫৬৪ নারীপ্রধান পরিবার

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ২২: ৩৯

নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারীপ্রধান পরিবারের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারীপ্রধান পরিবার এই কার্ডের আওতায় আসছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

তিনি জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এজন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, গৃহস্থালি সামগ্রী, যেমন— টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহারের তথ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়।

মন্ত্রী জানান, পাইলট পর্যায়ে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র সূচকের ভিত্তিতে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া যায়। এরপর একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা গ্রহণ, সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী হওয়া ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্টের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন চিপযুক্ত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

মন্ত্রী জানান, প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে ওই সুবিধা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় যোগ্য উপকারভোগীরা পাইলটিং পর্যায়ে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ভবিষ্যতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

মন্ত্রী জানান, পাইলট পর্যায়ে কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বা বেতন, ভাতা, অনুদান কিংবা পেনশন পান, অথবা নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হন, তাহলে সেই পরিবার ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে না।

এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে, বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা এসি থাকলে, অথবা পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও সেই পরিবার এই ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবে না।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ভাতা জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

তিনি জানান, তথ্য সংগ্রহের সময়ই উপকারভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য নেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো ধরনের বিলম্ব বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই তারা ঘরে বসেই ভাতা পাবেন।

মন্ত্রী আরও জানান, পাইলট পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম তৈরি ও কার্ড প্রস্তুতসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে ব্যয় করা হবে।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন–২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

১২ জেলার এসপিসহ ৩৯ কর্মকর্তার বদলি

বাংলাদেশ পুলিশে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ৩৯ কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়েছে।

১০ ঘণ্টা আগে

এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ‎

এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের অধিবেশনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী।

১১ ঘণ্টা আগে

হাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৪৫ জন শিশু।

১১ ঘণ্টা আগে

বড় প্রকল্প মানেই বড় দুর্নীতি, ধারণাটি পরিবর্তন করতে হবে: সড়কমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা জন্মেছে যে বড় প্রকল্প মানেই বড় দুর্নীতি; কাজের মাধ্যমে এই নেতিবাচক ধারণাটি পরিবর্তন করতে হবে।

১১ ঘণ্টা আগে