
ডয়চে ভেলে

মঙ্গলবারও (২৭ আগস্ট) কর্মমুখর ছিল তার জীবন। কিন্তু রাতে হাতিরঝিলে ভাসমান দেহ পাওয়া গেল তার। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান সাংবাদিক রাহনুমা সারাহ মারা গেছেন।
রাহনুমার বাবার দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, হাতিরঝিল থেকে উদ্ধারের আগে তার সন্তান হাত তুলে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছে। ঢাকার বেসরকারি টেলিভিশন গাজী টিভির নিউজরুম এডিটর রাহনুমা সারাহর মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে তার লাশ হতিরঝিল থেকে উদ্ধার করা হয়। তার এক সহকর্মী জানান, রাতের পালার কাজ শেষে তিনি আর বাসায় ফেরেননি। তিনি কল্যাণপুর এলাকায় একটি বাসায় একাই থাকতেন বলে তার বাবা বখতিয়ার শিকদার ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন। রাত দেড়টার দিকে হাতিঝিল এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাশের ফরাজি হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার বাবা নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি বখতিয়ার শিকদার বলেন, ‘আমাকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, আমার মেয়ে ঝিল থেকে হাত উঁচু করে বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছিল। তার আকুতি শুনেই রেস্টুরেন্টের দুই কর্মচারী উদ্ধার করেন। তাকে কেউ ধাক্কা দিয়ে লেকে ফেলে দিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করি। আমার মেয়ে সাঁতার জানতে না।’
মৃত্যুর ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন রাহনুমার বড় বোন রাবিতা আলম। ওই থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ভিসেরা প্রতিবেদন পেলেই মত্যুর কারণ জানা যাবে। প্রতিবেদন পেতে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় লাগবে। তবে লাশের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’
বখতিয়ার শিকদার বলেন, ‘‘আমরা মেয়ের মৃত্যু নিয়ে আমরা কাউকে এখনো সন্দেহ করতে পারছি না। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আমি জানতে চাই।”
তিনি বলেন, ‘তবে তার কর্মস্থল নিয়ে অসন্তুষ্টি ছিল। ৩ মাস ধরে বেতন পায়নি। কয়েকদিন আগেও সে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। সে গাজী টিভির চাকরি ছাড়ার জন্য চাকরি খুঁজছিল। সে একা থাকতে পছন্দ করতো, তাই কল্যাণপুরের বাসায় একাই থাকতো। সে অবিবাহিত ছিলো। একজন তার স্বামী দাবি করে বক্তব্য দিলেও তার ব্যাপারে আমাদের কিছু জানা নাই।’
পাচ-ছয় বছর তিনি গাজী টিভিতে কাজ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক রাহনুমা দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন দ্বিতীয়। তার বড় বোন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
হাতিরঝিল থানার সাব ইন্সপেক্টর মাসুদ হোসেন লাশের সুরতহালের সময় ম্যাজিষ্ট্রেটের সঙ্গে ছিলেন। তিন বলেন, ‘‘আমরা ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে তার লাশ পাই। লাশের সুরতহালে বাইরে থেকে শরীরে আমরা কোনো আঘাতের চিহ্ন পাইনি। ঝিল থেকে তোলার সময় তার কাঁধে ব্যাগ ও গলায় আইডি কার্ড ছিল। তার ব্যাগের মধ্যে তার মোবাইল ফোন ছিল। ফোনটি ব্যাগের মধ্যে থাকার কারণে নষ্ট হয়নি। যারা তাকে উদ্ধার করেছেন, তারা ওই ফোন থেকেই তার পরিবার ও অফিসের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।” তিনি সালোয়ার-কামিজ পরা ছিলেন বলে জানান তিনি।
রাহনুমার সহকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌসি রাহনুমার মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি ঘটনাস্থলেও গিয়েছেন। তিনি জানান, ‘রামপুরা ব্রিজসংলগ্ন সোড রেস্টুরেন্টের কাছে হাতিরঝিলের যে অংশ, সেখান থেকেই তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী একজন আমাকে জানিয়েছেন যে, সে ওখানে একটি গাছের নীচে রাত দেড়টার কিছু আগে বসেছিল। তখন তারা তাকে বসে থাকার কারণ জানতে চাইলে সে তার পরিচয় দিয়ে জানায়, অফিস থেকে তাকে নিতে গাড়ি আসবে, সেজন্য অপেক্ষা করছে। সে রাতের পালার কাজ শেষ করে রাত ১২টার আগেই অফিস থেকে বের হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘সে এমনিতে হাসিখুশিই থাকতো। আমাদের সাথে আড্ডা দিতো। তবে কয়েকদিন ধরে সে বলতো তার কিছু ভালো লাগছে না।’
ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকালে রাহনুমার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে রাহনুমার দাফন হবে৷
সাংবাদিক রাহনুমার মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা লক্ষ্য করছি যে, দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় নারী ও কন্যারা বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে পেশাজীবী নারীদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও তাদের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন।’
মহিলা পরিষদ নারী সাংবাদিক রাহানুমা সারাহ'র রহস্যজনক মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবারও (২৭ আগস্ট) কর্মমুখর ছিল তার জীবন। কিন্তু রাতে হাতিরঝিলে ভাসমান দেহ পাওয়া গেল তার। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান সাংবাদিক রাহনুমা সারাহ মারা গেছেন।
রাহনুমার বাবার দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, হাতিরঝিল থেকে উদ্ধারের আগে তার সন্তান হাত তুলে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছে। ঢাকার বেসরকারি টেলিভিশন গাজী টিভির নিউজরুম এডিটর রাহনুমা সারাহর মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে তার লাশ হতিরঝিল থেকে উদ্ধার করা হয়। তার এক সহকর্মী জানান, রাতের পালার কাজ শেষে তিনি আর বাসায় ফেরেননি। তিনি কল্যাণপুর এলাকায় একটি বাসায় একাই থাকতেন বলে তার বাবা বখতিয়ার শিকদার ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন। রাত দেড়টার দিকে হাতিঝিল এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাশের ফরাজি হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার বাবা নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি বখতিয়ার শিকদার বলেন, ‘আমাকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, আমার মেয়ে ঝিল থেকে হাত উঁচু করে বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছিল। তার আকুতি শুনেই রেস্টুরেন্টের দুই কর্মচারী উদ্ধার করেন। তাকে কেউ ধাক্কা দিয়ে লেকে ফেলে দিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করি। আমার মেয়ে সাঁতার জানতে না।’
মৃত্যুর ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন রাহনুমার বড় বোন রাবিতা আলম। ওই থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ভিসেরা প্রতিবেদন পেলেই মত্যুর কারণ জানা যাবে। প্রতিবেদন পেতে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় লাগবে। তবে লাশের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’
বখতিয়ার শিকদার বলেন, ‘‘আমরা মেয়ের মৃত্যু নিয়ে আমরা কাউকে এখনো সন্দেহ করতে পারছি না। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আমি জানতে চাই।”
তিনি বলেন, ‘তবে তার কর্মস্থল নিয়ে অসন্তুষ্টি ছিল। ৩ মাস ধরে বেতন পায়নি। কয়েকদিন আগেও সে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। সে গাজী টিভির চাকরি ছাড়ার জন্য চাকরি খুঁজছিল। সে একা থাকতে পছন্দ করতো, তাই কল্যাণপুরের বাসায় একাই থাকতো। সে অবিবাহিত ছিলো। একজন তার স্বামী দাবি করে বক্তব্য দিলেও তার ব্যাপারে আমাদের কিছু জানা নাই।’
পাচ-ছয় বছর তিনি গাজী টিভিতে কাজ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক রাহনুমা দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন দ্বিতীয়। তার বড় বোন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
হাতিরঝিল থানার সাব ইন্সপেক্টর মাসুদ হোসেন লাশের সুরতহালের সময় ম্যাজিষ্ট্রেটের সঙ্গে ছিলেন। তিন বলেন, ‘‘আমরা ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে তার লাশ পাই। লাশের সুরতহালে বাইরে থেকে শরীরে আমরা কোনো আঘাতের চিহ্ন পাইনি। ঝিল থেকে তোলার সময় তার কাঁধে ব্যাগ ও গলায় আইডি কার্ড ছিল। তার ব্যাগের মধ্যে তার মোবাইল ফোন ছিল। ফোনটি ব্যাগের মধ্যে থাকার কারণে নষ্ট হয়নি। যারা তাকে উদ্ধার করেছেন, তারা ওই ফোন থেকেই তার পরিবার ও অফিসের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।” তিনি সালোয়ার-কামিজ পরা ছিলেন বলে জানান তিনি।
রাহনুমার সহকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌসি রাহনুমার মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি ঘটনাস্থলেও গিয়েছেন। তিনি জানান, ‘রামপুরা ব্রিজসংলগ্ন সোড রেস্টুরেন্টের কাছে হাতিরঝিলের যে অংশ, সেখান থেকেই তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী একজন আমাকে জানিয়েছেন যে, সে ওখানে একটি গাছের নীচে রাত দেড়টার কিছু আগে বসেছিল। তখন তারা তাকে বসে থাকার কারণ জানতে চাইলে সে তার পরিচয় দিয়ে জানায়, অফিস থেকে তাকে নিতে গাড়ি আসবে, সেজন্য অপেক্ষা করছে। সে রাতের পালার কাজ শেষ করে রাত ১২টার আগেই অফিস থেকে বের হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘সে এমনিতে হাসিখুশিই থাকতো। আমাদের সাথে আড্ডা দিতো। তবে কয়েকদিন ধরে সে বলতো তার কিছু ভালো লাগছে না।’
ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকালে রাহনুমার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে রাহনুমার দাফন হবে৷
সাংবাদিক রাহনুমার মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা লক্ষ্য করছি যে, দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় নারী ও কন্যারা বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে পেশাজীবী নারীদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও তাদের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন।’
মহিলা পরিষদ নারী সাংবাদিক রাহানুমা সারাহ'র রহস্যজনক মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

অবৈধভাবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে শেখ হাসিনার ভাগনি ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেফতার করতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
২ ঘণ্টা আগে
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, মামলাগুলোতে জামিন আবেদন শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিন কার্যকর হতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রসিকিউটরদের দ্বন্দ্বে বিচার ব্যাহত হবে না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
৩ ঘণ্টা আগে
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যে থাকা স্থাবর সম্পত্তি জব্দ (অ্যাটাচমেন্ট) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
৩ ঘণ্টা আগে