জানুয়ারিতে মোটরসাইকেলেই ঝরেছে ২৬৪ প্রাণ, সড়কে নিহতের ৪২%

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫: ০৭

বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে ৬২১টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬০৮ জন, আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১০০ জন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ২৭১টি, যা মোট দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৬৪ জন, যা সড়কে মোট নিহতের ৪৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।

এ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের সংখ্যা ৯৭১টি। এর মধ্যে বাস ১৪২টি, ট্রাক ১৯১টি, থ্রি-হুইলার ১৩৭টি ও মোটরসাইকেল ২৭৯টি। একই সময়ে চারটি নৌ দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। আর ২২টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৬ জন, আহত হয়েছেন সাতজন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সড়ক দুর্ঘটনার মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ফাউন্ডেশনের পক্ষ কে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবেদনের তথ্য পাঠানো হয়েছে গণমাধ্যমে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, সাতটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, জানুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছেন ১৯ দশমিক ৬১ জন। দেশব্যাপী ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে।

এ মাসে ১৪৩ জন পথচারী নিহত হয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে, যা মোট নিহতের ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৭৩ জন (১২ শতাংশ)।

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরের দিকে ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ, সকালে ৩১ দশমিক ০৭ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ২৩ শতাংশ, বিকেলে ১৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ ও রাতে ১৯ দশমিক ১৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, সর্বোচ্চ দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে— ২৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যাও সর্বোচ্চ এ বিভাগেই— ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ঘটে ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ, প্রাণহানি ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ; চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ; বরিশাল বিভাগে ৫ শতাংশ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ; সিলেট বিভাগে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ; রংপুর বিভাগে ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ১১ শতাংশ; এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে যেগুলো উঠে এসেছে সেগুলো হলো— ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি, এবং গণপরিবহণ খাতে চাঁদাবাজি।

দুর্ঘটনা রোধে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ১০টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো; চালকদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা; বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়ানো; পরিবহণ মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ করে এসবের জন্য আলাদা পার্শ্ব রাস্তা (সার্ভিস রোড) তৈরি।

সুপারিশে আরও বলা হয়েছে— পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে; গণপরিবহণে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে; রেল ও নৌ পথ সংস্কার করে সড়ক পথের ওপর চাপ কমাতে হবে; টেকসই পরিবহণ কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে; এবং সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

নির্বাচনের আগে পুলিশের ১৫৩ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) থেকে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ১৫৩ কর্মকর্তা।

২ ঘণ্টা আগে

মোবাইল ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞায় সাংবাদিকদের আওতামুক্ত রাখার আশ্বাস ইসির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আওতামুক্ত রাখার আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

২ ঘণ্টা আগে

নির্বাচনের ফল প্রকাশের সময় জানাল ইসি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বিগত সময়ে নির্বাচনের দিন ফলাফল প্রকাশ হলেও, এবার তা নিয়ে শঙ্কা আছে। তিনদিনের গুঞ্জন থাকলেও, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবারের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

৩ ঘণ্টা আগে

ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩৭ ভোটকেন্দ্র : ডিএমপি

৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ৩৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, এই কেন্দ্রগুলোতে সাতজন করে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া থাকবে বডি ক্যামেরা।

৪ ঘণ্টা আগে