
টিম রাজনীতি ডটকম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি তার প্রথম বাজেট, বিএনপি সরকারের ষষ্ঠদশ। এ বাজেটের মধ্য দিয়ে ১৯ বছর পর কোনো বাজেট পেশ করল বিএনপি সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এ বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর সংসদ সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামের এ বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এটি দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যেটিও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতি।
বাজেট প্রণয়নে সরকারের চিন্তাভাবনাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ বাজেট বক্তৃতা পড়ুন এখানে—
<iframe src="https://drive.google.com/file/d/18LuD6KaSsdZ0XC8rOdY3GyCSPZTetOR4/preview" width="100%" height="480"><span data-mce-type="bookmark" style="display: inline-block; width: 0px; overflow: hidden; line-height: 0;" class="mce\_SELRES\_start">?</span><span data-mce-type="bookmark" style="display: inline-block; width: 0px; overflow: hidden; line-height: 0;" class="mce\_SELRES\_start">?</span><span data-mce-type="bookmark" style="display: inline-block; width: 0px; overflow: hidden; line-height: 0;" class="mce\_SELRES\_start">?</span><span data-mce-type="bookmark" style="display: inline-block; width: 0px; overflow: hidden; line-height: 0;" class="mce\_SELRES\_start">?</span></iframe>
আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া সে বিপর্যয় থেকে উত্তরণ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেই রাজনৈতিক সংস্কারকে টেকসই করার জন্য অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন ও মানবিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ দেশের অর্থনীতির যে বিপর্যয় তৈরি করেছে, সমাজ-সংস্কৃতির বুনন যেভাবে ধ্বংস করেছে, এতে এর পুনরুদ্ধার ও একে পুনরায় গতিশীল করা রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন, অর্থাৎ সব মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং মানবিক বিবেচনাসম্পন্ন সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠা ছাড়া এই রাজনৈতিক সংস্কার টেকসই হবে না।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে— রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া অর্থনীতির বিপর্যয় থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের ওপর নতুন করে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।
নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে কেরুর উৎপাদিত দেশি ও বিদেশি উভয় ব্র্যান্ডের মদের দাম প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা কর বসবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থবিলে ভ্যাট আইনের তৃতীয় তফসিল সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে কেরুর উৎপাদিত মদের ওপর কেবল আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য ছিল, কোনো ভ্যাট ছিল না। কোম্পানিটি এযাবৎ কেবল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে নির্দিষ্ট হারে আবগারি শুল্ক বা এক্সাইজ ডিউটি পরিশোধ করে আসছিল। নতুন করে ভ্যাট যুক্ত হওয়ার কারণে এখন থেকে কেরুর উৎপাদিত মদ পানে সেবনকারীদের বাড়তি অর্থ গুনতে হবে।
প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’
বর্তমানে কার্যকর অষ্টম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা। নবম জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বক্তৃতায় ‘কালো টাকা’ তথা অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ করা নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে অর্থবিলে আয়কর আইন ২০২৩-এর প্রথম তফসিলে আনা সংশোধনীতে কালো টাকা সাদা করার তথা অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ টাকার উৎস নিয়ে যেন কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে সে বিধানও রাখা হয়েছে।
এর মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় এসে প্রথম বাজেট প্রস্তাবনাতেই ‘কালো টাকা’ তথা অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ রাখল বিএনপি সরকার। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিল এমন সুযোগ। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও এ সুযোগ রাখা হয়েছিল। পরে সমালোচনার মুখে তা বাদ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এ বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আগামী ৩০ জুন প্রস্তাবিত এ বাজেট পাস হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে অর্থবিলের সংশোধনী অপরিবর্তিত থাকলে জুলাই মাস থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচা করে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ মিলবে।
অর্থবিলের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, এই আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যা কিছু থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি ‘স্বতঃপ্রণোদিতভাবে’ প্রদর্শিত নিম্নবর্ণিত বিনিয়োগ বা ক্রয় অথবা প্রাপ্তির ‘উৎস’ এবং এর বিপরীতে ‘পরিশোধিত করে’র বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।
কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার প্রকৃতমূল্য দলিলমূল্যের চেয়ে বেশি হলে তিনি ওই ‘অপ্রদর্শিত’ অতিরিক্ত ক্রয়মূল্যের ওপর ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য ‘নিয়মিত করহারে’ আয়কর পরিশোধ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে অর্থবিলের সংশোধনীতে।
অর্থাৎ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য যেভাবে একটি ধাপ অনুযায়ী করমুক্ত আয়সীমা থাকে, তারপর বিভিন্ন ধাপে আয় হলে তার ওপর করহার পরিবর্তন হয়, এ ক্ষেত্রেও তাইই হবে। একইভাবে যিনি বিক্রি করে অপ্রদর্শিত অর্থের মালিক হবেন এবং বৈধ করতে চাইবেন, তার জন্যও বিধান রাখা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির প্রকৃতমূল্য দলিলমূল্যের চেয়ে বেশি হলে তিনি অপ্রদর্শিত ওই অতিরিক্ত অঙ্কের ওপর মূলধনী মুনাফার জন্য প্রযোজ্য হারে আয়কর পরিশোধ করবেন। অর্থাৎ তিনি এই জমি যখন কিনেছেন তখন যে মূল্য ছিল এবং তিনি যে টাকায় বিক্রি করেছেন— এই দুইয়ের মধ্যে যে ব্যবধান থাকবে, সেটিই তার মুনাফা। এই আয়ের ওপর তাকে ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে— যদি কোনো ব্যক্তি তার অপ্রদর্শিত অর্থ ‘স্বতঃপ্রণোদিত’ বৈধ করার আগেই আয়কর আইনে তার বিরুদ্ধে কোনো অডিট বা কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, তাহলে তখনো তিনি এ অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তার সেই অর্থের ওপর তখন যে কর ধার্য হওয়ার কথা, তার চেয়ে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে তাকে।
অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার জন্য আয়কর বিবরণী বা রিটার্নের জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণীতে উৎসে কর্তিত বা সংগৃহীত কর উল্লেখ করার বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমেই কর্মকর্তারা বুঝতে পারবেন এবং তাকে এ নিয়ে আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না।
তবে তার এই ‘স্বতঃপ্রণোদিত’ ঘোষণার আগেই যদি বাংলাদেশের কোনো আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা চলে বা অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তাহলে তিনি এই সুযোগ আর গ্রহণ করতে পারবেন না।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সরকার। বয়স্ক ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখে এবং মাসিক ভাতার হার ৭০০ টাকায় উন্নীত করার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, হৃদরোগে আক্রান্ত ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ৬৫ হাজার রোগীকে আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এককালীন এক লাখ টাকায় উন্নীতকরণের কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এ বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।
এদিকে অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে। জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে ২০, ১৫ ও ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ বাড়িয়ে ৩৮ লাখে এবং মাসিক ভাতার হার এক হাজার টাকায় উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে।
এর বাইরে এক লাখ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি/মেধাবৃত্তি প্রদান, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর দুই লাখ ২৮ হাজার ৩৯০ জনকে মাসিক ৬৫০ টাকা হারে ভাতা প্রদান এবং ৪৫ হাজার ৩৩৮ জন অনগ্রসর শিক্ষার্থীকে বৃত্তি/মেধাবৃত্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বাজেট প্রস্তাবনায়। ১৫ হাজার কর্মহীন শ্রমিককে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা হারে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত ভাতা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমানো ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির সিগারেটের ২০ শলাকার এক প্যাকেটের দাম বেড়েছে ৫০ টাকা।
বর্তমানে প্রিমিয়াম মানের প্রতি ১০ শলাকার এক প্যাকেট সিগারেটের দাম ন্যূনতম ১৮৫ টাকা। সে হিসাবে একটি সিগারেটের দাম পড়ে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। নতুন বাজেট প্রস্তাবনায় এমন এক প্যাকেট সিগারেটের ন্যূনতম দাম ধরা হয়েছে ২১০ টাকা বা প্রতি পিস ২১ টাকা। সে হিসাবে একেকটি সিগারেটের দাম বাড়ছে আড়াই টাকা। আর বাজারে থাকা ২০ পিস সিগারেটের এক প্যাকেটের দাম বাড়বে ৫০ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে অন্যান্য সিগারেটের দামও বাড়ানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিম্নস্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৬০ টাকা। মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অতি-উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফলে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি প্যাকেটে ২ টাকা, মধ্যম স্তরে ১২ টাকা, উচ্চ স্তরে ২০ টাকা এবং অতি-উচ্চ স্তরে ২৫ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।
এ ছাড়া নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে এসব পণ্যের বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের জন্য বিদ্যমান ভাতা কাঠামোও বহাল রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ।
এর আওতায় ‘এ’ ক্যাটাগরির আহতরা মাসে ২০ হাজার টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরির আহতরা ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির আহতরা ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তারা আগের মতোই মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। তবে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ভাতা বাড়ানোর ফলে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার মাসে ৪০ হাজার টাকা, বীর উত্তম পরিবারের সদস্যরা ৩০ হাজার টাকা এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্তদের পরিবার ২৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় এক হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বরাদ্দ করা অর্থের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জাতীয় প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এ ছাড়া দেশে ও বিদেশে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও অপারেশন কার্যক্রমের পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্নেল বা সমমান এবং তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রমও এই বরাদ্দের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।
বাজেটে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য পাঠানোর ক্ষেত্রে সমন্বয়, রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সনদ বাস্তবায়ন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ এবং যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও পরিচালনায়ও এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
গত চার অর্থবছর ধরেই প্রতিরক্ষা খাতে ধারাবাহিকভাবে বরাদ্দ বাড়ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৩৯ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৪০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ০১ শতাংশ।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় আগামী অর্থবছরের জন্য স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠন টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পূর্বশর্ত। তবে ফ্যাসিবাদী সময়ে স্বাস্থ্য খাতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও উপকরণ ক্রয়ে বিপুল ব্যয় হলেও সেবার মানে প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি।
জনগণের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ সরকারের স্বাস্থ্যনীতির ৫ মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি জানিয়েছেন, সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দেওয়া হবে ই-হেলথ কার্ড। বলেছেন, সরকার পর্যায়ক্রমে এ খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন তিনি, যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী সরকারের স্বাস্থ্যনীতির পাঁচ মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন বাজেট বক্তৃতায়। এগুলো হলো—
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, এই বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশ। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ বরাদ্দ ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বেশি। পাঁচ বছর আগের ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় এ বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামের এই বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার।
অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
এই ঘাটতি মোকাবিলার পরিকল্পনা তুলে ধরে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব পেশ করছি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ আমরা ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগামী অর্থবছরে ছয় হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করেছি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে মোট ২ লাখ ৭৯ হাজার এক কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, এই অঙ্ক মোট বরাদ্দের ২৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ভৌত অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সাধারণ সেবা খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।
আমীর খসরু বলেন, সামাজিক খাতের বর্ধিত ও সর্বোচ্চ ব্যয় প্রস্তাব সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিফলন।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে পরিচালন ব্যয় কমানোর কৌশল গ্রহণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনের সময় বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।
ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা ক্রমান্বয়ে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। সে লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ (সংশোধিত) ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় চলতি অর্থবছরের ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগামী অর্থবছরে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজস্ব আয়ের এই প্রাক্কলন জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লক্ষ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করছি।
ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দেশকে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, আমরা ঋণনির্ভর বিনিয়োগকে ইক্যুইটিতে রূপান্তর করছি। আমাদের লক্ষ্য বর্তমান ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দূরে সরে এসে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন চলছে।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, আমাদের সরকার দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর।
বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতির দিকে অগ্রসরের পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট এবং বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে, যেন ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর চাপ কমে। করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড, সুকুক এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণের উন্নয়ন চলমান আছে।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস গড়ে তুলতে কর্পোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে পৌর বন্ড ইস্যুর কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থাকায় এ ঘোষণা কিছুটা হলেও স্বস্তির হবে। সবশেষ মে মাসেও মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি ছিল।
এদিকে সরকার একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন অর্থবছরের জন্য তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে মোট আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ৎঅর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১০টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেটে যে ১০টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সংসদে পেশ করতে শুরু করেছেন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। তার অনুমোদন দিয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী।
সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনে উপস্থিত রয়েছেন। উপস্থিত রয়েছেন এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা, সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর সংসদ সদস্যরা।

দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে এসব পরিসংখ্যানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্য প্রশ্ন— বাজেট ঘোষণার পর বাজারে চাল-ডাল-তেলের দাম বাড়বে নাকি কমবে? সংসারের খরচ সামলানো সহজ হবে, নাকি আরও কঠিন? চাকরির সুযোগ বাড়বে কি? চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় কিছুটা কমবে কি?
বিস্তারিত পড়ুন এখানে— সাধারণ মানুষের জীবনে বাজেট কী কাজে লাগে?

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার গুণেরও বেশি। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের প্রথম বাজেটের মোট আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা, যেখানে সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকায়। প্রথম বাজেটে ঘাটতি ছিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে, আর সর্বশেষ বাজেটে ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৬ শতাংশ)।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে— বাংলাদেশের বাজেট যাত্রা: আকার বেড়েছে ১০ হাজার গুণ

ঢাকার একটি কফি শপে বসে চার-পাঁচজন তরুণ-তরুণী ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রাখছেন। আড্ডার মূল বিষয়বস্তু কোনো সিনেমার ট্রেইলার কিংবা ছুটির দিনের পরিকল্পনা নয়, বরং বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন, তারই খসড়া ও সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো!
হ্যাঁ, বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম ও ভেতরের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে বাজেট সম্পর্কিত যেসব তথ্য এখন পর্যন্ত উঠে এসেছে, তা নিয়েই দেশের সচেতন তরুণ ও নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে— বাজেট নিয়ে কী ভাবছেন দেশের তরুণরা?

কাগজে-কলমে বাজেট মানে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার আয়-ব্যয়ের খতিয়ান। কিন্তু সচিবালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে বের হয়ে এই শব্দটা যখন কারওয়ান বাজারের পাইকারি আড়ত, সদরঘাটের কুলি বাসের কাউন্টার কিংবা মিরপুরের মেসগুলোতে পৌঁছায়, তখন এর অর্থ পুরোপুরি বদলে যায়।
সাধারণ মানুষের কাছে বাজেট মানে কোনো তাত্ত্বিক সংজ্ঞা নয়; বাজেট মানে চালের বস্তার দাম, বাসের ভাড়া, আর মাসের শেষে পকেটে কয়টা টাকা অবশিষ্ট থাকল তার বাস্তব খতিয়ান।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে— প্রান্তিক মানুষের কাছে বাজেট মানে কী?
দীর্ঘ ১৯ বছর পর জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটিই হবে দলটির প্রথম বাজেট।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে— ১৯ বছর পর বাজেট বিএনপি সরকারের

মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা অংশ নেন।
এবারের বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট উত্থাপন করবেন। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদে উত্থাপনের অপেক্ষা।