প্যাভিলিয়ন উচ্ছেদ না হলে বইমেলায় অংশ নেবে না প্রকাশক ঐক্য

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
অমর একুশে বইমেলা। রাজনীতি ডটকম ফাইল ছবি

বাংলা একাডেমির সমঝোতা অনুযায়ী ২০ ফেব্রুয়ারি রাতের মধ্যে প্যাভিলিয়ন উচ্ছেদের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে স্টল বরাদ্দের লটারি ও বইমেলায় অংশ নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রকাশক ঐক্য।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বরাবর লেখা এক চিঠিতে প্রকাশক ঐক্য এ কথা জানিয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন প্রকাশকের সই করা চিঠির একটি অনুলিপি শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নবগঠিত সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও সচিবসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ‘প্রকাশক ঐক্যে’র ফলপ্রসূ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের পরদিনই অনুষ্ঠিত এ সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কাছে প্রকাশকরা বইমেলা নিয়ে বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরেন।

প্রকাশক ঐক্যের চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই সভায় প্রকাশকরা জানান যে এবারের বইমেলায় তারা কোনো প্যাভিলিয়ন নেবেন না এবং অন্য কারও প্যাভিলিয়নও থাকবে না। কিন্তু প্রকাশক ঐক্যের কর্মসূচি চলাকালে বাংলা একাডেমি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনেক অপ্রধান বা অযোগ্য প্রকাশককে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয় এবং তারা নির্মাণকাজ এগিয়ে নেয়।

এ অবস্থায় প্যাভিলিয়নের বিপরীতে ছোট স্টল নিয়ে যেনতেনভাবে মেলায় অংশ নেওয়া মূলধারার সৃজনশীল প্রকাশকদের জন্য চরম অমর্যাদাকর হবে বলে মনে করছে প্রকাশক ঐক্য।

চিঠিতে বলা হয়েছে, যেসব প্রকাশক ঐক্যের বাইরে গিয়ে প্যাভিলিয়ন নিয়েছিলেন, তারা সরকারের ভর্তুকি ছাড়াই ফি দিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু আজ ‘প্রকাশক ঐক্যে’র আন্দোলনের ফলেই সরকার শতভাগ ভাড়া মওকুফ করেছে এবং সেই সুবিধা এখন সবাই ভোগ করবেন। অথচ মেলার প্রস্তুতিতে তারা আগে থেকেই অন্যায্য সুবিধা পেয়ে আসছেন।

প্রস্তুতিহীনতার চরম ঝুঁকি নিয়ে মেলায় এসে এমন বৈষম্যের শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে প্রকাশক ঐক্য। প্রকাশকরা বৈষম্যহীন মেলা চান উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, মাঠের দৃশ্যমান বৈষম্য বহাল রেখে আমাদের পক্ষে সামনে এগোবার আর কোনো পথ খোলা নেই।

এ অবস্থায় নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থান তুলে ধরে প্রকাশক ঐক্য চিঠিতে লিখেছে, কোনো মৌখিক আশ্বাস কিংবা লিখিত প্রতিশ্রুতি নয়, শুক্রবার রাত ১০টার মধ্যে মেলা প্রাঙ্গণে নির্মিত প্যাভিলিয়নের সব অবকাঠামো ও ভিত্তি ভেঙে ফেলার দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের পরই কেবল 'প্রকাশক ঐক্য' স্টল বরাদ্দের লটারিতে অংশ নেবে। এর ব্যত্যয় হলে প্রকাশক ঐক্যের পক্ষে লটারিতে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না। মেলাকে সর্বজনীন, বৈষম্যহীন ও প্রাণবন্ত করার স্বার্থে এবং বাংলা একাডেমির সমঝোতার প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে শুক্রবার রাত ১০টার মধ্যেই প্যাভিলিয়ন উচ্ছেদের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়ে লটারি ও বইমেলায় অংশগ্রহণের পথ সুগম করা হবে বলে প্রত্যাশা জানিয়েছে প্রকাশক ঐক্য।

সর্বস্তরের প্রকাশকদের পক্ষে চিঠিতে সই করেছেন — আহমদ পাবলিশিং হাউজের মেছবাহউদ্দীন আহমদ, কাকলীর এ কে নাসির আহমেদ, অনন্যার মনিরুল হক, অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম, অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের সৈয়দ জাকির হোসাইন, কথাপ্রকাশের জসীম উদ্দিন, বাতিঘর প্রকাশনীর মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, প্রথমা প্রকাশনের মো. মোবারক হোসেন, রিদম প্রকাশনা সংস্থার মো. গফুর হোসেন, লাবনী প্রকাশনীর ইকবাল হোসেন সানু, বাতিঘরের দীপঙ্কর দাশ, পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্সের কামরুল হাসান শায়ক, ইতি প্রকাশনের মো. জহির দীপ্তি, ইউপিএলের মাহ্‌রুখ মহিউদ্দীন এবং আদর্শের মাহাবুব রাহমান।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

হামে ২৮ দিনে ১৬৯ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত ও লক্ষণ নিয়ে মোট ১৬৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৮৭৪ শিশু।

৮ ঘণ্টা আগে

রেশমের হারানো গৌরব ফেরাতে কাজ করছে সরকার: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, রাজশাহী সিল্ক (রেশম) শুধু একটি অঞ্চলের নয়, এটি সারা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। তাই এই শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।

১০ ঘণ্টা আগে

শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি, কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব-জবাবদিহিতার তাগিদ শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আগামী দিনে শিক্ষাখাতে বাজেট আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তিনি কারিগরি শিক্ষাকে দেশের উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

১১ ঘণ্টা আগে

এসএসসি পরীক্ষায় লোডশেডিং রোধে বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেবেন শিক্ষামন্ত্রী

আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলাকালে লোডশেডিং বন্ধে বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, পরীক্ষা চলাকালে যেন সারা দেশে কোনো লোডশেডিং না হয়, সেজন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে বিশেষ চিঠি দেবো। আশা করি, লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে পরীক্ষার্থীরা মুক্তি পাবে।

১৩ ঘণ্টা আগে