
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে ওষুধ নিয়ে গবেষণার পরিধি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো বে এলাকায় একটি ‘ওয়েট ল্যাব’ বা বাস্তব গবেষণাগার স্থাপন করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। এত দিন কম্পিউটারভিত্তিক গবেষণার ওপর বেশি নির্ভর করলেও এখন ‘গোপনে’ বাস্তব জীববিজ্ঞানের পরীক্ষাও চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি নীরবে এই গবেষণাগার স্থাপন করেছে। বিরল রোগের চিকিৎসা আবিষ্কারে ভূমিকা রাখার কথা অ্যানথ্রপিক আগেই জানিয়েছে। আর এ কাজে তাদের গবেষণা এখন শুধু ‘ইন সিলিকো’ বা কম্পিউটারভিত্তিক মূল্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
এআই নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই জীববিজ্ঞান ও ওষুধবিজ্ঞানে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে অ্যানথ্রপিক।মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যানথ্রপিকের জীবনবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এরিক কডেরার-আব্রামস প্রতিষ্ঠানটির ওয়েট ল্যাব থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, জীববিজ্ঞানে কাজ করতে হলে চূড়ান্ত পরীক্ষা এখনো বাস্তব গবেষণাগারেই করতে হয় এবং আরও কিছু সময় তা করতে হবে। আমরা এখন অবশ্যই সেটিই করছি। আমাদের পদ্ধতিকে আমি এমনই বলব, যা অধিকাংশ বায়োটেক প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়— কিছু কাজ আমরা নিজেদের গবেষণাগারে করছি এবং কিছু কাজ বাইরের অংশীদারদের সঙ্গে করছি।”
পরে অ্যানথ্রপিকের এক মুখপাত্র বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবটি নির্দিষ্টভাবে ওষুধ আবিষ্কারের জন্য নয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি রাজি হননি।
অ্যানথ্রপিকের এই উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির বড় একটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে ছোট পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওষুধশিল্প যেসব রোগের চিকিৎসা নিয়ে যথেষ্ট কাজ করছে না, সেসব রোগ মোকাবিলায় এআই কাজে লাগাতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে এমন সময়ে তারা এই উদ্যোগ নিচ্ছে, যখন এআইয়ের কারণে মানুষের চাকরি হারানো থেকে শুরু করে মানবজীবন হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একজন ব্যক্তি বলেন, অ্যানথ্রপিকের ওষুধ গবেষণা সফল হবে— এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ বেশির ভাগ ওষুধই নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাজারে পৌঁছাতে পারে না।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেইয়ের জন্য এই উদ্যোগের সঙ্গে ব্যক্তিগত একটি বিষয়ও জড়িয়ে আছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, একটি রোগে তার বাবা মারা গিয়েছিলেন। অথচ তার বাবার মৃত্যুর মাত্র কয়েক বছর পরই সেই রোগের চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়। কডেরার-আব্রামসও একই ধরনের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “কোম্পানির লক্ষ্য হলো এমনভাবে শক্তিশালী এআই তৈরি করা, যা বিশ্বের জন্য উপকারী হবে। আমরা মনে করি, এর সবচেয়ে বড় সুযোগ রয়েছে জীবনবিজ্ঞানে। আর আমরা যা করছি, তার সবকিছুর পেছনে এটিই প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।”
উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিপর্যয়ের আশঙ্কার মধ্যে ভারসাম্য
অন্য বায়োটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো অ্যানথ্রপিকও গবেষণাগারে শারীরিক স্বয়ংক্রিয়তা বা অটোমেশন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ওই দুই ব্যক্তি। তারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।
তাদের একজনের ভাষ্য, অ্যানথ্রপিক চাইছে, প্রতিষ্ঠানটির ক্লদ এআই কীভাবে রোবট পরিচালিত যন্ত্রগুলোকে নির্দেশ দিয়ে মানুষের সীমিত হস্তক্ষেপে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাতে পারে, সেই সক্ষমতা আরও বাড়াতে। তবে অ্যানথ্রপিকের মুখপাত্র বলেছেন, নিরাপত্তার জন্য মানুষের তদারকি ও অংশগ্রহণকে প্রতিষ্ঠানটি এখনো অপরিহার্য মনে করে।
কডেরার-আব্রামস বলেন, “গবেষণাগারের কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা এখনো একেবারে শুরুর পর্যায়ে আছি। তবে এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত করার সম্ভাবনা রয়েছে।”
জীববিজ্ঞানের গবেষণাগারে দ্রুত বিকশিত প্রযুক্তি ব্যবহারের এই উদ্যোগ অ্যানথ্রপিক এমন এক সময়ে শুরু করেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি নিজেই এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে।
দুই সপ্তাহ আগে অ্যানথ্রপিকের কয়েকজন গবেষক সতর্ক করেছেন যে এআই একসময় মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। একই সময়ে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের এআই ব্যবস্থাগুলো কীভাবে জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে, তার কিছু উদাহরণ তারা পেয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেছেন।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী আমোদেই এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বানও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে ওপেনএআইয়ের এজেন্টগুলোর চেয়েও বেশি সক্ষম কোনো এআই হাগিং ফেসে হ্যাকিংয়ের মতো ঘটনা ঘটাতে পারলে তা ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
অন্যদিকে, অ্যানথ্রপিক একই সময়ে এআই উন্নয়নে আরও অর্থ সংগ্রহের জন্য সম্ভাব্য ২ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কডেরার-আব্রামস বলেন, “জীবনবিজ্ঞানে আমাদের কাজের ক্ষেত্রে আমরা সব সময় এসব বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখছি। এমনভাবে মডেলকে উন্নত করার চেষ্টা করছি, যাতে ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়। একই সঙ্গে ঝুঁকি কমাতে কীভাবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকছি।”
গবেষণাগারের সরঞ্জাম সংগ্রহ বাড়াচ্ছে অ্যানথ্রপিক
গত জুনে সানফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অ্যানথ্রপিক প্রথমবারের মতো ওষুধ নিয়ে নিজস্ব গবেষণা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানায়। ওই অনুষ্ঠানে কডেরার-আব্রামস বলেছিলেন, প্রচলিত ওষুধ কোম্পানিগুলো যেসব ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভের সম্ভাবনা কম দেখে আগ্রহী নয়, সেসব ক্ষেত্রে অ্যানথ্রপিক ওষুধ তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা করবে।
এরপর প্রতিষ্ঠানটি ‘ক্লদ সায়েন্স’ নামে একটি সফটওয়্যারও চালু করে। এর আগে নোভার্টিসের প্রধান নির্বাহী ভাস নারাসিমহানকে নিজেদের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করে অ্যানথ্রপিক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের শেয়ারের বিনিময়ে স্টার্টআপ কোম্পানি কো-এফিশিয়েন্ট বায়োও কিনে নেয় অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে চুক্তির মূল্য নিয়ে মন্তব্য করেনি। এই অধিগ্রহণ ওষুধ উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে অ্যানথ্রপিককে সহায়তা করবে।
এখন নিজস্ব গবেষণাগারের কার্যক্রম আরও বাড়াচ্ছে অ্যানথ্রপিক। এর লক্ষ্য গবেষণার গতি বাড়ানো এবং জীববিজ্ঞানের কাজের সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করা। তবে যেখানে বাইরে থেকে কাজ করানো বেশি কার্যকর, সেখানে প্রতিষ্ঠানটি তা বাইরের অংশীদারদের দিয়ে করাচ্ছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন কডেরার-আব্রামস।
তিনি বলেন, “কিছু কাজ আছে, যেগুলো আমরা নিজেদের হাতে অনেক দ্রুত করতে পারি।” এর লক্ষ্য হলো “সম্ভব সবচেয়ে বড় পরিসরে কাজ করা”।
সম্প্রতি লিংকডইনে প্রকাশিত এক চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে অ্যানথ্রপিক এমন একজন নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিকে নিয়োগের কথা জানিয়েছে, যিনি গবেষণার সরঞ্জাম সংগ্রহসহ অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুত বাড়াতে পারবেন। জবেরা নামে একটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত অ্যানথ্রপিকের আরেকটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ‘প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ’সহ বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক কাজের বিশেষজ্ঞ চাওয়া হয়েছে।
অ্যানথ্রপিকের তৃতীয় একটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “জীবনবিজ্ঞানের অগ্রগতিকে ১০ গুণ দ্রুত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
কডেরার-আব্রামস জানান, কর্মীসংখ্যা ও সম্পদ— দুই দিক থেকেই জীবনবিজ্ঞান এখন অ্যানথ্রপিকের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলোর একটি।
‘চিকিৎসা কঠিন’ রোগকে লক্ষ্য
কডেরার-আব্রামসের মতে, আগে যেসব রোগকে ‘আনড্রাগেবল’ বা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা প্রায় অসম্ভব মনে করা হতো, এআই সেসব রোগের চিকিৎসা তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত করতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বাইস্পেসিফিক ও ট্রাইস্পেসিফিক অ্যান্টিবডির কথা বলেন। এগুলো জটিল ধরনের অণু, যা নির্দিষ্ট কোনো প্রোটিন বা কোষের একাধিক স্থানে কাজ করার জন্য তৈরি করা যায়। একইভাবে এগুলো একাধিক লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করতে পারে। এআইয়ের সহায়তায় এসব অণু আবিষ্কারের প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে।
তবে অ্যানথ্রপিক ঠিক কোন কোন রোগকে লক্ষ্য করে কাজ করছে এবং এ পর্যন্ত কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। কোনো একটি অণু শনাক্ত হওয়ার পরও সেটিকে ওষুধ হিসেবে বাজারে আনতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এ সময় মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালসহ বিভিন্ন পরীক্ষা চালাতে হয়। এখন পর্যন্ত এই চ্যালেঞ্জের দায়িত্ব নেয়নি অ্যানথ্রপিক।
অ্যানথ্রপিকের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যালফাবেটের ওষুধ আবিষ্কারবিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইসোমরফিক ল্যাবসও ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে যেতে কয়েক বছর ধরে কাজ করছে। তারাও ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সেই পর্যায়ে যাওয়ার লক্ষ্য পিছিয়ে দিয়েছে।
গবেষণাগার ও অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে অটোমেশন বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত আগস্টে অ্যানথ্রপিক ‘মডেল হার্ডওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড’ চালু করে। এর মাধ্যমে এআইকে বিভিন্ন গবেষণাগারের সরঞ্জাম পরিচালনায় সহায়তা করা হয়। এর আগে একাডেমিক গবেষণায় তৈরি ‘পাইল্যাবরোবট’ নামের একটি প্রযুক্তি একই ধরনের, তবে ভিন্ন ধরনের অটোমেশন চাহিদা পূরণের কাজ করেছিল। সেটির সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
অ্যানথ্রপিকের তৈরি ‘মডেল হার্ডওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড’সহ বিভিন্ন এআই সেবা ও সরঞ্জাম বিশ্বের বড় বড় ওষুধ কোম্পানিকে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রোশের জেনেনটেক, ব্রিস্টল মায়ার্স স্কুইব এবং নোভো নরডিস্ক।
তবে একই সময়ে অ্যানথ্রপিককে একটি আস্থার সমস্যারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ওই দুই ব্যক্তি। অ্যানথ্রপিকের গ্রাহকেরা আশঙ্কা করতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ওষুধ প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য জেনে ফেলবে। যদিও অ্যানথ্রপিক গ্রাহকদের তথ্য নিজেদের ব্যবস্থার মধ্যে আলাদা করে রাখে এবং অন্যদের দেখার সুযোগ দেয় না।
কডেরার-আব্রামস বলেন, প্রতিযোগিতার বিষয়টি আংশিকভাবে বিবেচনায় নিয়ে অ্যানথ্রপিক একটি সীমারেখা ঠিক করেছে। আপাতত প্রতিষ্ঠানটি নিজে কোনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাচ্ছে না। বরং ওষুধশিল্পের যেসব প্রয়োজন পূরণে প্রচলিত প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে না, সেসব ক্ষেত্রেই তারা মনোযোগ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা এমন ওষুধ কোম্পানি বা বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি না, যাদের ব্যবসাই হলো ওষুধ বাজারে নিয়ে আসা।”

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে ওষুধ নিয়ে গবেষণার পরিধি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো বে এলাকায় একটি ‘ওয়েট ল্যাব’ বা বাস্তব গবেষণাগার স্থাপন করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। এত দিন কম্পিউটারভিত্তিক গবেষণার ওপর বেশি নির্ভর করলেও এখন ‘গোপনে’ বাস্তব জীববিজ্ঞানের পরীক্ষাও চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি নীরবে এই গবেষণাগার স্থাপন করেছে। বিরল রোগের চিকিৎসা আবিষ্কারে ভূমিকা রাখার কথা অ্যানথ্রপিক আগেই জানিয়েছে। আর এ কাজে তাদের গবেষণা এখন শুধু ‘ইন সিলিকো’ বা কম্পিউটারভিত্তিক মূল্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
এআই নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই জীববিজ্ঞান ও ওষুধবিজ্ঞানে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে অ্যানথ্রপিক।মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যানথ্রপিকের জীবনবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এরিক কডেরার-আব্রামস প্রতিষ্ঠানটির ওয়েট ল্যাব থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, জীববিজ্ঞানে কাজ করতে হলে চূড়ান্ত পরীক্ষা এখনো বাস্তব গবেষণাগারেই করতে হয় এবং আরও কিছু সময় তা করতে হবে। আমরা এখন অবশ্যই সেটিই করছি। আমাদের পদ্ধতিকে আমি এমনই বলব, যা অধিকাংশ বায়োটেক প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়— কিছু কাজ আমরা নিজেদের গবেষণাগারে করছি এবং কিছু কাজ বাইরের অংশীদারদের সঙ্গে করছি।”
পরে অ্যানথ্রপিকের এক মুখপাত্র বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবটি নির্দিষ্টভাবে ওষুধ আবিষ্কারের জন্য নয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি রাজি হননি।
অ্যানথ্রপিকের এই উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির বড় একটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে ছোট পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওষুধশিল্প যেসব রোগের চিকিৎসা নিয়ে যথেষ্ট কাজ করছে না, সেসব রোগ মোকাবিলায় এআই কাজে লাগাতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে এমন সময়ে তারা এই উদ্যোগ নিচ্ছে, যখন এআইয়ের কারণে মানুষের চাকরি হারানো থেকে শুরু করে মানবজীবন হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একজন ব্যক্তি বলেন, অ্যানথ্রপিকের ওষুধ গবেষণা সফল হবে— এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ বেশির ভাগ ওষুধই নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাজারে পৌঁছাতে পারে না।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেইয়ের জন্য এই উদ্যোগের সঙ্গে ব্যক্তিগত একটি বিষয়ও জড়িয়ে আছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, একটি রোগে তার বাবা মারা গিয়েছিলেন। অথচ তার বাবার মৃত্যুর মাত্র কয়েক বছর পরই সেই রোগের চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়। কডেরার-আব্রামসও একই ধরনের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “কোম্পানির লক্ষ্য হলো এমনভাবে শক্তিশালী এআই তৈরি করা, যা বিশ্বের জন্য উপকারী হবে। আমরা মনে করি, এর সবচেয়ে বড় সুযোগ রয়েছে জীবনবিজ্ঞানে। আর আমরা যা করছি, তার সবকিছুর পেছনে এটিই প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।”
উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিপর্যয়ের আশঙ্কার মধ্যে ভারসাম্য
অন্য বায়োটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো অ্যানথ্রপিকও গবেষণাগারে শারীরিক স্বয়ংক্রিয়তা বা অটোমেশন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ওই দুই ব্যক্তি। তারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।
তাদের একজনের ভাষ্য, অ্যানথ্রপিক চাইছে, প্রতিষ্ঠানটির ক্লদ এআই কীভাবে রোবট পরিচালিত যন্ত্রগুলোকে নির্দেশ দিয়ে মানুষের সীমিত হস্তক্ষেপে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাতে পারে, সেই সক্ষমতা আরও বাড়াতে। তবে অ্যানথ্রপিকের মুখপাত্র বলেছেন, নিরাপত্তার জন্য মানুষের তদারকি ও অংশগ্রহণকে প্রতিষ্ঠানটি এখনো অপরিহার্য মনে করে।
কডেরার-আব্রামস বলেন, “গবেষণাগারের কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা এখনো একেবারে শুরুর পর্যায়ে আছি। তবে এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত করার সম্ভাবনা রয়েছে।”
জীববিজ্ঞানের গবেষণাগারে দ্রুত বিকশিত প্রযুক্তি ব্যবহারের এই উদ্যোগ অ্যানথ্রপিক এমন এক সময়ে শুরু করেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি নিজেই এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে।
দুই সপ্তাহ আগে অ্যানথ্রপিকের কয়েকজন গবেষক সতর্ক করেছেন যে এআই একসময় মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। একই সময়ে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের এআই ব্যবস্থাগুলো কীভাবে জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে, তার কিছু উদাহরণ তারা পেয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেছেন।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী আমোদেই এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বানও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে ওপেনএআইয়ের এজেন্টগুলোর চেয়েও বেশি সক্ষম কোনো এআই হাগিং ফেসে হ্যাকিংয়ের মতো ঘটনা ঘটাতে পারলে তা ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
অন্যদিকে, অ্যানথ্রপিক একই সময়ে এআই উন্নয়নে আরও অর্থ সংগ্রহের জন্য সম্ভাব্য ২ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কডেরার-আব্রামস বলেন, “জীবনবিজ্ঞানে আমাদের কাজের ক্ষেত্রে আমরা সব সময় এসব বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখছি। এমনভাবে মডেলকে উন্নত করার চেষ্টা করছি, যাতে ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়। একই সঙ্গে ঝুঁকি কমাতে কীভাবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকছি।”
গবেষণাগারের সরঞ্জাম সংগ্রহ বাড়াচ্ছে অ্যানথ্রপিক
গত জুনে সানফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অ্যানথ্রপিক প্রথমবারের মতো ওষুধ নিয়ে নিজস্ব গবেষণা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানায়। ওই অনুষ্ঠানে কডেরার-আব্রামস বলেছিলেন, প্রচলিত ওষুধ কোম্পানিগুলো যেসব ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভের সম্ভাবনা কম দেখে আগ্রহী নয়, সেসব ক্ষেত্রে অ্যানথ্রপিক ওষুধ তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা করবে।
এরপর প্রতিষ্ঠানটি ‘ক্লদ সায়েন্স’ নামে একটি সফটওয়্যারও চালু করে। এর আগে নোভার্টিসের প্রধান নির্বাহী ভাস নারাসিমহানকে নিজেদের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করে অ্যানথ্রপিক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের শেয়ারের বিনিময়ে স্টার্টআপ কোম্পানি কো-এফিশিয়েন্ট বায়োও কিনে নেয় অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে চুক্তির মূল্য নিয়ে মন্তব্য করেনি। এই অধিগ্রহণ ওষুধ উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে অ্যানথ্রপিককে সহায়তা করবে।
এখন নিজস্ব গবেষণাগারের কার্যক্রম আরও বাড়াচ্ছে অ্যানথ্রপিক। এর লক্ষ্য গবেষণার গতি বাড়ানো এবং জীববিজ্ঞানের কাজের সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করা। তবে যেখানে বাইরে থেকে কাজ করানো বেশি কার্যকর, সেখানে প্রতিষ্ঠানটি তা বাইরের অংশীদারদের দিয়ে করাচ্ছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন কডেরার-আব্রামস।
তিনি বলেন, “কিছু কাজ আছে, যেগুলো আমরা নিজেদের হাতে অনেক দ্রুত করতে পারি।” এর লক্ষ্য হলো “সম্ভব সবচেয়ে বড় পরিসরে কাজ করা”।
সম্প্রতি লিংকডইনে প্রকাশিত এক চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে অ্যানথ্রপিক এমন একজন নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিকে নিয়োগের কথা জানিয়েছে, যিনি গবেষণার সরঞ্জাম সংগ্রহসহ অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুত বাড়াতে পারবেন। জবেরা নামে একটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত অ্যানথ্রপিকের আরেকটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ‘প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ’সহ বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক কাজের বিশেষজ্ঞ চাওয়া হয়েছে।
অ্যানথ্রপিকের তৃতীয় একটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “জীবনবিজ্ঞানের অগ্রগতিকে ১০ গুণ দ্রুত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
কডেরার-আব্রামস জানান, কর্মীসংখ্যা ও সম্পদ— দুই দিক থেকেই জীবনবিজ্ঞান এখন অ্যানথ্রপিকের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলোর একটি।
‘চিকিৎসা কঠিন’ রোগকে লক্ষ্য
কডেরার-আব্রামসের মতে, আগে যেসব রোগকে ‘আনড্রাগেবল’ বা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা প্রায় অসম্ভব মনে করা হতো, এআই সেসব রোগের চিকিৎসা তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত করতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বাইস্পেসিফিক ও ট্রাইস্পেসিফিক অ্যান্টিবডির কথা বলেন। এগুলো জটিল ধরনের অণু, যা নির্দিষ্ট কোনো প্রোটিন বা কোষের একাধিক স্থানে কাজ করার জন্য তৈরি করা যায়। একইভাবে এগুলো একাধিক লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করতে পারে। এআইয়ের সহায়তায় এসব অণু আবিষ্কারের প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে।
তবে অ্যানথ্রপিক ঠিক কোন কোন রোগকে লক্ষ্য করে কাজ করছে এবং এ পর্যন্ত কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। কোনো একটি অণু শনাক্ত হওয়ার পরও সেটিকে ওষুধ হিসেবে বাজারে আনতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এ সময় মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালসহ বিভিন্ন পরীক্ষা চালাতে হয়। এখন পর্যন্ত এই চ্যালেঞ্জের দায়িত্ব নেয়নি অ্যানথ্রপিক।
অ্যানথ্রপিকের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যালফাবেটের ওষুধ আবিষ্কারবিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইসোমরফিক ল্যাবসও ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে যেতে কয়েক বছর ধরে কাজ করছে। তারাও ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সেই পর্যায়ে যাওয়ার লক্ষ্য পিছিয়ে দিয়েছে।
গবেষণাগার ও অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে অটোমেশন বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত আগস্টে অ্যানথ্রপিক ‘মডেল হার্ডওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড’ চালু করে। এর মাধ্যমে এআইকে বিভিন্ন গবেষণাগারের সরঞ্জাম পরিচালনায় সহায়তা করা হয়। এর আগে একাডেমিক গবেষণায় তৈরি ‘পাইল্যাবরোবট’ নামের একটি প্রযুক্তি একই ধরনের, তবে ভিন্ন ধরনের অটোমেশন চাহিদা পূরণের কাজ করেছিল। সেটির সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
অ্যানথ্রপিকের তৈরি ‘মডেল হার্ডওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড’সহ বিভিন্ন এআই সেবা ও সরঞ্জাম বিশ্বের বড় বড় ওষুধ কোম্পানিকে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রোশের জেনেনটেক, ব্রিস্টল মায়ার্স স্কুইব এবং নোভো নরডিস্ক।
তবে একই সময়ে অ্যানথ্রপিককে একটি আস্থার সমস্যারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ওই দুই ব্যক্তি। অ্যানথ্রপিকের গ্রাহকেরা আশঙ্কা করতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ওষুধ প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য জেনে ফেলবে। যদিও অ্যানথ্রপিক গ্রাহকদের তথ্য নিজেদের ব্যবস্থার মধ্যে আলাদা করে রাখে এবং অন্যদের দেখার সুযোগ দেয় না।
কডেরার-আব্রামস বলেন, প্রতিযোগিতার বিষয়টি আংশিকভাবে বিবেচনায় নিয়ে অ্যানথ্রপিক একটি সীমারেখা ঠিক করেছে। আপাতত প্রতিষ্ঠানটি নিজে কোনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাচ্ছে না। বরং ওষুধশিল্পের যেসব প্রয়োজন পূরণে প্রচলিত প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে না, সেসব ক্ষেত্রেই তারা মনোযোগ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা এমন ওষুধ কোম্পানি বা বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি না, যাদের ব্যবসাই হলো ওষুধ বাজারে নিয়ে আসা।”

নির্দেশনায় বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব দাপ্তরিক মূল ভবন এবং জেলা পরিষদের আওতাধীন স্থাপনাগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।
৪ ঘণ্টা আগে
জোনায়েদ সাকি উল্লেখ করেন, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে ব্যয়ও বাড়ে এবং এতে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়। তাই নির্ধারিত সময়ে, সাশ্রয়ী ব্যয়ে ও যথাযথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পৌঁছেছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে বর্তমানে কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
বিবৃতিতে মাওলানা মহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি কোরআনের আলোকে সংবিধান রচনা করতে পারি, কিন্তু কোরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না।’ তার এ বক্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর এবং মুসলমানের ঈমান-আকিদার মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
৭ ঘণ্টা আগে