বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরলেন ডা. জুবাইদা রহমান

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২: ৩৩
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ আমন্ত্রণে ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কলিউশন সামিট’-এ অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের জীবনসঙ্গিনীদের উপস্থিতিতে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন তিনি।

বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশের শিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং বর্তমান সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগগুলো বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার এবং নারী ক্ষমতায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমানের সহকারী হিসেবে অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিনিয়র চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং নারী উদ্যোক্তা মিস মেহনাজ মান্নান অংশগ্রহণ করেন। এসময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, ডেপুটি চিফ অব মিশন ডি. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমান এবং তাঁর প্রতিনিধিদল প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান অংশগ্রহণ করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ওয়ার্কিং সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের উন্নয়ন বিষয়ে বৈশ্বিক অঙ্গীকারে বিশ্বনেতা ও অংশীদারদের একত্রিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ তাদের শিশুদের যত্ন, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আজ এই ঐতিহাসিক সম্মেলনে আপনাদের সাথে যোগ দিতে পারাটা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি সারা বিশ্ব থেকে আমাদের এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে একত্রিত করেছেন, যা প্রতিটি জাতিকে স্পর্শ করে—আমাদের শিশুদের প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনা। আমরা উপলব্ধি করি যে, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের জীবনেই লেখা থাকে। আজ আমরা যে যত্ন প্রদান করি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তা-ই আগামী দিনে তাদের গড়া জাতিকে রূপ দেবে।

তিনি বলেন, আমি আমার দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এখানে এসেছি। আমার স্বামী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আমাদের সদ্য নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ম্যানডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে শক্তিশালী করে এবং শিশুদের নিরাপদ ও যত্নশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠাও নিশ্চিত করে।

‘একজন চিকিৎসক হিসেবে, আমি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; যেখানে শুধু চিকিৎসার উপরই নয়, জীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রতিরোধের উপরও জোর দেওয়া হয়’ বলেও উল্লেখ করেন ডা. জুবাইদা রহমান।

অন্তর্ভুক্তি ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-জেডআরএফ এবং ‘সুরভী‘র সামাজিক এবং অলাভজনক সংগঠনের সাথে আমার কাজ শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের প্রসারে আমার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং উপকরণের সহজলভ্যতা এখনও অধরা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার ডিজিটাল যুগে উন্নতি করার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করছে। আমাদের সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করছে, শিক্ষণ উপকরণ হালনাগাদ করছে, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করছে। শ্রেণিকক্ষগুলো মাল্টিমিডিয়া বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিকশিত হচ্ছে, যা দলবদ্ধ কাজ, সৃজনশীলতা এবং আদর্শ স্থাপনে উৎসাহিত করছে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রযুক্তি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রযুক্তি (এডটেক), শহুরে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য কমাতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। একইসাথে, আমরা এই সরঞ্জামগুলোর নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে ওঠে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারি খাতের ভিত্তি স্থাপন করে লক্ষ লক্ষ নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো প্রমাণ করে যে, যখন নারীরা ক্ষমতায়িত হন, তখন পরিবারগুলো শক্তিশালী হয় এবং শিশুরা সমৃদ্ধি লাভ করে। আমরা অংশীদারিত্বের গুরুত্বও স্বীকার করি। বেসরকারি খাত এবং আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর প্রসারিত করতে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন করতে এবং সকলের জন্য শিক্ষার মান উন্নত করতে চাই। শক্তিশালী প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা প্রতিটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করতে, প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত করতে এবং প্রতিটি শিক্ষণ যাত্রাকে ব্যক্তিগতকৃত করতে চাই। একসাথে, আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি যা হবে সহনশীল, সহানুভূতিশীল এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত।

পরিশেষে, আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মহোদয়ার প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জ্ঞান বিনিময়, একে অপরের কাছ থেকে শেখা এবং সীমানা পেরিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা কেবল আমাদের দেশগুলোকেই শক্তিশালী করি না, বরং আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎকেও শক্তিশালী করি এবং বিশ্ব এর উত্তরাধিকারী হবে। শেষে আবারও মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান ডা. জুবাইদা রহমান।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, ট্রাফিক সিগন্যালগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে অটোমেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার ১২০টি সিগন্যাল অটোমেশন করা হবে। ঢাকা শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক এবং শহরের ভেতরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৪ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ‘সংসদে আলোচনা’র মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এসব চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করে, বাংলাদেশের মানুষকে সরাসরি প্রভাবিত করে। সুতরাং এর প্রত্যেকটা চুক্তি আমাদের বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে আমরা বাস্তবায়নে যাব এবং বাস্তবায়নে যাওয়ার আগে অবশ্যই এটা নিয়ে আলোচনা হবে।’

১৬ ঘণ্টা আগে

জিয়া পরিবারের মানহানির মামলায় মেনন-মানিক-ইনুর জামিন

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা মানহানির মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

১৭ ঘণ্টা আগে

মানব পাচার মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী

সোমবার দিবাগত রাতে আটকের পর আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) একটি মানব পাচার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

১৮ ঘণ্টা আগে