ক্রিকেটারদের জন্য আইন করবেন ফারুক

ক্রীড়া ডেস্ক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশ সংস্কার করা। সেই আলোকে বিসিবিতেও সংস্কার করছে। আইসিসি ও বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে পরিচালনা পর্ষদে। নবনির্বাচিত সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ সভাপতি প্রথম সংবাদ সম্মেলনে গঠনতন্ত্র সংস্কারে গুরুত্ব দিয়েছেন। জাতীয় দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

রাজনীতিমুক্ত গঠনতন্ত্র : আজ গুরুত্বপূর্ণ একটা দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পরিক্রমায় আমি এখানে। খেলেছি, অধিনায়কত্ব করেছি। নির্বাচক প্যানেলে ছিলাম তিন মেয়াদে। আমরা সবাই জানি, বাংলাদেশের মতো সম্ভাবনাময় দেশে যতটা করার কথা ছিল, তা করতে পারিনি। তবে আমাদের সাফল্য একেবারে কম না। হয়তোবা নির্দিষ্ট কিছু সেক্টরে আমাদের আরও কিছু করার কথা ছিল, যেটা আমরা পারিনি। আমাদের দায়িত্ব হবে, এই সিস্টেমটাকে পুনর্গঠন করা। আপনারা জানেন, অনেক সময় অনেক কাজ করা যায় না। বাইরের চাপ থাকে। আমি আশা করব, সভাপতি থাকা অবস্থায় যতটা সম্ভব একটি সুন্দর সিস্টেম দাঁড় করাতে চাই। একটা সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়াই করেই আমি পদত্যাগ করেছিলাম। আমার সবচেয়ে বড় লড়াই ছিল সিস্টেম গড়ে তোলা। আমাদের যে গঠনতন্ত্র আছে, যার মাধ্যমে আমরা পরিচালকরা নির্বাচিত হই, এই গঠনতন্ত্রের ব্যাপারে আমাদের চিন্তা করতে হবে। আগামী বছর নির্বাচন আছে, তার আগে আমাদের গঠনতন্ত্রে হাত দিতে হবে। যেটা আমরা করব, সত্যি সত্যি যারা ক্রিকেট ভালোবাসে এবং কিছু করতে চায়, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। দেশের সবাই ক্রিকেটের অংশ হতে চায়। আমরা চাইব যাদের প্রয়োজন হবে, তাদের নিয়ে করব। সবার আগে নিজেকে বাংলাদেশি, ক্রিকেট আমার দল– তাহলে ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে বের হতে পারব। আমাদের করপোরেট কাঠামো আছে, তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। সবাইকে পরিষ্কার বার্তা দিতে চায়– দেশ এবং দলে কথা চিন্তা করলে ব্যক্তিগত জায়গাগুলো কমে যাবে।

জাতীয় দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপে না : আমার প্রতিবাদ ছিল হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে। খুব বেশি মানুষ আমি পাশে পাইনি। আপনারা লিখেছেন একটা অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমি একমাত্র পদত্যাগ করেছি। আমি যেহেতু ওই কাজটি করেছিলাম, তাই হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা জিরো বলব না, নাই বললে চলে। আপনারা বোর্ডের পলিসির সঙ্গে দল নির্বাচনের পলিসি মিলিয়ে ফেলবেন না।

স্বার্থের সংঘাত মেনে নেবে না : এটা গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। আমি বোর্ডের সভাপতি হয়ে ব্যবসা করলে বড় ধরনের স্বার্থের সংঘাত। এ রকম কোনো কাজ হবে না। যারা বোর্ডে আছে, তারা ওই ধরনের কাজ না করলে ভালো।

সহসভাপতি নির্বাচন হবে : গঠনতন্তে যা আছে, যে জিনিসগুলো ভালো, এগুলো সবই তাড়াতাড়ি কার্যকর করার চেষ্টা করব। সহসভাপতি দরকার, সহসভাপতি থাকবে। আরও যা যা আছে, সেগুলো রাখার চেষ্টা করব। আপাতত যে গঠনতন্ত্র আছে, ওটার মধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করব আমরা।

প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা : শীর্ষ জায়গায় থেকে আমি সিস্টেমটা ঠিক করতে পারলে ভালো হবে। আমি স্বপ্ন দেখি, আইসিসির টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ফাইনাল খেলবে। ভালো কাজ রাতারাতি হবে না। যদি হয় সেটা ফ্লুক। পাঁচটা ক্লোজ ম্যাচ খেলে সাত-আট নম্বর ম্যাচ জিতলে সেটা স্থায়ী হয়। প্রক্রিয়া চালু হলে ভালো। ড্রেসিংরুমের কথা বাইরে চলে আছে। নির্বাচকদের কথা বাইরে চলে আসে– এই জায়গাগুলো নিয়ে আমি কাজ করব।

বিতর্কিত পরিচালক : যারা এখানে আছেন, তাদের কাজটা কঠিন করার দাকার নেই। আমাদের গঠনতন্ত্র সবাইকে একসঙ্গে পরিবর্তনের অনুমোদন দেয় না। এই জায়গাটাতে আপনাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আমরা এখানে ৮ থেকে ৯ জন আছি। কাজ করার জন্য আমাদের কিছু হ্যান্ডস দরকার। গঠনতন্ত্রে যে সীমাবদ্ধতা আছে, সেটাকে ঠিক করে নতুন পরিচালক নিতে পারলে ভালো।

নির্বাচকদের স্বাধীনতা : আমি আশ্বস্ত করতে পারি, আমি সভাপতি হিসেবে নির্বাচকদের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেওয়ার চেষ্টা করব। তাতে দুটি সুবিধা তিনি বলতে পারবেন না, কেউ সেখানে জড়িত ছিল। কেউ ভালো না করলে বাদ দেওয়া হবে, অন্য কেউ আসবে। প্রভাব খাটালে বলবে, আমি তো দল বানাইনি। সবাই মিলে বানিয়েছি। আমাকে তো একা দোষারোপ করা যাবে না। রেজাল্ট ভালো হলে সবার আগে খেলোয়াড়, নির্বাচকরা সাধুবাদ পাবে। তার পেছনে আমি দাঁড়াব। আমাদের নির্বাচক প্যানেলে চেয়ারম্যান আছেন, তিনি দীর্ঘ অভিজ্ঞ একজন মানুষ। তাঁকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তবে একটা কথা বলতে পারে, রিশাদ খুব ভালো খেলোয়াড়, সে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে ভালো খেলতে পারে। এ রকম ধরনের পরামর্শ থাকবে। তবে অবিয়াস করব না।

হাথুরুসিংহের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত : আপনি যখন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন, ভালো-খারাপ অনেক দিক থাকে, সেগুলো বলা যাবে না। এটা হলো নর্ম। আমি এখানে বসে বোর্ডের সমালোচনা করলে খারাপ দেখায়। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের চুক্তির ব্যাপারে আমি জানি না। আমি কিন্তু আগের অবস্থানেই আছি। আমি আগে যেটা বলেছি, তাঁকে প্রয়োজন নেই– আমি সেই স্ট্যান্ড থেকে সরিনি।

লোকাল কোচ : দেশি কোচরা আমার মনে হয় খুব ভালোভাবে আছে। তবে একমাত্র সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত না। আমি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

ক্রিকেটারদের রাজনীতি : ক্রিকেট খেলোয়াড়দের ব্যাপারে কিছু জিনিস বাস্তবায়ন করা হবে– কী করতে পারবে, কী করতে পারবে না। এটা নিয়ে আমরা আলাপ করেছি। বিশেষ করে সফর চলাকালে বা আগে। চুক্তিতে যদি লেখা থাকে, সফর চলাকালে কোনো বিজ্ঞাপন করতে পারবে না, তাহলে সেটার জন্য কেউ অনুমতি নিতে আসবে না।

সংগঠকদের প্রাধান্য : অবশ্যই ক্রিকেটার থাকবে। তবে সংগঠকদের বাদ দেওয়া যাবে না। কারণ, শুধু খেলোয়াড়রা ভালো করবে তা না।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

মাথাপিছু আয় ১% বেড়ে ২৭৬৯ ডলার, জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমেছে ০.৭৩%

দেশে বার্ষিক মাথাপিছু আয় ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ ডলারে। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে হয়েছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

১৫ ঘণ্টা আগে

ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্বে অতিরিক্ত আইজিপি সরওয়ার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন পুলিশ কমিশনার (আইজিপি) যোগদান না করা পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ারকে কমিশনারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

১৬ ঘণ্টা আগে

সেনাবাহিনীতে ফের রদবদল, নতুন কিউএমজি লে. জে. শাহীনুল

নতুন আদেশে দেখা গেছে, কিউএমজির দায়িত্ব পাওয়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল শাহীনুল আগে এনডিসি কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সে হিসাবে কিউএমজি ও এনডিসি কমান্ড্যান্ট পদে মূলত পারস্পরিক বদল হয়েছে।

১৬ ঘণ্টা আগে

জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের সব কর্মসূচি স্থগিত

দিবসটি উদযাপনে সারা দেশে ৫৭০টি কমিটি করেছিল ইসি। তবে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সর্ব কর্মসূচি স্থগিত রাখতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

১৭ ঘণ্টা আগে