সিজারের পর কি নরমাল ডেলিভারি সম্ভব?

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১৭: ১৫

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস্ট্রেশিয়ান অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টের গাইডলাইন অনুযায়ী সিজারিয়ান ডেলিভারির পরও ৭৫-৮০ ভাগ মা পরবর্তী প্রেগনেন্সিতে নরমাল ভেজাইনাল ডেলিভারি করানোর জন্য উপযুক্ত থাকেন।

এদের মধ্যে ৬০-৭৫ ভাগ মায়ের কোনো সমস্যা ছাড়াই সফলভাবে নরমাল ভেজাইনাল ডেলিভারি সম্ভব হয়। কিন্তু ডেলিভারি ট্রায়াল দেওয়ার আগে দেখতে হবে কোন কোন মা এই ডেলিভারির জন্য উপযুক্ত। তাই আগের সিজার সম্পর্কে জানতে হবে। যেমন-

আগের সিজারের সংখ্যা : যাদের আগে একটি সিজার হয়েছে, তারাই কেবল পরের প্রেগন্যান্সিতে ভেজাইনাল ডেলিভারি ট্রায়াল দিতে পারে।

কী কারণে হয়েছিল : সিজার এমন কিছু কারণে হয়েছিল যা পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা কম যেমন- বাচ্চার অ্যাবনরমাল পজিশনের কারণে সিজার হলে কিংবা বাচ্চা বা মায়ের কোনো সমস্যার কারণে সিজার হলে যা বর্তমান প্রেগনেন্সিতে অনুপস্থিত।

আগে সিজারের স্থানটি কতখানি মজবুত আছে : Lower uterine caessarean section বা LUCS (জরায়ুর নিচের অংশে সেলাই) এর ক্ষেত্রেই কেবল পরবর্তীতে ভেজাইনাল ডেলিভারি ট্রায়াল দেওয়ার সুযোগ থাকে, এক্ষেত্রে আগের সেলাই ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা প্রতি ২০০ জনে একজনের। অন্যদিকে ক্লাসিক্যাল সিজারের ক্ষেত্রে সেলাই ফাটার হার ১.৫%। দুই প্রেগনেন্সির মধ্যে অন্তত দুই বছরের গ্যাপ থাকা ভালো হয়। আগের প্রেগনেন্সিতে প্লাসেন্টা প্রিভিয়া থাকলে বা সিজারের পর ইনফেকশন হলে সেলাইয়ের স্থানটি দুর্বল করে ফেলে যা পরে ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

এ ছাড়া বর্তমান প্রেগনেন্সিতে মায়ের অন্য কোনো জটিলতা যেমন উচ্চরক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে তাকে নরমাল ভেজাইনাল ডেলিভারি ট্রায়ালের জন্য উপযুক্ত ধরা হয় না। বাচ্চার ওজন চার কেজির কম থাকা এবং প্রসবের রাস্তা যথেষ্ট প্রশস্ত থাকাও ভেজাইনাল ডেলিভারির একটি পূর্ব শর্ত। সবকিছু ঠিক থাকলে এই ডেলিভারির সুবিধা-অসুবিধা মা ও অভিভাবকদের অবহিত করতে হবে। ডেলিভারি এমন হসপিটালে ট্রায়াল দিতে হবে যেখানে ইমার্জেন্সি সিজার করার দরকার হলে তা দ্রুত এরেঞ্জ করা সম্ভব। বাচ্চা এবং মায়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণ করাটা এক্ষেত্রে জরুরি বিষয়।

উন্নত দেশে লেবারের সময় CTG (cardio-tocograph) মেশিনের মাধ্যমে বাচ্চাকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়। ২০ থেকে ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে ভেজাইনাল ডেলিভারি সম্ভব হয় না এবং ইমার্জেন্সি সিজারের দরকার হয়। এই ডেলিভারির সময় সঠিক মনিটরিং না হলে মা ও বাচ্চার জটিলতার হার বেড়ে যায়। অপরদিকে সফল ভেজাইনাল ডেলিভারির মাধ্যমে শরীরে বাড়তি অস্ত্রোপচার এড়ানো যায়।

শরীরে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিস্যু এডহেশন এবং টিস্যু ইনজুরির সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং এ ডেলিভারির অস্ত্রোপচারজনিত সব রিস্ক থেকে মুক্ত। কিন্তু আমাদের দেশে বেশির ভাগ হাসপাতালে এ ধরনের ডেলিভারি করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, এর কারণ দক্ষ লোকবলের অভাব, মা ও বাচ্চার মনিটরিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অপ্রতুলটা এবং ভেজাইনাল ডেলিভারিতে মায়েদের ভীতি।

লেখক: ডা. উম্মুল নুসরাত জাহান,এমবিবিএস, এফসিপিএস (অবস-গাইনি), কনসালটেন্ট (গাইনি), বি আর বি হসপিটালস লিমিটেড, ঢাকা।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

বেনজীরকে ফেরাতে প্রক্রিয়া শুরু, নথি যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, বেনজীরকে দেশে ফেরাতে এখন কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দিতে হয়। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই সংশ্লিষ্ট নথি একত্র করা হয়েছে।

৩ ঘণ্টা আগে

শিগগিরই শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সারাদেশে একযোগে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন চালু হবে। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে কাজ করছি। আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হবে, ঠিক কবে থেকে এটি শুরু হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হচ্ছে।

৪ ঘণ্টা আগে

৬ শিশুমৃত্যুর ঘটনায় শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতক ও শিশুদের জন্য নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়নি। অক্সিজেন প্রবাহের জন্য ভেন্টিলেশন ব্যবস্থাও ছিলো না হাসপাতালটিতে। নবজাতকদের শ্বাসকষ্ট হলেও, কোনো ডাক্তার তখন দায়িত্বে ছিলেন না। ডেকেও নার্সদের সাড়া মেলেনি।

৪ ঘণ্টা আগে

রাজশাহীর আমের হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, নিলেন তাজা আমের স্বাদ

৪ ঘণ্টা আগে