
বিশেষ প্রতিনিধি, রাজনীতি ডটকম

এক বছর ১০ মাসের দীর্ঘ বিরতির পর নিরবতা ভাঙতে যাচ্ছে সংসদ ভবনের, বসছে সংসদ অধিবেশন। জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এই প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে মুখরিত হতে যাচ্ছে সংসদ অধিবেশন কক্ষ। সরকারি আর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, পালটা বক্তব্য আর প্রশ্নোত্তরে প্রাণ ফিরতে যাচ্ছে সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চার উৎসস্থল জাতীয় সংসদে।
তবে শুরুর আগেই সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্বের মতো বিষয়গুলোও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ইস্যুতে প্রথম অধিবেশনেই বিরোধী দলের ওয়াকআউটের সম্ভাবনাও দেখছেন কেউ কেউ। ‘জুলাই সনদ’ ও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ বিষয়ে সরকারি দলের অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলের বিপরীতমুখী অবস্থানও এ অধিবেশনের অন্যতম আলোচনার বিষয় হিসেবে থাকবে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে শুরু হবে অধিবেশনের কার্যক্রম। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ অধিবেশন আহ্বান করেন।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ায় সাংবিধানিক মেয়াদের একদম শেষ মুহূর্তে এসে বসছে এই সংসদ।
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে এককভাবে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তাদের ‘অনুগত’ বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিলেও জিততে পারেনি একটি আসনেও। নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলো থেকে যারা এবার সংসদে যাচ্ছেন, তাদের বড় অংশই এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রথম সংসদে যাওয়া এসব এমপিকে সংসদীয় ভাষায় বলা হয়ে থাকে ‘ব্যাকবেঞ্চার’। এবারের সংসদে এমন এমপিদের সংখ্যা ২১৯, অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও থাকছেন এমন সব ‘ব্যাকবেঞ্চার’রাই।
সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ‘ব্যাকবেঞ্চার’, তথা প্রথমবারের মতো নির্বাচিত এমপি। এ তালিকায় রয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও। সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি অভিজ্ঞ এমপি হলেও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের দায়িত্বে থাকা এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও এবারই প্রথম এমপি হয়েছেন।
বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। প্রথম অধিবেশনটি মূলত সে ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনার মধ্য দিয়েই শেষ হয়। কিন্তু এবার রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এসেছে ঘোর আপত্তি।
বুধবার সংসদের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ এবং সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো অধিকার তার নেই।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের অবস্থান আরও কঠোর। মঙ্গলবার রাজশাহীর এক ইফতার মাহফিলসহ একাধিক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তারা গণভোটে বিজয়ী ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সংস্কারের জন্য সংসদে যাচ্ছেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুনতে নয়। তিনি প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
সরকারি দল বিএনপি অবশ্য রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। এই সংসদেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। তাদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের বিপরীতমুখী এমন অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উত্তেজনা উসকে দিয়েছে। সরাসরি সংবিধান অনুযায়ী গঠন না হওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির সংবিধান অনুসরণ সংক্রান্ত বক্তব্যের সমালোচনা করছেন অনেকেই। আবার যে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংসদে যাচ্ছেন, সেই রাষ্ট্রপতির ভাষণেরই বিরোধিতা করায় জামায়াত-এনসিপির অবস্থানেরও সমালোচনা করছেন অনেকে।
জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বসতে যাওয়া প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ তাই রয়েছে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
নতুন সংসদে উত্তাপ ছড়ানোর ইস্যু হিসেবে আরও রয়েছে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’। এবার জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোটও হয়েছে। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছিল, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় পেলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে’র সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। এই পরিষদ ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদের সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে।
নির্বাচনের পর জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি নেয়নি। বিএনপি বলছে, এই পরিষদের বিধান সংবিধানে নেই। এই পরিষদের সদস্যদের শপথ পড়ানো নিয়েও সংবিধানে কিছু বলা নেই। ফলে সংসদ বসলে সংসদে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নিয়ে আলোচনার পর তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলে তারপর তারা এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।
তবে বিরোধী দলগুলো মনে করছে, এটি মূলত সংস্কার প্রশ্নে সরকারের সদিচ্ছার পরীক্ষা। জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে বিএনপি জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এখন তারা সংসদে জুলাই সনদ মেনে সংস্কারকে এগিয়ে নিতে চাইলে বিরোধী দল হিসেবে আমরা সহযোগিতা করব। তা না হলে সংসদ ও রাজপথে সর্বোচ্চ প্রতিবাদ জানানো হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেছে এনসিপিও। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন মনে করেন, সংসদের প্রথম দিনের বক্তব্যেই জুলাই সনদ নিয়ে সরকারি দলের অবস্থান স্পষ্ট হবে। সে অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হবেন— তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। তবে এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। জামায়াত এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
বুধবার (১১ মার্চ) বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে। বৈঠকের পর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ উপনেতা কে হবেন, তা নির্ধারণের দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও হাফিজ উদ্দিন আহমদ ছাড়াও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম স্পিকার হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে থেকেই যে কেউ স্পিকার হতে পারেন।
ডেপুটি স্পিকার নিয়ে বিএনপিতে খুব বেশি আলোচনা নেই। কারণ দলটি ডেপুটি স্পিকার দিতে বলেছে বিরোধী দল জামায়াতকে। তবে জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি। দলটি বলছে, বিএনপি যেভাবে ডেপুটি স্পিকার পদটি জামায়াতকে দিতে চেয়েছে, তা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন। জামায়াতের আমির এক বিবৃতিতে বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার হলে তাদের যতটুকু প্রাপ্য, তারা ততটুকুই নিতে চান।
বুধবার বিরোধী দলীয় সংসদীয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনিও বলেন, ডেপুটি স্পিকার নিয়ে বিএনপি যে মৌখিক প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটি আপাতত নাকচ করেছে জামায়াত। জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার পর ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে দলটি।
সাধারণত নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করেন। এরপর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলে এরপর থেকে তারাই সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করে থাকেন।
তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর থেকে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। আর বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাবন্দি।
এ প্রেক্ষাপটে প্রথম বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো সংসদ সদস্য এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম রয়েছে আলোচনায়। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পরই।
সংসদের প্রথম বৈঠকে কিছু নির্ধারিত কার্যক্রম থাকে। এর মধ্যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অন্যতম। সভাপতির সূচনা বক্তব্যের পর এই নির্বাচন হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পড়াবেন। এ সময়ে অধিবেশনে বিরতি থাকে।
নতুন স্পিকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অধিবেশন আবার শুরু হবে এবং সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা বক্তব্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানাবেন। এরপর সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন দেওয়া হবে এবং শোকপ্রস্তাব আনা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রম। অধিবেশনের বাকি দিনগুলোতে এই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে এবং তা নিয়ে অধিবেশন জুড়ে আলোচনা চলবে।
সংসদ অধিবেশন না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির জারি করা যেকোনো অধ্যাদেশ জারির পর তা প্রথম সংসদেই উত্থাপন করতে হয়। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে তা অনুমোদনও পেতে হয়। না হলে অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায়।
এ বিধানের কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আলোচনায়। এসব অধ্যাদেশ বহাল রাখতে হলে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উত্থাপন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত কোনো আইন বা অধ্যাদেশের খসড়া স্বার্থসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হয়, অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়, অনেক ক্ষেত্রে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়। কিন্তু আলোচ্য অধ্যাদেশগুলোর অনেক ক্ষেত্রে খসড়া প্রকাশ করে দুই-তিন দিনের মধ্যে মতামত চাওয়া হয়েছে। এতে অংশগ্রহণমূলক আইন প্রণয়নের নীতি ক্ষুণ্ন হয়েছে কি না— এ প্রশ্ন উঠতে পারে।
বাস্তব পরিস্থিতি হলো— সংসদ অধিবেশনের ৩০ দিনে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে হুবহু আইনে রূপ দিতে হলে দিনে গড়ে চারটির বেশি বিল প্রক্রিয়ায় নিতে হবে, যা সংসদীয় সময় ও মানের প্রশ্ন তুলবে। ফলে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্যও নির্ধারণ করবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর দেড় বছর পরে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে জামায়াত জোট ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছে।
বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে সংসদের প্রথম অধিবেশন। এ অধিবেশন ঘিরে এরই মধ্যে সংসদ ভবনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবারের সংসদে ২১৯ জন নতুন সদস্য রয়েছেন। নতুন সংসদ সদস্যদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে দুদিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংসদের হুইপ এম রহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বৃহস্পতিবার তাই রাজনীতিমনস্কদের চোখ থাকবে সংসদ ভবনের দিকেই।

এক বছর ১০ মাসের দীর্ঘ বিরতির পর নিরবতা ভাঙতে যাচ্ছে সংসদ ভবনের, বসছে সংসদ অধিবেশন। জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এই প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে মুখরিত হতে যাচ্ছে সংসদ অধিবেশন কক্ষ। সরকারি আর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, পালটা বক্তব্য আর প্রশ্নোত্তরে প্রাণ ফিরতে যাচ্ছে সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চার উৎসস্থল জাতীয় সংসদে।
তবে শুরুর আগেই সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্বের মতো বিষয়গুলোও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ইস্যুতে প্রথম অধিবেশনেই বিরোধী দলের ওয়াকআউটের সম্ভাবনাও দেখছেন কেউ কেউ। ‘জুলাই সনদ’ ও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ বিষয়ে সরকারি দলের অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলের বিপরীতমুখী অবস্থানও এ অধিবেশনের অন্যতম আলোচনার বিষয় হিসেবে থাকবে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে শুরু হবে অধিবেশনের কার্যক্রম। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ অধিবেশন আহ্বান করেন।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ায় সাংবিধানিক মেয়াদের একদম শেষ মুহূর্তে এসে বসছে এই সংসদ।
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে এককভাবে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তাদের ‘অনুগত’ বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিলেও জিততে পারেনি একটি আসনেও। নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলো থেকে যারা এবার সংসদে যাচ্ছেন, তাদের বড় অংশই এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রথম সংসদে যাওয়া এসব এমপিকে সংসদীয় ভাষায় বলা হয়ে থাকে ‘ব্যাকবেঞ্চার’। এবারের সংসদে এমন এমপিদের সংখ্যা ২১৯, অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও থাকছেন এমন সব ‘ব্যাকবেঞ্চার’রাই।
সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ‘ব্যাকবেঞ্চার’, তথা প্রথমবারের মতো নির্বাচিত এমপি। এ তালিকায় রয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও। সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি অভিজ্ঞ এমপি হলেও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের দায়িত্বে থাকা এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও এবারই প্রথম এমপি হয়েছেন।
বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। প্রথম অধিবেশনটি মূলত সে ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনার মধ্য দিয়েই শেষ হয়। কিন্তু এবার রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এসেছে ঘোর আপত্তি।
বুধবার সংসদের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ এবং সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো অধিকার তার নেই।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের অবস্থান আরও কঠোর। মঙ্গলবার রাজশাহীর এক ইফতার মাহফিলসহ একাধিক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তারা গণভোটে বিজয়ী ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সংস্কারের জন্য সংসদে যাচ্ছেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুনতে নয়। তিনি প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
সরকারি দল বিএনপি অবশ্য রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। এই সংসদেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। তাদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের বিপরীতমুখী এমন অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উত্তেজনা উসকে দিয়েছে। সরাসরি সংবিধান অনুযায়ী গঠন না হওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির সংবিধান অনুসরণ সংক্রান্ত বক্তব্যের সমালোচনা করছেন অনেকেই। আবার যে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংসদে যাচ্ছেন, সেই রাষ্ট্রপতির ভাষণেরই বিরোধিতা করায় জামায়াত-এনসিপির অবস্থানেরও সমালোচনা করছেন অনেকে।
জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বসতে যাওয়া প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ তাই রয়েছে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
নতুন সংসদে উত্তাপ ছড়ানোর ইস্যু হিসেবে আরও রয়েছে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’। এবার জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোটও হয়েছে। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছিল, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় পেলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে’র সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। এই পরিষদ ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদের সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে।
নির্বাচনের পর জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি নেয়নি। বিএনপি বলছে, এই পরিষদের বিধান সংবিধানে নেই। এই পরিষদের সদস্যদের শপথ পড়ানো নিয়েও সংবিধানে কিছু বলা নেই। ফলে সংসদ বসলে সংসদে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নিয়ে আলোচনার পর তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলে তারপর তারা এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।
তবে বিরোধী দলগুলো মনে করছে, এটি মূলত সংস্কার প্রশ্নে সরকারের সদিচ্ছার পরীক্ষা। জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে বিএনপি জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এখন তারা সংসদে জুলাই সনদ মেনে সংস্কারকে এগিয়ে নিতে চাইলে বিরোধী দল হিসেবে আমরা সহযোগিতা করব। তা না হলে সংসদ ও রাজপথে সর্বোচ্চ প্রতিবাদ জানানো হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেছে এনসিপিও। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন মনে করেন, সংসদের প্রথম দিনের বক্তব্যেই জুলাই সনদ নিয়ে সরকারি দলের অবস্থান স্পষ্ট হবে। সে অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হবেন— তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। তবে এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। জামায়াত এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
বুধবার (১১ মার্চ) বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে। বৈঠকের পর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ উপনেতা কে হবেন, তা নির্ধারণের দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও হাফিজ উদ্দিন আহমদ ছাড়াও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম স্পিকার হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে থেকেই যে কেউ স্পিকার হতে পারেন।
ডেপুটি স্পিকার নিয়ে বিএনপিতে খুব বেশি আলোচনা নেই। কারণ দলটি ডেপুটি স্পিকার দিতে বলেছে বিরোধী দল জামায়াতকে। তবে জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি। দলটি বলছে, বিএনপি যেভাবে ডেপুটি স্পিকার পদটি জামায়াতকে দিতে চেয়েছে, তা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন। জামায়াতের আমির এক বিবৃতিতে বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার হলে তাদের যতটুকু প্রাপ্য, তারা ততটুকুই নিতে চান।
বুধবার বিরোধী দলীয় সংসদীয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনিও বলেন, ডেপুটি স্পিকার নিয়ে বিএনপি যে মৌখিক প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটি আপাতত নাকচ করেছে জামায়াত। জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার পর ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে দলটি।
সাধারণত নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করেন। এরপর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলে এরপর থেকে তারাই সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করে থাকেন।
তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর থেকে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। আর বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাবন্দি।
এ প্রেক্ষাপটে প্রথম বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো সংসদ সদস্য এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম রয়েছে আলোচনায়। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পরই।
সংসদের প্রথম বৈঠকে কিছু নির্ধারিত কার্যক্রম থাকে। এর মধ্যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অন্যতম। সভাপতির সূচনা বক্তব্যের পর এই নির্বাচন হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পড়াবেন। এ সময়ে অধিবেশনে বিরতি থাকে।
নতুন স্পিকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অধিবেশন আবার শুরু হবে এবং সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা বক্তব্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানাবেন। এরপর সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন দেওয়া হবে এবং শোকপ্রস্তাব আনা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রম। অধিবেশনের বাকি দিনগুলোতে এই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে এবং তা নিয়ে অধিবেশন জুড়ে আলোচনা চলবে।
সংসদ অধিবেশন না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির জারি করা যেকোনো অধ্যাদেশ জারির পর তা প্রথম সংসদেই উত্থাপন করতে হয়। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে তা অনুমোদনও পেতে হয়। না হলে অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায়।
এ বিধানের কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আলোচনায়। এসব অধ্যাদেশ বহাল রাখতে হলে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উত্থাপন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত কোনো আইন বা অধ্যাদেশের খসড়া স্বার্থসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হয়, অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়, অনেক ক্ষেত্রে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়। কিন্তু আলোচ্য অধ্যাদেশগুলোর অনেক ক্ষেত্রে খসড়া প্রকাশ করে দুই-তিন দিনের মধ্যে মতামত চাওয়া হয়েছে। এতে অংশগ্রহণমূলক আইন প্রণয়নের নীতি ক্ষুণ্ন হয়েছে কি না— এ প্রশ্ন উঠতে পারে।
বাস্তব পরিস্থিতি হলো— সংসদ অধিবেশনের ৩০ দিনে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে হুবহু আইনে রূপ দিতে হলে দিনে গড়ে চারটির বেশি বিল প্রক্রিয়ায় নিতে হবে, যা সংসদীয় সময় ও মানের প্রশ্ন তুলবে। ফলে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্যও নির্ধারণ করবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর দেড় বছর পরে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে জামায়াত জোট ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছে।
বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে সংসদের প্রথম অধিবেশন। এ অধিবেশন ঘিরে এরই মধ্যে সংসদ ভবনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবারের সংসদে ২১৯ জন নতুন সদস্য রয়েছেন। নতুন সংসদ সদস্যদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে দুদিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংসদের হুইপ এম রহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বৃহস্পতিবার তাই রাজনীতিমনস্কদের চোখ থাকবে সংসদ ভবনের দিকেই।

আজ বুধবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান গত ২২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে একটি চিঠি পাঠান।
৫ ঘণ্টা আগে
বৈঠকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। আমীর খসরু বলেন, বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
৭ ঘণ্টা আগে
ডেঙ্গু অথবা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া থেকে জনগণকে রক্ষা করতে আগামী ১৪ মার্চ থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি৷ ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া থেকে রক্ষা পেতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বুধবার (১১ মার্চ) দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৯ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন এবং স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোট থাকবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।
৯ ঘণ্টা আগে