পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন রাষ্ট্রপতি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৮: ১৭
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার পদত্যাগপত্র। ছবি: কোলাজ

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, হৃদযন্ত্র ও কিডনির জটিলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তিনি। এ ছাড়া অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক একটি রোগও সম্প্রতি শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। এসব কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে স্পিকারের কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব। এ অবস্থায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংবাদ সম্মেলনেই তিনি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো—

আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। এরপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরিক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগগুলোর প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।

এ অবস্থায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

যে জটিল রোগে অচেতন হয়ে যান বিদায়ী রাষ্ট্রপতি

পদত্যাগপত্রে বেশ কয়েকটি শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত বলে উল্লেখ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। বলেছেন, তিনি ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামে একটি রোগে আক্রান্ত বলে সম্প্রতি ধরা পড়েছে, যার কারণে তিনি কখনো কখনো অচেতন হয়ে পড়েন।

২ ঘণ্টা আগে

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

স্পিকার বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ ২৪ জুলাই, ৯ শ্রাবণ, শুক্রবার অপরাহ্ন ৫টা ১ মিনিটে আমার নিকট পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। ফলশ্রুতিতে আমি সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

৪ ঘণ্টা আগে

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, বিকেল ৫টায় স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলন

এর কিছুক্ষণ পরই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখার সহকারী পরিচালক গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠান। সেখানো জানানো হয়, বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করবেন স্পিকার।

৪ ঘণ্টা আগে

দেশে ফিরলেন স্পিকার, বললেন ‘আমিও শুনেছি’

বিমানবন্দরে সাংবাদিকরা হাজির হলে তাদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেছেন, মেডিকেল চেকআপ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে এবং ব্যক্তিগত কিছু কাজ থাকায় তিনি নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই দেশে ফিরে এসেছেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনিও অন্য সবার মতো শুনেছেন, কিছু জানেন না।

৫ ঘণ্টা আগে