
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রাকে ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিন্তু বাস্তবসম্মত ও অপরিহার্য’ অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এ লক্ষ্য অর্জনে সঠিক প্রযুক্তি, অর্থায়ন, গ্রিড আধুনিকায়ন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে একশনএইড বাংলাদেশ, বিএসআরইএ এবং জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেটবিডি) আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দেশকে জ্বালানি সার্বভৌমত্বের পথে এগিয়ে নিতে একটি সামাজিক, কারিগরি ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেন।
শুল্ক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর দাবি
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিনির্ভর জ্বালানি থেকে সরে এসে দেশীয় সৌরশক্তির ব্যবহারই বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে। তারা বলেন, কৃষিজমি রক্ষা করে ‘এগ্রো-ভল্টাইক্স’ মডেল, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং ভাসমান সৌর প্রকল্পের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সৌর যন্ত্রাংশে উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে, জ্বালানি খাতের এই রূপান্তর যেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নারী সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন’ নিশ্চিত করে, সেই দাবিও জানানো হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘আমরা যদি ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যোগ করতে পারি, তবে এটি কয়েক হাজার কোটি ডলারের এলএনজি বা কয়লা আমদানির বোঝা কমিয়ে দেবে।’ তার মতে, সৌরবিদ্যুৎ এখন আর বিকল্প নয়, বরং এটিই হবে দেশের জ্বালানি খাতের মূল চালিকাশক্তি। তিনি বিশেষভাবে জোর দেন ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS) এর ওপর, যাতে দিনের বাড়তি বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা যায় এবং গ্রিড স্থিতিশীল থাকে।
কৃষিজমিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব
জমির অভাব নিয়ে প্রচলিত বিতর্ক নাকচ করে দিয়ে ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের (বিজিইএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দীপাল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের কৃষি জমিতেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।’ তিনি ‘এগ্রো-ভল্টাইক্স’ মডেলের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্যানেলের নিচে ছায়া-সহিষ্ণু ফসল উৎপাদন হবে এবং উপরে বিদ্যুৎ মিলবে। এ ছাড়া নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ (Floating Solar) প্রকল্পগুলোকে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মূল উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
শিল্পখাতের ছাদ ‘অব্যবহৃত খনি’
মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে আইইইএফএর (IEEFA) জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম পরিসংখ্যান উল্লেখ করে জানান, কেবল গার্মেন্টস ও বড় শিল্প কারখানার ছাদগুলো ব্যবহার করে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তিনি বলেন, ‘নেট মিটারিং পদ্ধতিকে আরও উৎসাহিত করলে শিল্প মালিকরাই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। এতে সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং কারখানার উৎপাদন খরচও হ্রাস পাবে।’
অর্থায়ন ও নীতিগত সংস্কারের দাবি
জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ ও চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম জাকির হোসেন খান বলেন, ‘জ্বালানি খাতের অস্বচ্ছতা দূর করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানিতে যে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, তার একটি অংশ যদি সৌরবিদ্যুৎ খাতে স্থানান্তর করা যায়, তবে কোনো বিদেশি ঋণ ছাড়াই এই ১০ হাজার মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব।’
তিনি জলবায়ু তহবিলের অর্থ সরাসরি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ব্যবহারের দাবি জানান। বলেন, ‘দেশের জরুরি বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ ও সেচ) সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনিক সদিচ্ছা থাকলে ৩-৬ মাসের মধ্যেই এই খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্ভব। পরনির্ভরশীল মেগা প্রজেক্টের পরিবর্তে দেশীয় ও নবায়নযোগ্য উৎসের দিকে গুরুত্ব না দেওয়া আমাদের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’
শুল্ক ও আমলাতন্ত্রে ক্ষোভ
সোলার প্যানেল ও ইনভার্টার আমদানিতে বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক এই খাতের বড় বাধা বলে উল্লেখ করেন ট্যাক্স ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ব্যবসায়ী সংগঠন বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমরা বিনিয়োগ করতে চাই, কিন্তু ১০টি দপ্তরে দৌড়াতে গিয়ে প্রকল্প ঝুলে যায়। এই খাতের জন্য একটি ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস এখনই সময়ের দাবি।”
ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর ও অন্তর্ভুক্তিতা নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা ও পথনকশা উপস্থাপন শীর্ষক ধারণাপত্র পাঠ করেন জেটনেটবিডির সদস্য লিপি রহমান। তিনি বলেন, এই ১০ হাজার মেগাওয়াট যেন কেবল বড় শিল্পপতিদের পকেটে না যায়। প্রান্তিক নারী, কৃষক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে একটি ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ বা ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন ‘আমদানিকৃত জ্বালানির মোহ ত্যাগ করে আমাদের নিজস্ব নবায়নযোগ্য সম্পদের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। স্মার্ট গ্রিড এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা সৌরবিদ্যুৎকেই দেশের মূল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তারা বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা কেবল একটি স্বপ্ন নয়, এটি কারিগরিভাবে সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট সমন্বিত পথনকশা, যেখানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকবে না এবং গ্রিড আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীভূত ও কমিউনিটিভিত্তিক মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
একশনএইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন টিমের ম্যানেজার ও জেটনেট বিডির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় এই প্রেস ব্রিফিংয়ে উলাশী সৃজনী সংঘের (ইউএসএস) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আজিজুল হক মনিসহ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রাকে ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিন্তু বাস্তবসম্মত ও অপরিহার্য’ অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এ লক্ষ্য অর্জনে সঠিক প্রযুক্তি, অর্থায়ন, গ্রিড আধুনিকায়ন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে একশনএইড বাংলাদেশ, বিএসআরইএ এবং জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেটবিডি) আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দেশকে জ্বালানি সার্বভৌমত্বের পথে এগিয়ে নিতে একটি সামাজিক, কারিগরি ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেন।
শুল্ক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর দাবি
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিনির্ভর জ্বালানি থেকে সরে এসে দেশীয় সৌরশক্তির ব্যবহারই বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে। তারা বলেন, কৃষিজমি রক্ষা করে ‘এগ্রো-ভল্টাইক্স’ মডেল, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং ভাসমান সৌর প্রকল্পের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সৌর যন্ত্রাংশে উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে, জ্বালানি খাতের এই রূপান্তর যেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নারী সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন’ নিশ্চিত করে, সেই দাবিও জানানো হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘আমরা যদি ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যোগ করতে পারি, তবে এটি কয়েক হাজার কোটি ডলারের এলএনজি বা কয়লা আমদানির বোঝা কমিয়ে দেবে।’ তার মতে, সৌরবিদ্যুৎ এখন আর বিকল্প নয়, বরং এটিই হবে দেশের জ্বালানি খাতের মূল চালিকাশক্তি। তিনি বিশেষভাবে জোর দেন ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS) এর ওপর, যাতে দিনের বাড়তি বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা যায় এবং গ্রিড স্থিতিশীল থাকে।
কৃষিজমিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব
জমির অভাব নিয়ে প্রচলিত বিতর্ক নাকচ করে দিয়ে ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের (বিজিইএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দীপাল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের কৃষি জমিতেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।’ তিনি ‘এগ্রো-ভল্টাইক্স’ মডেলের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্যানেলের নিচে ছায়া-সহিষ্ণু ফসল উৎপাদন হবে এবং উপরে বিদ্যুৎ মিলবে। এ ছাড়া নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ (Floating Solar) প্রকল্পগুলোকে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মূল উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
শিল্পখাতের ছাদ ‘অব্যবহৃত খনি’
মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে আইইইএফএর (IEEFA) জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম পরিসংখ্যান উল্লেখ করে জানান, কেবল গার্মেন্টস ও বড় শিল্প কারখানার ছাদগুলো ব্যবহার করে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তিনি বলেন, ‘নেট মিটারিং পদ্ধতিকে আরও উৎসাহিত করলে শিল্প মালিকরাই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। এতে সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং কারখানার উৎপাদন খরচও হ্রাস পাবে।’
অর্থায়ন ও নীতিগত সংস্কারের দাবি
জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ ও চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম জাকির হোসেন খান বলেন, ‘জ্বালানি খাতের অস্বচ্ছতা দূর করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানিতে যে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, তার একটি অংশ যদি সৌরবিদ্যুৎ খাতে স্থানান্তর করা যায়, তবে কোনো বিদেশি ঋণ ছাড়াই এই ১০ হাজার মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব।’
তিনি জলবায়ু তহবিলের অর্থ সরাসরি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ব্যবহারের দাবি জানান। বলেন, ‘দেশের জরুরি বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ ও সেচ) সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনিক সদিচ্ছা থাকলে ৩-৬ মাসের মধ্যেই এই খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্ভব। পরনির্ভরশীল মেগা প্রজেক্টের পরিবর্তে দেশীয় ও নবায়নযোগ্য উৎসের দিকে গুরুত্ব না দেওয়া আমাদের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’
শুল্ক ও আমলাতন্ত্রে ক্ষোভ
সোলার প্যানেল ও ইনভার্টার আমদানিতে বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক এই খাতের বড় বাধা বলে উল্লেখ করেন ট্যাক্স ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ব্যবসায়ী সংগঠন বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমরা বিনিয়োগ করতে চাই, কিন্তু ১০টি দপ্তরে দৌড়াতে গিয়ে প্রকল্প ঝুলে যায়। এই খাতের জন্য একটি ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস এখনই সময়ের দাবি।”
ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর ও অন্তর্ভুক্তিতা নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা ও পথনকশা উপস্থাপন শীর্ষক ধারণাপত্র পাঠ করেন জেটনেটবিডির সদস্য লিপি রহমান। তিনি বলেন, এই ১০ হাজার মেগাওয়াট যেন কেবল বড় শিল্পপতিদের পকেটে না যায়। প্রান্তিক নারী, কৃষক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে একটি ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ বা ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন ‘আমদানিকৃত জ্বালানির মোহ ত্যাগ করে আমাদের নিজস্ব নবায়নযোগ্য সম্পদের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। স্মার্ট গ্রিড এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা সৌরবিদ্যুৎকেই দেশের মূল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তারা বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা কেবল একটি স্বপ্ন নয়, এটি কারিগরিভাবে সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট সমন্বিত পথনকশা, যেখানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকবে না এবং গ্রিড আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীভূত ও কমিউনিটিভিত্তিক মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
একশনএইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন টিমের ম্যানেজার ও জেটনেট বিডির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় এই প্রেস ব্রিফিংয়ে উলাশী সৃজনী সংঘের (ইউএসএস) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আজিজুল হক মনিসহ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ঢাকায় আসছেন মার্কিন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ফর সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
৩ ঘণ্টা আগে
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি বলেছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এরপর আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোকে এই পর্যায়ক্রমে আনতে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।
৩ ঘণ্টা আগে
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
৩ ঘণ্টা আগে
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং সংসদকে প্রাণবন্ত করতে কাজ করবে নতুন নারী সংসদ সদস্যরা (এমপি)। এ সময় নতুন সংসদ সদস্যরা দেশের উন্নয়ন এবং সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
৪ ঘণ্টা আগে