২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কারাদণ্ডের মামলা মনে করেছিলেন জেদ্দা মিশনের কর্মকর্তারা

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে মামলার নথি দেখে ভুল বুঝেছিলেন জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা। তারা মনে করেছিলেন, ওই মামলায় দুই বাংলাদেশির ছয় মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড সাজা হতে পারে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবের কারাবন্দিদের তালিকায় ব্যবহৃত শ্রেণিবিন্যাসের কারণে কর্মকর্তারা মামলার সাজা নিয়ে ভুল ধারণা করেছিলেন। তারা দুজন যে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি, তা মিশনের কর্মকর্তারা বুঝতে পারেননি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। সংসদীয় কমিটি বলেছে, সেসব প্রশ্নের জবাব পেলে যেন তা কমিটিতে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, ত্রুটি পাওয়া গেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে— এসব বিষয়েও কমিটি প্রতিবেদন চেয়েছে।
কমিটিকে মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১৪ অক্টোবর ঢাকাকে আগে থেকে কিছু না জানিয়েই সৌদি আরবে ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আলাদা দুটি অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ওই দুই বাংলাদেশি সৌদি আরবে আটক ছিলেন। তাদের একজনের বিরুদ্ধে ‘সাইবার অপরাধ’ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে ‘ব্যভিচারের’ অভিযোগ আনা হয়েছিল।
সংসদীয় কমিটিকে মন্ত্রণালয় জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় ১৪ দিন আগে সৌদি আরব প্রায় দুই হাজার ৫০০ বন্দির একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় দুই বাংলাদেশির নাম থাকলেও তাদের মামলার বিষয়টি যথাযথভাবে শনাক্ত করা হয়নি।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তাহলে আমাদের আগে জানানো হলো না কেন? মিশন কেন আগে পদক্ষেপ নেয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো গাফিলতি বা ঘাটতি ছিল কি না, তা জানতে চেয়েছেন কমিটির সদস্যরা।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ১৪ দিন আগে সৌদি আরব তথ্য জানিয়েছিল উল্লেখ করে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে যে প্রতিবেদনটি যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। এ ঘটনা পুরো প্রক্রিয়ার দুর্বলতা তুলে ধরেছে।
বৈঠকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নির্যাতনের প্রসঙ্গ নিয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী কর্মীদের প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জহরত জানান, মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় এক লাখ ৬৯ হাজার বাংলাদেশি নারী কর্মী কর্মরত আছেন। এর মধ্যে এক হাজার ৩৬৪ জন নারী গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, ১ থেকে ২ শতাংশ শুনতে কম মনে হলেও এক হাজার ৩৬৪টি ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কমিটি মন্ত্রণালয়কে এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী ও সানজিদা ইসলাম অংশ নেন। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
















