
টিম রাজনীতি ডটকম


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর জয়ী হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয় পেয়ে ‘ভিপি নুর’ হিসেবে সারা দেশে পরিচিত হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে গলাচিপা-দশমিনা আসনের সব কেন্দ্রের সমন্বিত ফলাফলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা নুরকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নুর তার নির্বাচনি প্রতীক ‘ট্রাক’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এ আসনে। তার দল এ নির্বাচনে বিএনপির জোটসঙ্গী হিসেবে ভোট করেছে।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনটি ছিল দেশ জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। নুর তার নিজ এলাকায় এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেন। তার বিপরীতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের শক্ত অবস্থান তাদের লড়াইকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছিল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর জেলার দুটি আসনেই নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মেহেরপুর-১ ও ২ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, মেহেরপুর-১ আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াত নেতা মো. তাজউদ্দীন খান। ১২৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পেয়েছেন এক লাখ ২২ হাজার ৮২৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মাসুদ অরুন পেয়েছেন এক লাখ চার হাজার ২২৪ ভোট।
এদিকে মেহেরপুর-২ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন মো. নাজমুল হুদা। এ আসনের ৯০টি কেন্দ্রের ফলাফলে ৯৪ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬৮৯ ভোট।

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়। বিকেল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। রাতে সাড়ে ৯টার দিকে এই আসনের মোট ১২৬টি কেন্দ্রের সবগুলোর ভোট গণনা শেষ হয়।
টাঙ্গাইলের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সুরাইয়া ইয়াসমিন জানান, এ আসনে বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭১ হাজার ৪০ ভোট।
এ ছাড়া বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মো. তোফাজ্জল হোসেন হাতি মার্কায় পেয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ ভোট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বড় জয় পেয়েছেন। ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি হারিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম আল মাদানিকে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ছাতক-দোয়ারাবাজারের ১৭০টি ভোটকেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৯২৫টি। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে মিলন পেয়েছেন এক লাখ ৫২ হাজার ৯৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আবু তাহির পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৯২৮ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব বলছে, মিলন মোট ৫৩ হাজার ৬৯ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। তিনি হারিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আরেক গোলাম রব্বানীকে।
আসনটির ১৫২টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অধ্যাপক গোলাম রব্বানী পেয়েছেন এক লাখ ৭৫ হাজার ২০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম রব্বানী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ১৪ হাজার ১৪১ ভোট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন।
আসনটির ১১১টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (হাতপাখা) পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৩৬ ভোট।
ভোটের হিসেবে এ আসনে তৃতীয় হয়েছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিশের (দেয়াল ঘড়ি) ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে এক নজিরবিহীন লড়াইয়ের সাক্ষী হলো দেশবাসী। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আপন বড় ভাইকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে জয় পেয়েছেন জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ১৩০টি কেন্দ্রে মুস্তাফিজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আপন বড় ভাই বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ও জামায়াত সমর্থিত জোটের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন।
ইলেকশনওয়াচ বাংলাদেশের গণনায়, এ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ পেয়েছেন এক লাখ ৭২ হাজার ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দীন (ট্রাক প্রতীক) পেয়েছেন মাত্র ২৬ হাজার ভোট।
এ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী ও চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বাতিল করে। এরপর উচ্চ আদালতেও তার রিট খারিজ হয়ে গেলে তিনি চূড়ান্তভাবে প্রার্থিতা হারান।

ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। ঘণ্টা তিনেক পর থেকেই আসতে শুরু করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তিনটি কেন্দ্রের ফলাফল বেসরকারিভাবে ঘোষণাও করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত তথ্য বলছে, কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ, ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির আসাদুজ্জামান, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির এ বি এম মোশাররফ হোসেন জয় পেয়েছেন।