৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় বিক্রি— স্বজনদের দাবি যুদ্ধে নিহত ১২, নিখোঁজ ১৪

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ২৩: ০৫
বাঁয়ের ছবিতে এক রুশ সেনার সঙ্গে ভুক্তভোগী দুই বাংলাদেশি তরুণ। (ওপরের সারির বাঁ থেকে) আলী হাসান সোহেল, মোঃ আরমান আলী ও মোঃ আমিনুর ইসলাম এবং (নিচের সারির বাঁ থেকে) আবু হানিফ, মোঃ রাজন হোসেন ও ওয়াসিম আকরাম। ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল তাদের। বলা হয়েছিল নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজের সুযোগ মিলবে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর ভয়াবহ এক মানবপাচার চক্রের ফাঁদে পড়ে অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি তরুণকে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের পরিবার দাবি করছে, ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানোর পর ড্রোন হামলায় ইতোমধ্যে ১২ জন নিহত হয়েছেন, চারজন আহত হয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৪ জন। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

আহত ও অবরুদ্ধ কয়েকজনের গোপনে পাঠানো ভিডিও ও অডিও বার্তায় উঠে এসেছে যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের বিভীষিকাময় বাস্তবতা, যা আন্তর্জাতিক মানবপাচারের এক ভয়ংকর চিত্র সামনে এনেছে।

উচ্চ বেতনের আড়ালে ‘মৃত্যুকূপ’ ও পাচারের জাল

ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে রাজনীতি ডটকম জানতে পেরেছে, গত ৭ মে ঢাকার নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অবস্থিত জনশক্তি রপ্তানিকারক ও রিক্রুটিং এজেন্সি ‘জাবাল-ই নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে’র মাধ্যমে বাংলাদেশি এই ৩০ জন তরুণ রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এজেন্সির মালিক ‘মিজানুর রহমান’ তাদের রাশিয়ার ‘প্রো টেকনোলজি’ নামক একটি কোম্পানিতে সাধারণ নির্মাণশ্রমিক হিসেবে পাঠানোর চুক্তি করেছিলেন।

রাশিয়ান কোম্পানির পক্ষে ‘জুলি’ নামে কাজাখস্তানের এক নারী এজেন্ট বাংলাদেশ থেকে তাদের নিয়ে যান। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর মাত্র দুই দিনের মাথায় তাদের সবাইকে কনস্ট্রাকশনের কাজের বদলে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তাদের টানা দুই দিন খাবার না দিয়ে, অমানুষিক নির্যাতন করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি অজ্ঞাত নথিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী তরুণরা জানতে পারেন, তাদের প্রত্যেককে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩২ লক্ষ টাকায় (২৫ হাজার মার্কিন ডলার) রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে সরাসরি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

সম্মুখ সমরে ১২ জনের মৃত্যু; আহত ৪

মে মাসের শেষ সপ্তাহে এই তরুণদের বেশিরভাগই সম্পূর্ণ নিখোঁজ হয়ে যান। সম্প্রতি রাশিয়া থেকে আসা গোপন অডিও ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের পরিবারগুলো জানতে পেরেছে, সম্মুখ সমরে তীব্র ড্রোন হামলায় ইতোমধ্যেই ১২ জন তরুণ মারা গেছেন।

সম্মুখ সমরে চোখের সামনে সতীর্থদের মৃত্যু দেখে চারজন তরুণ আর সামনে এগোতে অস্বীকৃতি জানান। এর শাস্তিস্বরূপ রাশিয়ান সেনারা তাদের ধরে মাটির নিচে তৈরি অন্ধকার বাঙ্কারে আটকে রাখেন। সেখানে টানা পাঁচ দিন তাদের কোনো খাবার-পানি দেওয়া হয়নি; বরং দফায় দফায় চালানো হয়েছে বর্বর নির্যাতন। মারধরের কারণে চরম অসুস্থ হয়ে পড়লে পাঁচ দিন পর তাদের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই তারা কোনোমতে লুকিয়ে বাংলাদেশে নিজেদের পরিবারের কাছে এসব রোমহর্ষক তথ্য পাঠান।

স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ ও ‘দালাল’ মিজানের দম্ভ

ঈদুল আজহার আগের দিন (২৭ মে) রাতে গুরুতর আহত আলী হাসান সোহেল নামে এক ভুক্তভোগী তরুণ শেষ ভয়েস মেসেজে তার স্ত্রী আকলিমা আক্তারকে বলেন, ‘আমাদের যুদ্ধে নিয়ে যাইতেছে, আমাদের ট্রেনিং কমপ্লিট কইরা ফেলাইছে। আমরা যুদ্ধতে যাব; আমরা যদি বাঁইচা থাকি তাহলে এক বছর পরে তোমাদের সাথে দেখা হবে, আর যদি মারা যাই তাহলে মাফ কইরা দিও। আব্বারে কইও মাফ কইরা দিতে...।’’

আকলিমা আক্তার রাজনীতি ডটকমকে বলেন, “দালাল মিজান (‘জাবাল-ই নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ এজেন্সির মালিক) এখনো বাংলাদেশে বুক ফুলাইয়া হাঁটতাছে, সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয় না। একটা রোহিঙ্গা আইসা যদি এই দেশে দাম পায়, আমরা এই দেশের নাগরিক হয়ে কেন সরকারের কাছে দাম পাই না? মূল্য পাই না? এই প্রশ্ন সরকারের কাছে!”

একইভাবে আহত আলী হাসান সোহেলের মা আঞ্জিলা বেগম রাজনীতি ডটকমকে বলেন, “সরকারের কাছে দাবি চাই, আমার ছাল আইনা দিক। আমার ছাল তো মাটি পাবে না, মৌলভী পাবে না, শিয়াল-কুত্তা দিয়ে চাবাইবো! আমার ছাল কয়— ‘আমারে শিয়াল-কুত্তা দিয়ে চাবাইও না, জানাজা দিয়া মাটি দিও।’ সরকার আমাগো ছালপাল ফেরত আইনাই দিক, আমাদের কলিজা ঠাণ্ডা করুক!”

ভুক্তভোগীদের পরিবার রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারগুলোর দাবি, এ ঘটনার মূলহোতা ‘দালাল’ মিজানুর রহমান এখনো বাংলাদেশে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। চার-পাঁচ দিন আগে মিজানের সঙ্গে কথা হলে তিনি উলটো ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে দোষারোপ করে বলেন, “তোমরা তো মিডিয়া-টিডিয়া দিয়ে সবকিছু ঘোলাটে করে ফেলেছ। এখন আমার হাতে কিছু নাই।”

মৃত্যুর মুখ থেকে আরমানের ‘জবানবন্দি’

গুরুতর আহত অবস্থায় রাশিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরেক ভুক্তভোগী বাংলাদেশি তরুণ আরমান আলী। তিনি অত্যন্ত গোপনে একটি গাড়িতে বসে রাশিয়ায় থাকা পলাশ নামে আরেক বাংলাদেশি তরুণকে এক অডিও বার্তা পাঠান। বার্তায় বলেন, ‘ভাইরে, এই যে আরিফ পাটোয়ারী, সাঈদ মোল্লা, ওয়াসিম আকরাম, মফিজ (জামালপুরের), সোহেল ভাই, পবিত্র দা, সাব্বির (জামালপুরের), রবিন ভাই— এরা সবাই মারা গেছে, ভাই। আরিফ নামে দুজন ছিল, দুজনই মারা গেছে। আমিনুর ভাই যে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, তা আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি, ভাই।”

রুশ সেনাদের নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে আরমান আলী আরও বলেন, “ওরা আমাদের তিন-চার দিনের ব্যবধানে পাঁচ জন করে সম্মুখযুদ্ধে (ফ্রন্ট লাইনে) নিয়ে যাচ্ছিল। আমরা যখন কিছুতেই আর সামনে যেতে চাইনি, তখন আমাদের মাটির নিচে অন্ধকার বাঙ্কারের ভেতর চার-পাঁচ দিন আটকে রাখছিল। কোনো খাবার দেয়নি, পানি দেয়নি, প্রতিদিন এসে আমাদের নির্মমভাবে পিটাতো।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনোমতে জীবনটা নিয়ে চারজন জন বেঁচে আসছি। পলাশের হাতের অবস্থা খুবই খারাপ, আমার নিজেরও বাম হাতে মারাত্মক জখম। রাজবাড়ীর আলী হাসান সোহেল ভাইয়ের শরীরের অবস্থাও ভালো না। আর চাঁদপুর জেলার মাইন উদ্দিন ভাইয়ের মাথায় ড্রোন লেগে প্রায় দেড় ইঞ্চির মতো গর্ত হয়ে গেছে, ওনার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। দয়া করে আমাদের এই কথাগুলো বাংলাদেশ সরকারের কাছে পৌঁছান, আমাদের যেভাবেই হোক বাঁচান, ভাই!”

ভুক্তভোগী পরিবার এবং রাশিয়া থেকে সংগৃহীত হাতে লেখা তালিকা ও অডিও প্রমাণ অনুযায়ী ড্রোন হামলায় নিহত ৯ জন তরুণের সুনির্দিষ্ট পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন— মোঃ ওয়াসিম আকরাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), সোহেল (চাঁদপুর), মোঃ আরিফ হোসেন, মোঃ সাঈদ মোল্লা (ঢাকা), মফিজ, রাবিন মীর (নারায়ণগঞ্জ), শ্রী পবিত্র চন্দ্র (টাঙ্গাইল), আরিফ হোসেন পাটোয়ারী (চাঁদপুর)। সাব্বির হোসেন (জামালপুর)। এ ছাড়া টাঙ্গাইলের আমিনুর ইসলাম নামে একজনের তথ্য এখনো যাচাই-বাছাই চলছে, বাকি দুজন নিহত তরুণের নাম এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

রাশিয়ায় ইউক্রেন সীমান্তের সম্মুখ সমরে তীব্র ড্রোন হামলায় বেঁচে যাওয়া এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত চারজন বাংলাদেশির অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে গোপালগঞ্জের মোঃ পলাশ শেখের ডান হাত ড্রোনের আঘাতে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং জামালপুরের মোঃ আরমান আলী তার বাম হাতে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। অন্যদিকে, রাজবাড়ীর মোঃ আলী হাসান সোহেল এবং চাঁদপুর জেলার মাইন উদ্দিন উভয়েই মাথায় মারাত্মক জখম নিয়ে ‘মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন’ বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে।

সরকারের বক্তব্য ও পদক্ষেপের অভাব

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি)-এর মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব জামিল আহমেদ এর আগে পরিবারগুলোকে সরকারি খরচে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নিকুঞ্জ থানায় ও খিলক্ষেত থানায় অভিযোগ করলেও প্রশাসন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শরীফুল ইসলাম আজ শনিবার রাজনীতি ডটকমকে জানান, রাশিয়ায় যাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে কেউ মারা গেছেন— এমন তথ্য তাদের জানা নেই।

সার্বিক বিষয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে রাশিয়ায় নিখোঁজ সৌরভ মোল্লার ভাই তাসনিম মোল্লা রাজনীতি ডটকমকে বলেন, “আমরা যখন নিকুঞ্জ-২ এ জাবাল-ই নূর এজেন্সির অফিস ঘেরাও করি, তখন থানার একজন এসআই ও কয়েকজন পুলিশ উপস্থিত ছিল। তাদের সামনেই মালিক মিজানুর রহমান কথা দিয়েছিল যে ১০ দিনের ভিতরে ওদের নিরাপদ স্থানে ফেরত নিয়ে আসবে। কিন্তু আজ এক মাস পার হয়ে গেল, ফেরত আনা তো দূরের কথা আরও লোক মারা গেল, সে কোনো কাজই করেনি।”

তাসনিম মোল্লা আরও বলেন, “পরবর্তীতে আমরা খিলক্ষেত থানায় মামলা করার জন্য লোক পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামলা নেন নাই। উনি আমাদের পরিষ্কার বলে দিছেন— ‘এটা আমাদের কাজ না, আপনারা কোর্টে করেন বা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কাজ করেন।’ উনি মামলাটা কোনোভাবেই নেন নাই।”

মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে তাসনিম মোল্লা রাজনীতি ডটকমকে আরও বলেন, “আমরা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করার পর যুগ্ম সচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী নিজের পার্সোনাল ফোন থেকে রাশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে কল করেন এবং লাউডস্পিকার দিয়ে আমাদের শোনান। আমরা যখন বলি যে আমাদের লোকগুলো অলরেডি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেকোনো মুহূর্তে নিয়ে যাবে, তখন দূতাবাস স্পষ্ট ভাষায় বলেছিল, ‘ওদের ড্রোনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, ওদের নেবে না।’ দূতাবাস বিষয়টাকে কোনো পাত্তাই দেয় নাই।”

তিনি আরও বলেন, “পরে সচিব স্যার আশ্বস্ত করেছিলেন যে ২৯ মের মধ্যে ভালো খবর পাব এবং আমাদের স্বজনদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসবে। কিন্তু ২৯ তারিখ চলে গেল, ঈদ চলে গেল, কোনো ভালো খবর আসে নাই। আসলে আমার যতদূর মনে হয়, নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে কেউ চেষ্টা করে নাই। আমরা বিমান ভাড়ার টাকা দিতে চাইছিলাম, শুধু বলছিলাম আমাদের ভাইগুলোকে ফেরত আনেন, কিন্তু তারা এখনও কিচ্ছু করে নাই।”

রাশিয়ায় আটকে পড়া ৩০ জন বাংলাদেশির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম শহীদুল করিম রাজনীতি ডটকমকে বলেন, “এই ৩০ জনের ব্যাপারে বেশ কিছুদিন ধরেই তো আলোচনা চলছিল। তো সেই বিষয়ে ওখানে রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অ্যাম্বাসি খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে রাশিয়া ভিজিটে গেলেন এর মধ্যে, উনিও এই বিষয়টা রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে টেক আপ করেছেন। তো উনারা বলেছেন যে, তারা খোঁজ নিয়ে আমাদেরকে জানাবেন। তো এই পর্যন্ত আপডেট পেয়েছি।”

১২ জনের মৃত্যুর খবর প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে রাজনীতি ডটকমকে বলেন, “মৃত্যুর ব্যাপারে এখনো ভেরিফায়েড কোনো সোর্স থেকে আমরা জানতে পারিনি। আমাদের কাছে এরকম কোনো মেসেজ এখন পর্যন্ত নেই। যার কারণে বুঝতে পারছি না যে, ওনারা কোথায় আছেন, রাশিয়াতে আছেন নাকি অন্য কোথাও আছেন। আমরা এখনো খোঁজ নিচ্ছি।”

ভুক্তভোগী পরিবারের এখনো কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি উল্লেখ করে অতিরিক্ত সচিব এ কে এম শহীদুল করিম আরও জানান, “এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।”

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দুই দিনের রাশিয়া সফরের পর বাংলাদেশে ফিরলেও এই ৩০ বাংলাদেশি তরুণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কাজের প্রলোভনে পড়ে এই ভুক্তভোগীদেরসহ রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ও বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। অথচ ভুক্তভোগী পরিবারগুলো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সমাধানের আশায় বুক বেঁধেছিলেন।

গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী বছরের মধ্যে ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রুশ কর্তৃপক্ষকে এ প্রস্তাব দিয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি রাশিয়ায় কর্মরত রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক মানবপাচার এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এখন ৩০টি বাংলাদেশি পরিবারের দিন কাটছে চরম আতঙ্কে। তাদের একমাত্র দাবি— জীবিত কিংবা মৃত, তাদের স্বজনদের যেন অতি দ্রুত বাংলাদেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং পাচারকারী দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

নাঈমকে মারধরের ঘটনায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস সিএমপি কমিশনারের

এর আগে, শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে নগরের লালখান বাজার এলাকায় নাঈমকে বহনকারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

৮ ঘণ্টা আগে

হাই-ভোল্টেজ ট্র্যাকে বিড়াল ঢুকে পড়ায় মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ

সাধারণত কারিগরি ত্রুটি বা সিগন্যাল সমস্যার কারণে ট্রেন থামার নজির থাকলেও, একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর উপস্থিতির কারণে পুরো নেটওয়ার্ক থমকে যাওয়ার ঘটনাটি বেশ চমকপ্রদ। তবে কোন স্টেশনের ঠিক কোন পয়েন্টে বিড়ালটি ঢুকেছে, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

১০ ঘণ্টা আগে

মে মাসে ৬১৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ প্রাণহানি, আহত ১৬৫২

সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৬৭৬ টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছে। এ সময়ে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত, ২১৯ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ, নিহতের ৩৭ দশমিক ১৩ শতাংশ ও আহতের ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।

১১ ঘণ্টা আগে

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধরের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সাভারের বিকেএসপিতে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ম্যাচ খেলে রাতে বিমানে চট্টগ্রামে ফেরেন নাঈম। বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় যাওয়ার পথে লালখান বাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের একটি টহল দল তাদের গাড়ির গতিরোধ করে।

১১ ঘণ্টা আগে