চাকরি ফেরতের এক মাসের মাথায় পদোন্নতিও পেলেন কোহিনূর মিয়া

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ কর্মকর্তা মো. কোহিনূর মিয়াকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার এক মাসের মাথায় ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি বরখাস্ত হয়েছিলেন। আলোচিত এ পুলিশ কর্মকর্তা বিএনপি সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (ডিসি) থাকা অবস্থায় বরখাস্ত হন কোহিনূর মিয়া। পদোন্নতি দিয়ে তাকে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) করা হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোহিনূর মিয়াকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌসিফ আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১১ বছর আগে ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল থেকে তার এই পদোন্নতি কার্যকর হবে। বিধি অনুযায়ী এই সময়ের বকেয়া বেতন-ভাতাও পাবেন কোহিনূর মিয়া।

এর আগে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৯ মার্চ বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে সব সুযোগ-সুবিধাসহ কোহিনূর মিয়াকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকার তাকে বরখাস্ত করেছিল।

দেড় যুগ আগে রাজধানী ঢাকা ও ময়মনসিংহে পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচিত হন কোহিনুর মিয়া। ২০০৪ সালের ৫ মে পৌরসভা নির্বাচনে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপক্ষের সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলা হলে কোহিনূর মিয়াকে আসামি করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কোহিনূর মিয়া খালাস পান।

এদিকে ২০০৬ সালের ১২ মার্চ আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে ধানমন্ডিতে শাহিন সুলতানা শান্তা নামের এক নারী পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় একটি ক্লিনিকে ঢুকে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাকে ও তার ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলেন এবং মারধর করেন।

এ ঘটনায় শান্তা তখনকার ডিএমপির ডিসির দায়িত্ব থাকা কোহিনূর মিয়া ও এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ওই মামলা তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেয়।

পরে সিআইডির প্রতিবেদনে আপত্তি দেন শান্তা। তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদন করেন। আদালত ২০০৯ সালে মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। ১২ বছর পর ২০২১ সালে এ মামলার অভিযোগপত্র জমা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয় ২০২৩ সালে। সম্প্রতি এ মামলায় তিনজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে তারা ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে আদালতে সাক্ষ্য দেন।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

২ ঘণ্টা আগে

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে মিরপুর এ এইচ মডেল স্কুলের শিক্ষকরা বলেন, এমন নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে আর কোনো শিশু যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়, সেজন্য অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়বে, যা শিশু

২ ঘণ্টা আগে

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাকে নৈতিক দায়িত্ব মনে করে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

২ ঘণ্টা আগে

জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন: স্বাস্থ্য সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

বিশ্বস্বাস্থ্য সম্মেলনের বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকির সামনের সারিতে থাকা বাংলাদেশের ওপর এর নেতিবাচক স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রোগের ধরন দ্রুত পাল্টাচ্ছে এবং দেশের বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি

৪ ঘণ্টা আগে