
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের নবযাত্রার প্রত্যাশায় শুরু হয়েছে এ সংসদের যাত্রা। তবে প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তপ্ত হয়েছে সংসদ। বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় শুরু হয় সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম। কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়ার পর প্রথমেই নির্বাচিত করা হয় অধিবেশনের সভাপতি।
সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বেই শুরু হয় নতুন সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি।
এ পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম সংসদের মতো জ্যেষ্ঠ একজন সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে শুরু হয় সংসদ অধিবেশন। সংসদ নেতা তারেক রহমান দলের সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফের নাম প্রস্তাব করলে সরকারি ও বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্য তাকে সমর্থন জানান। পরে খন্দকার মোশাররফই শুরু করেন অধিবেশনের কার্যক্রম।

সংসদের কার্যপ্রণালি অনুযায়ী শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন সংসদের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ। স্পিকার পদের জন্য ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব ছিল সংসদে।
দুই পদেই আর কোনো বিকল্প না থাকায় সংসদে কণ্ঠভোটে দুজনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। সংসদে নিজ কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পড়ান।
পরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অবর্তমানে সংসদের কার্যক্রম যারা পরিচালনা করবেন, সেই সভাপতিমণ্ডলী নির্বাচন করা হয়। বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মইন খান ও মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী এবং জামায়াতের এ টি এম আজহারুল ইসলামকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত করা হয়।
বিরতির পর দুপুর ১টার দিকে নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুরু হয় সংসদ অধিবেশন। এ সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বেশ কিছুক্ষণ সংসদের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে স্পিকার জোহরের নামাজের জন্য ২০ মিনিটের বিরতি দেন।
বিরতির পর স্বাগত বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, জনগণ সংসদের কার্যক্রম দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষ জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে বলে আমি আশা করছি।
এরপর সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আজকের এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের সংসদ। দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। আমাদের দায়িত্ব তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করা।
সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এ সময় বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আজকের সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ। আমরা আশা করি, স্পিকারের কাছে সরকারি ও বিরোধী দল আলাদা হবে না।

এরপর রীতি অনুযায়ী সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর শোক প্রস্তাব আনা হয় সংসদে। সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ গত সংসদ অধিবেশনের পর প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্যের প্রতিও শোকপ্রস্তাব আনা হয়।
এ সময় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে আরও কিছু নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাত জামায়াত নেতা, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গুলিতে নিহত শরিফ ওসমান হাদি, প্রয়াত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ, ভারত সীমান্তে নিহত ফেলানী। স্পিকার তাদের সবার নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান।
শোক প্রস্তাব নিয়ে এরপর সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেন। এ সময় সংসদ সদস্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন। তারা জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদেরও স্মরণ করেন এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজ সংসদে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। যত আসনেই নির্বাচন করেছেন, সব আসনেই খালেদা জিয়া জিতেছেন। আজ সেই গণতন্ত্রের মা আমাদের মাঝে নেই। তবে তিনি মানুষের মাঝে আছেন। গণতন্ত্রের অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি জীবিত থাকবেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের জন্য দোয়া করেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। জুলাই আন্দোলনে শিশু-কিশোরদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নাহিদ জুলাই শহিদ আনাসের তার মায়ের কাছে লেখা চিঠির একটি অংশ পাঠ করেন।
সংসদ অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংসদ না থাকায় রাষ্ট্রপতি এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির জারি করা এসব অধ্যাদেশ পরবর্তী সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উত্থাপন হতে হয় এবং উত্থাপনের পর ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদিত হতে হয়। তা না হলে অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায়। নতুন সংসদের ওপর এসব অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করছে।

এরপর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। এরপর সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি, সংসদ কমিটিসহ সংসদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোট পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম দেখতে অধিবেশন কক্ষের গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবার। ভিভিআিইপি লাউঞ্জের স্পিকারের ডান পাশের গ্যালারিতেই বসেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান, তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দবানু ও মেয়ে জাইমা রহমান। ছিলেন তারেক রহমানের প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী শামিলা রহমান সিঁথি।
প্রথম অধিবেশন সংসদের ভিভিআইপি গ্যালিরিতে ছিলেন সদ্যসাবেক অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনও ছিলেন সেখানে। ছিলেন সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
এ ছাড়া প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, জোবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান বিন্দুও ছিলেন সংসদ গ্যালারিতে। তারা বসেন দ্বিতীয় সারিতে।
বাম পাশের গ্যালারিতে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসেন্টসেন, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ বিভিন্ন দেশের দূতরা।
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ গোলাম নাফিজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রিকশা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া রিকশাচালক নুর মুহাম্মদকেও অন্যদের সঙ্গে দেখা গেছে দর্শক গ্যালারিতে।
নতুন সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনের শেষ কার্যক্রম ছিল রাষ্ট্রপতির ভাষণ। বিকেল সাড়ে ৩টার কিছু পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দিতে অনুরোধ জানান। এ সময় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে দেখা গেছে প্ল্যাকার্ড, যাতে লেখা ছিল ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’। স্পিকার বারবার আহ্বান জানালেও তারা শান্ত হননি।
স্পিকারের আহ্বানের পর রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। জাতীয় সংগীত চলাকালেও বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল করতে থাকেন। এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখেই বিকেল ৩টা ৩৯ মিনিটে সংসদ অধিবেশনে ভাষণ দিতে শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ‘স্বৈরাচারের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’সহ নানা স্লোগান দিচ্ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণের শুরুতেই বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে মহান সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরুর পরও মিনিট তিনেক হট্টগোল করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। একপর্যায়ে বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটের দিকে ওয়াকআউট করেন তারা।
প্রায় ৫০ মিনিটের মতো ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ তার ভাষণ শেষ হয়। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত অধিবেশনের কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করেন। বলেন, আগামী ১৫ মার্চ সকাল ১১টায় ফের অধিবেশন শুরু হবে। রীতি অনুযায়ী, অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন থেকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।

পরে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তাদের ওয়াকআউটের পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রপতি তিনটি কারণে অপরাধী। প্রথম কারণ, তিনি সব খুনের সহযোগী ছিলেন। দ্বিতীয়ত, তিনি তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। তৃতীয়ত, জুলাই সনদ নিয়ে রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশ অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা ছিল তার প্রথম দায়িত্ব, যা তিনি পালন করেননি। তাই তার বক্তব্য এই মহান সংসদে আমরা শুনতে পারি না।
পরে আরেক বিরোধী দলের নেতা ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও ওয়াকআউটের পর গণমাধ্যমে বলেন, গণঅভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের কোনো দোসর জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে পারবে না।
এদিকে বিরোধী দলের রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে ওয়াকআউটকে ‘স্ববিরোধী’ অভিহিত করে কঠোর সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তারা আলাপ-আলোচনা করেছে ৫ আগস্টের বিকেল বেলা, সিক্সথ অব আগস্ট এবং যে রাষ্ট্রপতির কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন, তাদের দুয়েকজন তো এই সংসদেরও সদস্য হয়ে আসছেন— তো সেটা তাদের জিজ্ঞেস করা যায়, এই স্ববিরোধিতা কেন?
বিরোধী দলের এমন অবস্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিধি মোতাবেক ওয়াকআউট করতে পারেন। তারা ওয়াকআউট করেছেন। এটা ব্যতিক্রম কোনো কিছু বা ঘটনা নয়। তারা আবার আসবেন, আগামী দিনে যে সংসদ বসবে, সেদিন আবার আসবেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের নবযাত্রার প্রত্যাশায় শুরু হয়েছে এ সংসদের যাত্রা। তবে প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তপ্ত হয়েছে সংসদ। বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় শুরু হয় সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম। কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়ার পর প্রথমেই নির্বাচিত করা হয় অধিবেশনের সভাপতি।
সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বেই শুরু হয় নতুন সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি।
এ পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম সংসদের মতো জ্যেষ্ঠ একজন সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে শুরু হয় সংসদ অধিবেশন। সংসদ নেতা তারেক রহমান দলের সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফের নাম প্রস্তাব করলে সরকারি ও বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্য তাকে সমর্থন জানান। পরে খন্দকার মোশাররফই শুরু করেন অধিবেশনের কার্যক্রম।

সংসদের কার্যপ্রণালি অনুযায়ী শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন সংসদের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ। স্পিকার পদের জন্য ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব ছিল সংসদে।
দুই পদেই আর কোনো বিকল্প না থাকায় সংসদে কণ্ঠভোটে দুজনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। সংসদে নিজ কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পড়ান।
পরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অবর্তমানে সংসদের কার্যক্রম যারা পরিচালনা করবেন, সেই সভাপতিমণ্ডলী নির্বাচন করা হয়। বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মইন খান ও মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী এবং জামায়াতের এ টি এম আজহারুল ইসলামকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত করা হয়।
বিরতির পর দুপুর ১টার দিকে নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুরু হয় সংসদ অধিবেশন। এ সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বেশ কিছুক্ষণ সংসদের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে স্পিকার জোহরের নামাজের জন্য ২০ মিনিটের বিরতি দেন।
বিরতির পর স্বাগত বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, জনগণ সংসদের কার্যক্রম দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষ জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে বলে আমি আশা করছি।
এরপর সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আজকের এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের সংসদ। দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। আমাদের দায়িত্ব তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করা।
সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এ সময় বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আজকের সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ। আমরা আশা করি, স্পিকারের কাছে সরকারি ও বিরোধী দল আলাদা হবে না।

এরপর রীতি অনুযায়ী সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর শোক প্রস্তাব আনা হয় সংসদে। সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ গত সংসদ অধিবেশনের পর প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্যের প্রতিও শোকপ্রস্তাব আনা হয়।
এ সময় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে আরও কিছু নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাত জামায়াত নেতা, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গুলিতে নিহত শরিফ ওসমান হাদি, প্রয়াত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ, ভারত সীমান্তে নিহত ফেলানী। স্পিকার তাদের সবার নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান।
শোক প্রস্তাব নিয়ে এরপর সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেন। এ সময় সংসদ সদস্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন। তারা জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদেরও স্মরণ করেন এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজ সংসদে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। যত আসনেই নির্বাচন করেছেন, সব আসনেই খালেদা জিয়া জিতেছেন। আজ সেই গণতন্ত্রের মা আমাদের মাঝে নেই। তবে তিনি মানুষের মাঝে আছেন। গণতন্ত্রের অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি জীবিত থাকবেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের জন্য দোয়া করেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। জুলাই আন্দোলনে শিশু-কিশোরদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নাহিদ জুলাই শহিদ আনাসের তার মায়ের কাছে লেখা চিঠির একটি অংশ পাঠ করেন।
সংসদ অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংসদ না থাকায় রাষ্ট্রপতি এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির জারি করা এসব অধ্যাদেশ পরবর্তী সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উত্থাপন হতে হয় এবং উত্থাপনের পর ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদিত হতে হয়। তা না হলে অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায়। নতুন সংসদের ওপর এসব অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করছে।

এরপর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। এরপর সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি, সংসদ কমিটিসহ সংসদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোট পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম দেখতে অধিবেশন কক্ষের গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবার। ভিভিআিইপি লাউঞ্জের স্পিকারের ডান পাশের গ্যালারিতেই বসেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান, তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দবানু ও মেয়ে জাইমা রহমান। ছিলেন তারেক রহমানের প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী শামিলা রহমান সিঁথি।
প্রথম অধিবেশন সংসদের ভিভিআইপি গ্যালিরিতে ছিলেন সদ্যসাবেক অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনও ছিলেন সেখানে। ছিলেন সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
এ ছাড়া প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, জোবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান বিন্দুও ছিলেন সংসদ গ্যালারিতে। তারা বসেন দ্বিতীয় সারিতে।
বাম পাশের গ্যালারিতে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসেন্টসেন, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ বিভিন্ন দেশের দূতরা।
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ গোলাম নাফিজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রিকশা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া রিকশাচালক নুর মুহাম্মদকেও অন্যদের সঙ্গে দেখা গেছে দর্শক গ্যালারিতে।
নতুন সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনের শেষ কার্যক্রম ছিল রাষ্ট্রপতির ভাষণ। বিকেল সাড়ে ৩টার কিছু পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দিতে অনুরোধ জানান। এ সময় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে দেখা গেছে প্ল্যাকার্ড, যাতে লেখা ছিল ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’। স্পিকার বারবার আহ্বান জানালেও তারা শান্ত হননি।
স্পিকারের আহ্বানের পর রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। জাতীয় সংগীত চলাকালেও বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল করতে থাকেন। এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখেই বিকেল ৩টা ৩৯ মিনিটে সংসদ অধিবেশনে ভাষণ দিতে শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ‘স্বৈরাচারের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’সহ নানা স্লোগান দিচ্ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণের শুরুতেই বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে মহান সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরুর পরও মিনিট তিনেক হট্টগোল করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। একপর্যায়ে বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটের দিকে ওয়াকআউট করেন তারা।
প্রায় ৫০ মিনিটের মতো ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ তার ভাষণ শেষ হয়। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত অধিবেশনের কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করেন। বলেন, আগামী ১৫ মার্চ সকাল ১১টায় ফের অধিবেশন শুরু হবে। রীতি অনুযায়ী, অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন থেকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।

পরে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তাদের ওয়াকআউটের পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রপতি তিনটি কারণে অপরাধী। প্রথম কারণ, তিনি সব খুনের সহযোগী ছিলেন। দ্বিতীয়ত, তিনি তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। তৃতীয়ত, জুলাই সনদ নিয়ে রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশ অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা ছিল তার প্রথম দায়িত্ব, যা তিনি পালন করেননি। তাই তার বক্তব্য এই মহান সংসদে আমরা শুনতে পারি না।
পরে আরেক বিরোধী দলের নেতা ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও ওয়াকআউটের পর গণমাধ্যমে বলেন, গণঅভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের কোনো দোসর জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে পারবে না।
এদিকে বিরোধী দলের রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে ওয়াকআউটকে ‘স্ববিরোধী’ অভিহিত করে কঠোর সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তারা আলাপ-আলোচনা করেছে ৫ আগস্টের বিকেল বেলা, সিক্সথ অব আগস্ট এবং যে রাষ্ট্রপতির কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন, তাদের দুয়েকজন তো এই সংসদেরও সদস্য হয়ে আসছেন— তো সেটা তাদের জিজ্ঞেস করা যায়, এই স্ববিরোধিতা কেন?
বিরোধী দলের এমন অবস্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিধি মোতাবেক ওয়াকআউট করতে পারেন। তারা ওয়াকআউট করেছেন। এটা ব্যতিক্রম কোনো কিছু বা ঘটনা নয়। তারা আবার আসবেন, আগামী দিনে যে সংসদ বসবে, সেদিন আবার আসবেন।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে যাত্রী, পরিবহন মালিক ও চালকদের জন্য বেশ কিছু নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব পরামর্শ জানানো হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাতজনের নাম গৃহীত হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জন জামায়াতে ইসলামীর নেতা এবং একজন বিএনপির নেতা।
৫ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে বিরোধী দলের আপত্তির মুখে শোক প্রস্তাবে নামের তালিকা বাড়িয়েছে সংসদ।
৯ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল এবং
৯ ঘণ্টা আগে