
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ভালোবেসে থাকলে, হাদির হত্যার বিচার চাইলে, শাহবাগকে ফ্যাসিবাদমুক্ত, ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত করতে চাইলে আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তার বড় ভাই ওমর বিন হাদি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইয়ের বীর যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির শাহাদত উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জামায়াতের আমির ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ অন্য নেতারা।
দোয়া অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি।
তিনি বলেন, প্রিয় বিপ্লবী জনতা, আমি এখানে ওসমান হাদির ভাই হিসেবে আসিনি, আমি হাদির একজন সহযোদ্ধা ছিলাম। হাদি যখন গুলিবিদ্ধ হয়েছে, একই রিকশার বাম পাশে আমি বসা ছিলাম। হাদি ডান পাশ থেকে সন্ত্রাসীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
হাদির বড় ভাই বলেন, কান্না করার জন্য আমরা রাজপথে নামিনি। শহীদ ওসমান বিন হাদি যখন জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন তখন তার স্ত্রী-সন্তান ছিল। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত যখন বাসায় ফিরতে পারেননি, আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বারবার বলা হতো– পরিবারের কথা চিন্তা করতে হবে, নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হবে। তার একটাই জবাব ছিল– আমাকে আমার আল্লাহই রক্ষা করবেন। আমি যদি চলে যাই এ দেশের ১৮ কোটি জনতা আমার পরিবারকে দেখে রাখবে। এর চেয়ে বড় নিরাপত্তা আর কেউ দিতে পারবে না। হাদি বলেছিল, ‘যদি আমি আমার রবের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাই আপনি শহীদের ভাই হবেন। আমার মাকে বলেছিল আমি যদি মা চলে যাই আপনি শহীদের মা হবেন এর চেয়ে আর গর্বের কিছু নাই।’
ওমর বিন হাদি বলেন, কিন্তু আমি শহীদের ভাই হতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম রাজপথে বিপ্লবী ওসমানের পাশে থেকে এই বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদমুক্ত করতে। আমি চেয়েছিলাম ইনসাফের বাংলাদেশ যতদিন পর্যন্ত গঠন না হবে, আমরা রাজপথ ছাড়ব না। কিন্তু আজ ওসমান চলে গেছেন। আল্লাহ ওকে তার সর্বোচ্চ পুরস্কার দিয়ে নিয়ে গেছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সে গুলিবিদ্ধ হয়ে পরবর্তী শুক্রবার রাতে ইন্তেকাল করেছেন সিঙ্গাপুরে।
তিনি বলেন, আমাদের পরিবার, ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-ব্রাদাররা, আমরা ঘটনার আকস্মিকতায় দুমড়েমুচড়ে গেছি। আমরা এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারিনি। জানি না আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব কি না। আমাদের শহীদ পরিবার, ইনকিলাব মঞ্চ, ওসমান গণির লাখো লাখো ভালোবাসার জনগণ, বিপ্লবী ছাত্র-জনতা সবার কাছে আমার একটাই দাবি– ওসমান হাদি যে বিপ্লব, যে বিপ্লবী আন্দোলন করেছিলেন, সে যে আন্দোলনের জন্য শহীদ হয়েছেন পরবর্তীতে তার অসমাপ্ত বিপ্লবকে আপনারাই সমাপ্ত করবেন ইনশাআল্লাহ।
হাদির বড় ভাই বলেন, আমরা ওসমান হাদির পক্ষ থেকে কোনো পারিবারিক আর্থিক সহযোগিতা চাই না, কোনো অনুদান চাই না, শুধু একটাই চাওয়া– ওসমান হাদির অসমাপ্ত বিপ্লবকে আপনারা সমাপ্ত করবেন। আপনারা যদি রাজি থাকেন, আমার সাথে ওয়াদা করেন ইনসাফের বাংলাদেশ গঠন না হওয়া পর্যন্ত আপনারা শান্ত হবেন না।
ওসমান হাদির শাহবাগী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওমর বিন হাদি বলেন, ওসমান হাদি শাহবাগে দাঁড়িয়ে বলতেন, এই শাহবাগ হাজার বছরের মুসলমানদের কাছ থেকে এই বঙ্গভূমির স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে, এই শাহবাগে ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে, আমি এই শাহবাগ থেকে ফ্যাসিবাদকে রুখে দেব। এই শাহবাগে বসেই আমি নারায়ে তাকবির স্লোগান দেব।
‘যদি আপনারা হাদিকে ভালোবাসেন, হাদির হত্যার বিচার চান, ওই শাহবাগকে ফ্যাসিবাদমুক্ত, ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত করতে চান তাহলে আপনাদেরকে আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, আপনারা হাদির সন্তানের জন্য দোয়া করবেন, ওর স্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন। হাদির ছোট বোনের জন্যও দোয়া করবেন। আমার বাবার মৃত্যুর পর আমরা দুই ভাই অসহায় ছিলাম। আমার ছোট বোন আমাদেরকে বড় করেছেন। তার বেতনের টাকা দিয়ে আমাদেরকে পড়াশোনা করিয়েছেন। ও খুব বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে, মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে গেছে। হাদি... খাস করে ওর জন্য আপনারা দোয়া করবেন।

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ভালোবেসে থাকলে, হাদির হত্যার বিচার চাইলে, শাহবাগকে ফ্যাসিবাদমুক্ত, ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত করতে চাইলে আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তার বড় ভাই ওমর বিন হাদি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইয়ের বীর যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির শাহাদত উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জামায়াতের আমির ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ অন্য নেতারা।
দোয়া অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি।
তিনি বলেন, প্রিয় বিপ্লবী জনতা, আমি এখানে ওসমান হাদির ভাই হিসেবে আসিনি, আমি হাদির একজন সহযোদ্ধা ছিলাম। হাদি যখন গুলিবিদ্ধ হয়েছে, একই রিকশার বাম পাশে আমি বসা ছিলাম। হাদি ডান পাশ থেকে সন্ত্রাসীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
হাদির বড় ভাই বলেন, কান্না করার জন্য আমরা রাজপথে নামিনি। শহীদ ওসমান বিন হাদি যখন জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন তখন তার স্ত্রী-সন্তান ছিল। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত যখন বাসায় ফিরতে পারেননি, আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বারবার বলা হতো– পরিবারের কথা চিন্তা করতে হবে, নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হবে। তার একটাই জবাব ছিল– আমাকে আমার আল্লাহই রক্ষা করবেন। আমি যদি চলে যাই এ দেশের ১৮ কোটি জনতা আমার পরিবারকে দেখে রাখবে। এর চেয়ে বড় নিরাপত্তা আর কেউ দিতে পারবে না। হাদি বলেছিল, ‘যদি আমি আমার রবের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাই আপনি শহীদের ভাই হবেন। আমার মাকে বলেছিল আমি যদি মা চলে যাই আপনি শহীদের মা হবেন এর চেয়ে আর গর্বের কিছু নাই।’
ওমর বিন হাদি বলেন, কিন্তু আমি শহীদের ভাই হতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম রাজপথে বিপ্লবী ওসমানের পাশে থেকে এই বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদমুক্ত করতে। আমি চেয়েছিলাম ইনসাফের বাংলাদেশ যতদিন পর্যন্ত গঠন না হবে, আমরা রাজপথ ছাড়ব না। কিন্তু আজ ওসমান চলে গেছেন। আল্লাহ ওকে তার সর্বোচ্চ পুরস্কার দিয়ে নিয়ে গেছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সে গুলিবিদ্ধ হয়ে পরবর্তী শুক্রবার রাতে ইন্তেকাল করেছেন সিঙ্গাপুরে।
তিনি বলেন, আমাদের পরিবার, ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-ব্রাদাররা, আমরা ঘটনার আকস্মিকতায় দুমড়েমুচড়ে গেছি। আমরা এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারিনি। জানি না আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব কি না। আমাদের শহীদ পরিবার, ইনকিলাব মঞ্চ, ওসমান গণির লাখো লাখো ভালোবাসার জনগণ, বিপ্লবী ছাত্র-জনতা সবার কাছে আমার একটাই দাবি– ওসমান হাদি যে বিপ্লব, যে বিপ্লবী আন্দোলন করেছিলেন, সে যে আন্দোলনের জন্য শহীদ হয়েছেন পরবর্তীতে তার অসমাপ্ত বিপ্লবকে আপনারাই সমাপ্ত করবেন ইনশাআল্লাহ।
হাদির বড় ভাই বলেন, আমরা ওসমান হাদির পক্ষ থেকে কোনো পারিবারিক আর্থিক সহযোগিতা চাই না, কোনো অনুদান চাই না, শুধু একটাই চাওয়া– ওসমান হাদির অসমাপ্ত বিপ্লবকে আপনারা সমাপ্ত করবেন। আপনারা যদি রাজি থাকেন, আমার সাথে ওয়াদা করেন ইনসাফের বাংলাদেশ গঠন না হওয়া পর্যন্ত আপনারা শান্ত হবেন না।
ওসমান হাদির শাহবাগী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওমর বিন হাদি বলেন, ওসমান হাদি শাহবাগে দাঁড়িয়ে বলতেন, এই শাহবাগ হাজার বছরের মুসলমানদের কাছ থেকে এই বঙ্গভূমির স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে, এই শাহবাগে ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে, আমি এই শাহবাগ থেকে ফ্যাসিবাদকে রুখে দেব। এই শাহবাগে বসেই আমি নারায়ে তাকবির স্লোগান দেব।
‘যদি আপনারা হাদিকে ভালোবাসেন, হাদির হত্যার বিচার চান, ওই শাহবাগকে ফ্যাসিবাদমুক্ত, ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত করতে চান তাহলে আপনাদেরকে আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, আপনারা হাদির সন্তানের জন্য দোয়া করবেন, ওর স্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন। হাদির ছোট বোনের জন্যও দোয়া করবেন। আমার বাবার মৃত্যুর পর আমরা দুই ভাই অসহায় ছিলাম। আমার ছোট বোন আমাদেরকে বড় করেছেন। তার বেতনের টাকা দিয়ে আমাদেরকে পড়াশোনা করিয়েছেন। ও খুব বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে, মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে গেছে। হাদি... খাস করে ওর জন্য আপনারা দোয়া করবেন।

চলতি বছরের ডিসেম্বরেই ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
৪ ঘণ্টা আগে
কলেজছাত্র রিজওয়ান রশীদের বানানো গো-কার্ট (রেসিং কার) চালিয়ে তাকে উৎসাহ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৫ ঘণ্টা আগে
সারা দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ২৮৭ শিশু।
৫ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
৭ ঘণ্টা আগে